Breaking News
Home / Breaking News / দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

মিথ্যে সন্দেহ(দুটি অণু গল্প)
দোলা ভট্টাচার্য
16.2.2022

গল্প —1
ডিনারে শুধু রুটি, সব্জি দেখে ব্যাজার মুখে স্ত্রীকে বললেন সুব্রত , ” লাল্টু অত মিষ্টি আনল, তার একটা আমায় দাও” । স্মৃতি বললেন,” সুগারটা বেশি আছে তোমার। মিষ্টি তো চলবে না।”
“তাহলে অত মিষ্টি তুমি একা খাবে? বাড়িতে মিষ্টি এলেই সব একাই খাচ্ছো। এটা তোমারও উচিৎ নয় । তোমারও সুগার হতে পারে।” স্মৃতি নির্বাক।
পরদিন মিষ্টি খুঁজতে গিয়ে পুঁটির হাতে ধরা পড়লেন সুব্রত।” কি খুঁজছো কর্তাবাবু “?
” একটা মিষ্টির বাক্স ছিল, বুঝলি “।
সেটাতো গিন্নীমা আমাকে দিয়ে দিয়েছেন কালই। তোমার মিষ্টি খাওয়া বারণ। গিন্নীমাও তাই মিষ্টি খায় না। বাড়িতে মিষ্টি এলেই দিয়ে দেয় আমাকে “।
স্মৃতিকে সন্দেহ করে সুব্রত এখন অনুতপ্ত ।

গল্প —:2

শ্যামলকে একটা অন্যমেয়ের সাথে শপিংমলে শাড়ি কিনতে দেখে আপসেট হয়ে পড়ে শর্মি। কানাঘুষোটা শুনেছিল আগেই । আজ চোখেও পড়ে গেল।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে শর্মির হাতে একটা প্যাকেট দিয়ে শ্যামল বলে, “দেখোতো পছন্দ হয় কিনা”।
প্যাকেট খুলে শর্মি অবাক। আরে! এ তো সেই শাড়িটা! ”
” হ্যাপি বার্থডে শর্মি”, উচ্ছ্বসিত শ্যামল বলে । কিন্তু আর একটা গলা কার! দরজার দিকে ফিরে তাকাতেই চমক। এ যে সেই মহিলা! শ্যামল পরিচয় করিয়ে দেয়, আমার পিসির মেয়ে, আজন্ম আমেরিকাবাসী। কিছুদিন হলো ভারতে এসেছে। চমকে ওঠে শর্মি,” লারা “!
” হ্যাঁ শর্মি ।তোমাকে তো বলেছি ওর কথা। লজ্জায় অধোবদন শর্মি। কি না কি ভেবেছিল ও শ্যামলের সম্পর্কে।

——————————————-
ক্যালিগ্রাফি
দালান জাহান

সানি লিওনের মতো পুরনো শব্দগুলো
চুইয়ে চুইয়ে পড়ে দখিনের বনে
উজাড় রাত্রি মাথাভাঙা শিশমহলে
বসে বসে চশমা ভাঙে কার্তিকের কাক।

বোতল ভর্তি সমুদ্র নীল
ভাস্কর্য খোদাই করে চুম্বক ভরা রাত
বেয়াদব হাতগুলো চুমো খায় ক্ষুধার্ত গলি।

জন্মগতভাবে রমণীয় নদী
নরমহাতে ভেঙে পড়ে অসভ্য কাশফুলেরা
ভালোবাসা নিয়ে ঘুমিয়ে থাকে
এন্ডু কার্নেগির অভিজ্ঞতার পার্ক
আমরা প্রতিদিন শিখি জীবনবিদ্যা
আনন্দজাত ক্যালিগ্রাফি ।

দালান জাহান
২০.০১.২১

——————————————-
তাই দেখি তাই

গিয়েছিলাম তো সেদিন আমার কুসুমলতার কাছে ৷ তবে তাঁর পছন্দের শাড়িটি নিয়ে যেতে পারিনি —সাদা খোলে সরু পাড় ছাপা শাড়ি ৷ এ শতকের দুর্দান্ত ও দামী বুটিকের মেলায় এমন সাধারণ সাতসস্তা শাড়ি খুঁজে পেলাম না ৷ অবশ্য খুঁজেওছিলাম যাওয়ার মাত্তর দুদিন আগে ৷ তাঁর উপহার আরো যত্ন করে সময় নিয়ে খুঁজতে হবে এমনটা হয়ত মনে আসেনি আমার ৷ আমার কুসুম যে এমনই — সংসার কুসুমের সেবা লুটেপুটে খায় ৷ কুসুম সেবা করে সুখী থাকেন ৷ ক্ষুধায় ভুগেও পূর্ণ তৃপ্ত সে মানবী ৷

