Breaking News
Home / Breaking News / সুলতানি আমলের পাঁচশত বছরের পুরোনো মসজিদটির ইতিহাস ও পরিচয়

সুলতানি আমলের পাঁচশত বছরের পুরোনো মসজিদটির ইতিহাস ও পরিচয়

স্টাফ রিপোর্টার: সুলতানি আমলের পাঁচশত বছরের বহু পুরোনো মসজিদটির অনেক ইতিহাস ও পরিচয় রয়েছে। ইহা চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ছোটসুন্দর গ্রামের পূর্ব পাশে অবস্থিত। মসজিদটি প্রাচীন থেকেই এই পর্যন্ত জঙ্গলের মধ্যে বিরাজমান। যে জন্য মসজিদটি এলাকাবাসীর মাঝে ঢেঙ্গার মসজিদ নামে পরিচিত। প্রাচীন মসজিদটির একটি বড় গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজ এর উপর একটি বড় জির গাছ ছিল। নানান সময়ে অসাধু ব্যক্তিরা বিভিন্ন নামে পরিচয় দিয়ে যেমন- মাজারের নামে ব্যবসা করার জন্য ওৎ পেতে বসেছিল। তিন দশক পূর্বে এক ভন্ড ফকির জির গাছের উপর লাল সালু কাপড়ের নিশানা টানিয়ে জির গাছে উঠে জোরে সোরে জিকির শুরু করে। এভাবে এক সপ্তাহ জিকির করে। এটাকে মাজার বানিয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এলাকাবাসী তার ভন্ডামী বুঝতে পেরে তাড়া করলে ভন্ড মাজার ব্যবসায়ী পালিয়ে চলে যায়। প্রাচীনকালে দিন অথবা রাতে এই মসজিদের পাশ দিয়ে লোকেরা চলাফেরা করতে প্রচন্ড ভয় পেত। কারণ প্রতিবেদকের আদি পুরুষকে মসজিদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বিড়ালের সুরুত ধরে কামড় দেয়। কামড়ের ফলে ভীষণ জ্বর উঠে এক পর্যায়ে লোকটি মারা যায়। এছাড়া প্রতিবেদকের ছোট চাচা ছোটকালে দুষ্টামি করে পুরোনো মসজিদটিতে ঢিল ছুড়লে পাল্টা ঢিলটি প্রতিবেদকের চাচার কপালে লেগে কপাল ফেটে যায়। এছাড়া অনেক অজানা অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা নিয়ে বাড়ি ও এলাকাবাসী আতঙ্কে সময় কাটাতো। অনেকের ধারণা মসজিদটি গায়েবিভাবে উঠেছে। মসজিদটি জঙ্গলের ভিতর থাকায় অনেক জ্বীন বাস করত। মসজিদটির অযত্ন অবহেলার কারণে এসব দূর্ঘটনা ঘটেছে।
মসজিদের পশ্চিম পাশে প্রতিবেদকের আদি পুরুষ ও জ্বীনের কবর রয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধী কবরগুলো ও মসজিদটির প্রতি কোনো যত্ন নেওয়া হয়নি এবং সংস্কারের ও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ইতোমধ্যে বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি পড়লেও এখনো মসজিদ সংরক্ষণ ও সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসী অত্যন্ত আশাবাদী সরকার যত দ্রুত সম্ভব মসজিদ সংস্কারে এগিয়ে আসবেন।
প্রতিবেদকের আদি পুরুষ ও বর্তমান বংশধরদের
মধ্যে যারা মসজিদটি নির্মাণে, সংস্কারে ও সংরক্ষণে বংশপরমপরায় সহযোগিতা করেছিলেন এবং করছেন তারা হলেন
১. মোঃ নাজমুস সাহাদাত তালুকদার (সাংবাদিক সাহাদাত তালুকদার)।
২. পিতা আলহাজ্ব ডাঃ মোঃ জহুরুল হক তালুকদার।
৩.পিতা মোঃ গরিব হোসেন তালুকদার।
৪. পিতা গোলাম হোসেন তালুকদার।
৫.পিতা দাহন গাজী।
৬. পিতা মুকছুদ বৈদ্য।
৭. পিতা লস্কর মহন পর্যন্ত বংশপরিচয় পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে দাহন গাজী তালুকদারের আমলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।
পুরোনো সুলতানি আমলের মসজিদ পুনঃ সংস্কারে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মণি, জেলা প্রশাক মোঃ মাজেদুর রহমান খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার
কানিজ ফাতেমা,সাবেক চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী ও প্রত্নতত্ত্ববীদগণ।
মসজিদটি দ্রুত সংস্কারের জন্য পোস্টটি শেয়ার করুন।

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com