Breaking News
Home / Breaking News / দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

“জীবন মানে”
জব্বর হোসেন
———————-
———————-

জীবন মানে যুদ্ধ অনেক
জীবন মানে যন্ত্রণা,
জীবন মানে এগিয়ে যাওয়া
জীবন মানে আনমনা!

জীবন মানে শৈশবে পা
জীবন মানে হাঁটতে শেখা,
জীবন মানে আকাশ ছোঁয়া
জীবন মানে সব দেখা!

জীবন মানে সরল সুপথ
জীবন মানে কষ্টকর,
জীবন মানে খানাখন্দ
জীবন মানে আপন পর!

জীবন মানে সমব্যাথী
জীবন মানে সুরঞ্জনা,
জীবন মানে প্রেমের কাব্য
জীবন মানে বাসনা!

জীবন মানে শব্দ হরফ
জীবন মানে বর্বরতা,
জীবন মানে শোষণ ওপেন
জীবন মানে সব কবিতা!

জীবন মানে যুদ্ধ খেলা
মরণ ফাঁদের কবরস্থান,
জীবন মানে স্বৈরাচারী
ইচ্ছে করেই নিচ্ছে প্রাণ!

জীবন মানে এলোমেলো
জীবন মানে ধর্মখোর,
জীবন মানে হিংস্র দানব
জীবন মানে গায়ের জোর!

জীবন মানে লালনগীতি
জীবন মানে কবিগুরু,
জীবন মানে বাসন্তী রঙ
জীবন মানে শেষের শুরু!

জীবন মানে গুপ্তকথা
জীবন মানে বলাকা,
জীবন মানে সময় মৃত্যু
জীবন মানে কর্ষিকা!

জীবন মানে রঙিন বোতল
জীবন মানে মধ্যরাত,
জীবন মানে নারী সঙ্গ
জীবন মানে ধারাপাত!

০৩ রাত মার্চ বৃহস্পতিবার ২০২২

——————————————-

শশীকলা
রাণু সরকার
_________
বলেছিলে আমি শশীকলা,
শিল্পের সমুন্নতি হচ্ছে,
শুভ্র-সরল-অপরূপা সাগরে পড়েছে তোমার ছায়া,
তুমি তাকিয়ে আছো দেখে মনে লাগে ব্যথা।

আমি কিন্তু তোমার নই, তুমিও নও আমার,
কেনো জাগে তবে মনে আবেশজনিত মৃদু শিহরণ?

দু’জন দু’জনের দিকে থাকি তাকিয়ে,
দু’জনেরই চোখে নিষ্ফল রোদন!

আমি কি পারি আসতে, না তুমি!


——————————————-
একজন প্রবীণের দিনলিপি
মোঃ আবু বকর সিদ্দীক
( সিদ্দীক সাধু)
০৩. ০৩. ২০২২.

একজন সম্ভ্রান্ত প্রবীণ ব্যক্তি, এলাকায় খুব নাম ডাক। নাম কুদ্দুস সাহেব। বয়স ৭০ উর্ধ্ব।মুন্সিগঞ্জ জেলায় ছাত্র আবস্থা থেকেই বিভিন্ন সামাজিক কাজ তিনি অংশ গ্রহণ করেন। কলেজে পড়ার সময় হতেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পরেন। পার্টির কাজে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ান। জ্বালাময়ী ভাষায় বক্তৃতা দেন।মানুষজনকে সংগঠিত করেন। রাজনীতি করার সুবাদে বড় বড় নেতাদের সাথে পরিচয় হয়। মাঝে মাঝে ঝামেলা হয়। পুলিশ খোঁজে। আড়িয়াল বিলের নিভৃত পল্লীতে আত্মগোপন করেন।

