Home / Breaking News / আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না, নির্বাচন ঠেকানোর শক্তি কারও নেই

আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না, নির্বাচন ঠেকানোর শক্তি কারও নেই

অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের সংলাপের দাবি একেবারে নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে নির্বাচন কেউ ঠেকাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

নেপালে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণ বিষয়ে রোববার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন হবেই, নির্বাচন ঠেকানোর মতো কারও কোনো শক্তি নেই।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কেউ ঠেকাতে পারবে না। জনগণ যদি সাথে থাকে, এই নির্ব‍াচন কেউ বানচাল করতে পারবে না।’

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ হবে আশাবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ হবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই। জনগণের ভোট চুরি করতে তো আসিনি।’

‘জনগণকে দিতে এসেছি। জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নেই। এই কথা আমি বারবার বলছি এবং আমি যেটা বলি সেটা বিশ্বাস করি।’

টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করতে কতোটা আত্মবিশ্বাসী? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের ওপর আমার বিশ্বাস আছে, আস্থা আছে। আমার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ যদি উন্নয়ন সুফল অব্যহত থাকুক চায়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকুক চায়, মানুষের ওপর আমরা বিশ্বাস আছে তারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার আওয়ামী লীগকে জয়ী করবে।’

দেশের বর্তমান সংবিধানে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতির কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণ উপলক্ষে নেপাল সফরের সময় নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সঙ্গে আলাপ হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

বিএনপির নির্বাচনে আসা না আসা তাদের ব্যাপার
তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন শর্তে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে বিএনপির বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচন করবে না – নির্বাচন কে করবে না করবে সেটা সেই দলের ওপর নির্ভর করে, তাদের সিদ্ধান্ত। সেখানে আমাদের কী করার আছে!’

‘তাদের দল (বিএনপি) যদি মনে করে নির্বাচন করবে- করবে, না মনে করলে করবে না।’

আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না
নির্বাচন ঘিরে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। প্রশ্নই উঠে না। আপনারা যে যতই বলুন। ক্ষমতায় থাকি না থাকি আমার কিচ্ছু আসে যায় না।’

‘যেদিন খালেদা জিয়ার ছেলে (আরাফাত রহমান কোকো) মারা যাওয়ার পর তার বাসায় যেতে গেলাম। আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিলো। ঢুকতে দিলো না। সেদিন থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর তো ওদের সঙ্গে আমি বসবো না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার একটা আত্মসম্মান বোধ আছে। অপমানের একটা সীমা আছে। যারা দিনের পর দিন আমাদের বাড়িতে এসে পড়ে থাকতো। তারা মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেওয়ার মতো সাহস রাখে। তখন তো অ্যারেস্ট করিনি। কিছু বলিনি। যখন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তখনও আমি সহনশীলতা দেখিয়েছি।’

তাড়াহুড়ো করে ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া যাবে না
সীমিত আকারে ইভিএম চালুর পক্ষে মত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইভিএম বহু দেশে চালু আছে। আমি এর পক্ষে। তবে হ্যাঁ, তাড়াহুড়ো করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।’

‘ভোটের রাজনীতিতে কারচুপি করা, এটা স্বাধীনতার পর শুরু করেছে (বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা) জিয়াউর রহমান। ইভিএম এর বিরুদ্ধে বিএনপি খুব সোচ্চার। … ইভিএম চায় না কারণ তাদের কারচুপি করার একটা ভালো টেকনিক আছে। যে টেকনিকটা এখনো আমরা ‍আবিষ্কার করতে পারিনি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ইভিএম হলে তো তারা ওই কারচুপিটা করতে পারবে না। একটার জায়গায় দুইটা তিনটা সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরতে পারবে ‍না। সেজন্য তারা আপত্তি জানাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলছি কিছু কিছু জায়গায় শুরু হোক। প্রযুক্তিতে কোনো সিস্টেম লস হয় কি-না সেটা পরীক্ষা করে দেখা যাবে। … এত আপত্তি কিসের, আমরা সীমিত আকারে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাকে তো ভারতের প্রধানমন্ত্রী বললেন তারা একটা সফটওয়‍ার ডেভেলপ করছেন যে- আপনার মোবাইল ফোন থেকেও পৃথিবীর যেখানে থাকেন, আপনার ভোটটা আপনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দিতে পারবেন।’

তাদের নেত্রী বন্দী, তারা আন্দোলন করুক
খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তি তাদের তো কোর্টের মাধ্যমে আনতে হবে। তারা যদি দ্রুত মুক্তি চায় তাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এটাই নিয়ম।’

তিনি বলেন, ‘তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করতে হবে – বিএনপির এতো নামী আইনজীবী, ব্যরিস্টার, অমুক সমুক, হোমড়া-চোমড়া, তারা কেনো পারলো না প্রমাণ করতে যে খালেদা জিয়া নির্দোষ। এখানে আমাদের দোষ দিয়ে লাভটা কী।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের নেত্রী বন্দী হয়ে আছে- তারা আন্দোলন করুক। ডাক দিচ্ছে হুংকার দিচ্ছে খুব ভালো কথা। খালেদা জিয়াকে তো আমি গ্রেফতার করিনি। রাজনৈতিকভাবে গ্রেফতার কর‍া হয়নি। সে গ্রেফতার করা হয়েছে এতিমের টাকা নিয়ে।’

‘তাছাড়া, এই মামলা আমাদের সরকারের দেওয়া নয়। এই মামলা তারই প্রিয় ব্যক্তিত্ব, ওনার পছন্দের ইয়াজউদ্দিন, ফখরুদ্দিন, মঈন উদ্দিনের আমলে দেওয়া। একটা মামলা ১০ বছর ধরে চলছে। আমরা যদি বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করতে চাইতাম তাহলে কি এই মামলা ১০ বছর লাগতো? আমরা হস্তক্ষেপ করিনি।’

বিএনপি মিডিয়ায় ফেভারিট, আমি থাকি ৩,৪,৫ নম্বরে
গণমাধ্যম সবসময় বিএনপিকে ফেভার করে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের সৌভাগ্য মিডিয়া সব সময় তাদের ফেভার করে। আমি তো থাকি আপনাদের প্রত্যেকটা টেলিভিশনের হয় ৩ নম্বর, ৪ নম্বর বা ৫ নম্বরে। বেসরকারি টেলিভিশন আমি দিয়েছি। আমি থাকি ৩ নম্বর, ৪ নম্বর, ