Home / Breaking News / আশ্রয়হীন ভাগ্যাহত মুক্তিযোদ্ধা দম্পত্তির সরকারের কাছে আকুল দাবি একটি ঘর।

আশ্রয়হীন ভাগ্যাহত মুক্তিযোদ্ধা দম্পত্তির সরকারের কাছে আকুল দাবি একটি ঘর।

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনতে পারলেও পারেননি মুক্তিযুদ্ধা তালিকায় নাম উঠাতে বর্তমান ৮৬ বছর বয়সী বৃদ্ধ আবু তাহের।
৮ বার নদীভাঙার কবলে পড়ে সর্বস্ব হাড়িয়ে এখন সর্বশান্ত তিনি। অন্যের দেওয়া বাড়ির কোণে একচালা একটি ঝুপড়ি ঘর উঠিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন স্বামী-স্ত্রীর এ দম্পতি।
আয় করার মতো একটি ছেলে ছিল তাও বউয়ের কথায় ঘর জামাই! ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে পড়া এই বৃদ্ধ কখনো বাজারে আমড়া বিক্রি,কখনো রিকশার প্যাডেল ঘুড়িয়ে কোনমতে সংসার চালিয়ে আসছে।
জীবন সায়াহ্নে এসে এখন রোগাক্রান্ত হয়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে পরা তাহেরের দু’চোখের আলো ও প্রায়টা নিভুনিভু।

জানা গেছে বাড়ির মালিক মানবিক বিবেচনায় বৃদ্ধ আবু তাহেরকে পিতার সম্মানে দেখেন। কখনো কখনো চুলোতে হাঁড়ি ওঠার ব্যবস্থাও করে দেন। এভাবেই অনাহার আর অর্ধাহারে দিন কাটছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ভাগ্যাহত মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের দম্পত্তির।

কথা হয় অভাগা আবু তাহেরের সাথে, বলেন যুদ্ধকালীন সময়ে ৩৬ বছরের টগবগে যুবক ছিলেন। ঘরে স্ত্রীকে রেখে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর বালুরমাঠ যুবশিবিরে চলে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে ভোলার খরকি এলাকায় পাকিস্তানি পাক সৈন্যদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। যুদ্ধকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে একাধিকবার কথা বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর হাত থেকে নিয়ে বিস্কুট খেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর গায়ের স্পর্শ পেয়েছেন অনেকবার। কমান্ডার চাচাতো ভাই ছেরাজলের নেতৃত্বে মা-বোনদের সম্ভ্রম লুটে নেওয়া কয়েকজন রাজাকারকে নিজ হাতে কতল করেছেন।
অথচ স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি তিনি।

নিজের কষ্টের কথা বলেতে গিয়ে ৮৬ বছর বয়সী আবু তাহের দৈনিক ভোরের কাগজকে বলেন, ৭১-এ যুদ্ধ করেছি কিসের জন্য? আমলা বিক্রি করার জন্য? রিকশা-ভ্যান ঠেলা চালানের জন্য? আমার এ বয়স কি আমলা বিক্রি করার বয়স?

আবু তাহের আরো বলেন, আমার বয়স ৮৬ বছর আর কতো বয়স হলে সরকার আমাকে একটা বয়স্কভাতার কার্ড করে দিবে! একটা ভিজিডি কার্ড এমনকি ১০ টাকা মূল্যের চাউলের কার্ড পর্যন্ত আমার ভাগ্যে জুটলো না। এজন্যই কি এতো কষ্ট করে দেশ স্বাধীন করলাম! এটাই কি প্রতিদান? তিনি বলেন শুনেছি সরকার অসহায়দের জন্য ঘর দিতেছেন,আমি সরকারের কাছে একটা ঘর চাই।
স্ত্রী অজিফা খাতুন বলেন,দু’মুঠো ভাতের জন্য বুড়ো মানুষটা এ বয়সে যখন রিকশা চালাতে দেখি তখন ভাবি জন্মই আমাদের আজন্ম পাপ। না হলে শেষ বয়সে এসে এমন হওয়ার তো কথা ছিলনা। এমনটা যখন বলছিলেন দু-চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে দেখা গেছে তার!

ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার সাইফুল্লাহ বলেন,আবু তাহেরের বিষয়টি সত্যিই দু:খজনক। আমার কাছে এসে কেউ খালি হাতে ফেরে না। আমি তার নামে ভাতা করে দেওয়ার ব্যাবস্থা করবো।
আর এখন সরকারিভাবে ভূমিহীনদের গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কাছে তার ব্যাপারে শুপারিশ করবো।

কমলনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সফিক উদ্দীন বলেন, আবু তাহের একজন মুক্তিযোদ্ধা। সে ট্রেনিং ও যুদ্ধ করেছে। অথচ তার তালিকাভুক্ত হতে না পারাটা খুবই কষ্টদায়ক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, বৃদ্ধ দম্পত্তির অসহায়ত্বের বিষয়ে খোজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com