একটা ছেলে ছিল কুসুমের ৷ মরে গেছে ৷ কুসুম ভাসুরঝিদের ডাকেন —ও বড়মেয়ে –ও আমার ছোটমেয়ে ৷ বড়মেয়ে বলে —আমার বাড়ি থাকুন জেঠিমা ৷ তিনলাখ খরচ করে কুসুম মেয়ের বাড়ি সাজান ৷ শেষ করে ফেলেন সব অর্থ ৷ আহল্লাদে ফেটে পড়ে মেয়ে —ও জেঠিমা বাড়ি ভেঙে প্রমোটার ফ্ল্যাট বানাবে যে এবার ৷ মেঝে দেয়াল ঝকঝক করবে সব ৷ আপনি কোথায় থাকবেন বলুন ৷ জিনিসপত্তরসমেত নামিয়ে দিয়ে আসবক্ষণ ৷ কোনো অসুবিধে হবে না ৷

কুসুম নিঃশব্দে উঠে আসেন তাঁর স্বামীর গড়ে তোলা সেবাকেন্দ্রে ৷ নামিয়ে দিয়ে আত্মজন চলে যায় — কুসুম তখনো জিনিস নিয়ে চত্বরে বসে ৷ খানিক পরে সেবাকেন্দ্রে একটি কুটুরি মেলে ৷ তার খানিক পর থেকে ভালোবাসতে শুরু করেন কোটরের চারপাশের মানুষদের ৷ বিশেষ করে সেবাকেন্দ্রের মুসলমান পরিবারের ছেলেগুলোকে নানারকম খাবার বানিয়ে খাওয়ান ৷ কাউকে কাউকে নিয়মিত ৷ তাদের ফেলে যাওয়া পাত নিজের হাতে পরিস্কার করেন ৷

এ পর্যন্ত শুনে আর থাকতে পারিনি ৷ বললাম — হাঁটতে পারেন না ভালো করে ৷ এত করেন কেন ? উত্তর এল নিরুত্তরে —দ্যাখো আমার মানুষকে রেঁধে খাওয়াতে খুব ভালো লাগে ৷ বিশেষ করে ওই যে রেহানকে দেখছ —ও আমার রান্না খুব তৃপ্তি করে খায় ৷ তবে আমার কাছে পড়তে বসে ৷ নাহলে নয় ৷ বাহ রে ! বেজাতের শিশুর থালা মাজার ভালো যুক্তি তো আপনার কুসুম !

কুসুম অবশ্য গর্ব ভরে বললেন —” আমি কিন্তু জাত মানি | ওদের ঘরে যে খাব না তা ওরা ভালো জানে ৷” জাত মানেন অথচ মুসলমান বধূদের সেলাই শেখান | সন্ধেবেলা বউয়ের রান্না খেয়ে মুসলমান বর নাক কুঁচকে বলে —-” কুসুম মার থেকে রান্নাটা শিখে নিতে পারনি ৷ ” আপনি জাত মানেন অথচ আপনার পাতানো মেয়ে মৌসুমীদিকে কড়া নির্দেশ দেন –রেহান আর তার বন্ধুদের জন্য চকলেট আনতে | ওহ ! পাতানো শব্দে পাপ লেগে আছে | তাই তো কুসুম ? মৌসুমীদি তো আপনার সত্য মেয়ে তাই না ? মৌসুমীদি আপনার জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন দুজোড়া জুতো | আপনাকে পায়ে নতুন জুতো পরাচ্ছিলেন —আপনি তখনো ভ্রূক্ষেপ না করে বলছিলেন –রেহানের চকলেট ?

কী ভেবেছিলেন আপনার জাত মানার মিছে কথা বিশ্বাস করব ৷ ভালোবাসাটা দেখব না ? চৌকাঠ দেখব অথচ টপকাতে পারব না ৷ আমি পেরেছি কুসুম।আপনাকে আমরা সেদিন সবাই চিনতে পেরেছি ৷

আমাদের সবার মনে আছে আপনার প্রতিটি কথা– সবার ৷ আহা আমায় থামাবেন না ৷ আমি তো আপনার মত নীরব মানব নই ৷ জানেন না আমি সরব খচ্চর ? তাই আপনার বলা দুটো লাইন বলবই আমি ৷ কোট আনকোট বলব ৷ ——” জানিস রে আমার হাঁটার কষ্ট তো বাড়ছে দিন দিন ৷এবার ঠিক করেছি আমার মরা ছেলেটার জন্মদিনে বাচ্চাগুলোকে শুধু খিচুড়িই নাহয় বানিয়ে দেব ৷ আর কাউকে বলব পরিবেশন করে দিতে | হ্যাঁ রে –তাতে হবে না ? খুশি হবে তো রেহানরা ? ”

আর একটা কথা শুধু আমায় বলেছিলেন কুসুম ৷ বা সবাইকে বললেও আমি আপনার শব্দগুলো অধিকার করে নিয়েছিলাম ৷ জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনাকে —আছছা এত বঞ্চনায় এত কম পয়সায় খুশি থাকেন আপনি ! এমন কোনো বিষয় নেই যাতে আপনারও কান্না পায় ?