পরিস্থিতি ঠান্ডা হলে আবার তাঁকে সভা সমিতি দেখা যায় । তখন সড়ক পথের উন্নতি হয় নি। নৌকায় ঢাকায় আসা যাওয়া করতে হয়েছে। নৌকার মাঝি, দোকানদার, কৃষক, চা-বিক্রেতা, ক্লাব সমিতির সদস্য, সুধী সমাজ সবার তাঁর বন্ধুত্ব। তিনি একজন সাদা মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক মতপার্থক্যে বা ভিন্ন দল করার কারণে তার সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কারও ক্ষুন্ন হয় নি। তিনি সবার বাসায় নিমন্ত্রণ খেয়েছেন এবং নিজের বাসায় তাঁদের দাওয়াত খাইয়েছেন।

পদ্ম সেতুর কল্যণে আজ আর এলাকা চেনা যায় না। কুদ্দুস সাহেব স্কুলে শিক্ষকতা পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। কিন্তু তার রাজনীতি, সামাজিক কাজ থেমে থাকে না। এ সময় পরিচয় হয় রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট রেজিনা বেগম এর সাথে। পরিচয় থেকে প্রেম। প্রেম থেকে বিয়ে। দু সন্তানের জনক।

ছেলে দুজনই বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে। মোটা বেতন পায়। স্ত্রী রেজিনা বেগম এখনো রাজনীতির সাথে জড়িত। ছেলেদের বেতন বেশী। দায়িত্বও বেশী। ঘড়ির কাটায় কাটায় অফিসে যেতে হয়। নিয়ম মাফিক যন্ত্রের মত কাজ করতে হয়। কোন ফুসরত নেই।

দিনের বেলায় বাসায় কুদ্দুস সাহেব ছাড়া কোন লোক থাকে না। রাতেও সবাই কাজ থেকে ক্লান্ত হয়ে যে যার ঘরে ডুকে যায়। রেজিনা বেগমও স্বামীর প্রতি নিস্প্রভ হয়ে যান। আজকাল মেজাজ মর্জি খিটখিটে হয়ে গেছে। অহেতুক বিষয় নিয়ে তোলপার করেন। স্বামীর সাথে বড় বেশী মিশেন না। পৃথক ঘরে ঘুমান।রুটিন মাফিক দুপুরের দিকে গৃহসাথী আসে। ঘর দোর পরিস্কার করে রাতের জন্য খাবার রান্না করে দিয়ে চলে যায়।কুদ্দুস সাহেব সকালের দিকে লাঠি ভর দিয়ে পার্কে যান। প্রবীণ বন্ধুদের সাথে কথা বলেন। অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। মাঝে মাঝে তাদেরকে দাওয়াত দিয়ে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। খোলা আকাশের নীচে ঘুরে বেড়ান। আড়িয়াল বিলে আবাদ হওয়া বিশাল বিশাল মিষ্টি কুমড়া দেখান। তাঁদেরকে অতীত স্মৃতির কথা শুনান। রাস্তায় হাটার সময় প্রচুর লোক সালাম দেয়। তরুণ প্রজন্ম রাস্তার ছেড়ে দেয়। তিনি সবার খোঁজখবর নেন। কেউ কেউ তার পুরানো বন্ধুর মৃত্যু সংবাদ দিলে দাড়িয়ে পরেন। রুমালে চোখ মুছেন। কোন কোন সময় তার কবর জিয়ারত করে আসেন।

কুদ্দুস সাহেবের এখন বয়স বেড়ে গেছে। পার্ক পর্যন্ত যেতে পারেন না। হাপিয়ে উঠেন। রাস্তায়ও ভালো ভাবে চলতে পারেন না। মাঝে মাঝে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ডাইনিং টেবিলে গৃ্হসাথী ভাত, তরকারী ঢেকে রেখে যায়। কিন্তু তিনি বেমালুম খাওয়ার কথা ভুলে যান। রাতে স্ত্রী ছেলেরা ফিরে আসে। টেবিলে খাওয়া দেখে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন, হ্যাঁ আমি তো খেয়েছি।

সবাই কাজে গেলে কতক্ষণ রোদে বসে থাকেন। বিছানায় বসে পুরানো বই পুস্তক,চিঠি পত্র গুলো খুলে পড়েন। এ পর্যন্ত কতবার পড়েছেন তার ইয়াত্তা নেই। ঘরে স্ত্রী, প্রতি ছেলের জন্য আলাদা আলাদা এলবাম।সে কালের বড় বড় রাজনৈতিক
নেতাদের ছবি। কোন কোন নেতার সাথে তার যুগল ছবি বার বার দেখেন। হাত বুলান। বিড় বিড় করে একাই তাদের সাথে কথা বলেন। নোট বুকে প্রায় আট/ দশ হাজার মানুষের নাম ও টেলিফোন নম্বর। পুরানো আমলের টেলিফোন, এনালগ যুগের টেলিফোন এবং ডিজিটাল যুগের টেলিফোন নম্বরে ঠাসা।

তিনি বন্ধুদের তালিকা করে কম্পিউটারে কম্পোজ করে, বাইরে থেকে প্রিন্ট করে আনেন। বসে বসে কাঁচি দিয়ে সুন্দর করে কেটে পৃথক পৃথক করে খামে পুরে রাখেন।খামের আবার শ্রেণী বিন্যাস রয়েছে। পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের খাম, বন্ধুদের খাম, নেতাদের খাম। আর এক জায়গায় মূদ্রন করে রাখা হয়েছে ব্যক্তি নাম, কে, শুভেচ্ছান্তে, আর এক খামে রাখা হয়েছে নিজের নাম, পিতার নাম ও টেলিফোন নম্বর। কাকেও কোন উপহার দিলে কাটা মুদ্রিত কাগজ ক্ষেত্র মত গাম দিয়ে লাগিয়ে প্রদান করেন। এজন্য সুপার গ্লুসহ বিভিন্ন ধরণের আঠার টিউব রেখেছেন। তিনি দ্রুত কাজ করার জন্য এ ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
টেলিফোন করে বন্ধুদের কুশল জিজ্ঞাসা করেন। বাসায় আসার আমন্ত্রন জানান। সবাই বলে আসবেন। কেউ আসেন না। মন খারাপ করে বসে থাকেন।

বিছানার পাশেই রয়েছে ছোট অনেক ছোট পচনশীল কাপড়ের শপিং ব্যাগ। কোনোটায় রাখা হয়েছে ছেলের তিন বছর বয়স কালীন স্যান্ডেল, কোনটায় ঘুংঘুর, ছোট বেলায় ছেলেদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয় পদক।প্রতিদিন এগুলো বিছানায় নামিয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছেন, দুহাত দিয়ে ধরে বুকে চেপে রাখেন, ঘ্রাণ নেন। প্রতিদিনই একই কাজ করেন। ছেলেরা সবাই বেঁচে আছে। বহাল তবিয়তেই আছে। তবু বৃদ্ধ পিতার দুগাল ভেসে অশ্রু ঝরে। কি জন্য ঝরে তার কারণ জানা নেই, কিন্তু কুদ্দুস সাহেবের সমবয়সী মুরব্বীগণ হয়তো এর উত্তর দিতে পারবেন!!

——————————————–

বাংলা লতিফা
আফসোস
প্রণব চৌধুরী
তারিখ-০৩,০৩,২০২২,

আফসোসের হয় অবকাশ অপ্রিয়জনের অকর্মে ৷
তোমার তুমিত্বকে জানি প্রিয়জন তমলিকা মোর তপোবনে ৷
মনের মন মন্দিরে যদি তুমি মোকে না মানো মনের মালিক মনে করে ৷
তাহলে কেনো তমলিকা তুমি তোমায় করেছিলে তপর্ণ তমাল তরু তলে ? |
বর্হিঅঙ্গে বয় তব প্রেম বর্ষনের বর্ষন এই ভরা বাদল মাসে ৷
অন্তর কেনো তবে হয়না আন্তরিক অন্তরে কোনো আবহ তব তমশে ? I

——————————————–

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com