———–” পায় ময়ূরী ৷ আমারও কান্না পায় ৷ শীতের ভোরে যেদিন বেশি কুয়াশা জমে —আমার জানলা দিয়ে শুকতারাটা আর দেখতে পাই না ৷ মনে হয় সে আরো দূরে চলে যাচ্ছে —আজ আর ভোরের নক্ষত্র জ্বলল না ৷ আমার তার সাথে গপ্প করা আজ হল না ৷ তখন খুব কষ্ট হয় গো ! ”

আপনি হয়ত শোনেননি ৷ বিদায়বেলায় আমাদের সেদিনকার যাত্রাপথের এক সাথী অতনু বিড়বিড়িয়ে বলেছিলেন—এমন মানুষ ৷ মনে হচ্ছে –আজ থেকে এমন মানুষকে সেবা করাটা আমার দায়িত্ব হয়ে গেল ৷

—– না না আমি ভুল করিনি কুসুম ৷ কখনো মানিনি — অতনুর এ বাক্য নারীর প্রতি পুরুষের স্তুতি ৷ বিশ্বাস করেছি —এ হল মহান মানবের প্রতি ক্ষণিকের অতিথির শ্রদ্ধা ৷

ফেরার পথে গাড়ি থেকে দেখলাম —আস্তে নামা সন্ধের মাঝে গরুর পাল নিয়ে ফিরছেন এক মুসলমান বৃদ্ধ ৷ আমার সেদিনের যাত্রার আরেক সাথী তরুণ গবেষক সুদীপ্তা গাড়ি থেকে চেঁচিয়ে উঠলেন —আরে ! এই কাকুটাকেই তো সকালবেলা দেখলাম ৷

আপনি আমার অর্জিত কুসুম ৷
যাত্রার অভিজ্ঞতা সবাইকে দিলাম ৷
আপনি থাকুন আমার হয়ে ৷
আমার স্তনে ৷
সবুজের ক্ষেতে মানব হাঁটে ৷

[ ★★লেখাটি উৎসর্গ করলাম তাঁদের —যাঁরা পাঠ্যপুস্তক থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা তুলে নেয়া হয়েছে বলে হাহাকার করছিলেন এবং সেই সঙ্গে সেই সব নারীবাদীকে –যাঁরা পুরুষ পিতা কিংবা পুরুষ স্বামীর ( মানবেন নিশ্চয় – পিতা বা স্বামী পুরুষ ) সম্পত্তি পূর্ণমাত্রায় ভোগ করে এবং একাধিক সংসর্গে সফল বা বিফল হয়ে তারপর পুরুষকে গালাগাল দিতে থাকেন — ঈশ্বরচন্দ্র থেকে স্বামী বিবেকানন্দ কাউকে বাদ দেন না ৷ দেখতে পারেন পড়ে মেজাজ ঠাণ্ডা কিংবা জীবন সরল হয় কিনা ! ★★ ]

——————————————

মরীচিকা

তারিখ : ১৬/২/২০২২ ইং

——-আরিফুজ্জামান মুঈন

চলে গেলে সুস্মিতা
বল্লেনা কোন কথা ;
নীরবে নিভৃতে একা একা
ঝরিছে যেমন পুষ্পিকা ,
তুমিও হারিয়ে গেলে
একাটি আমায় ফেলে
হায়রে সুশোভিতা !
শুধু শুধু দিলে ব্যথা ।
ঐ বিহগ কূজিত কাননে
ছুটে যাই ক্ষণে ক্ষণে ;
কি পাব কি পাবনা
বলিতে কিছুই পারিনা ;
শুধু অনন্ত তৃষা
প্রাণে জাগে সহসা ।
এ হৃদি সিন্ধুর তীরে
ওঠে ক্ষুব্ধ তরঙ্গ ,
ভেঙে যায় বারে বারে ;
মৌন মিনতি বুঝিলেনা সাথি
হারিয়ে গেলো ভরা কৌমুদী তিথি ;
মনে প্রাণে যাদেরে বেসেছিনু ভালো
একে একে তারা সবই চলে গেলো ।
সমাধির কাছে গিয়ে
অনিমেষ চোখে রহি তাকিয়ে ;
অশ্রুর বরিষণ হলো সারাক্ষণ
ঘুচিলনা তবু অসহ বেদন ।

——————————————

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com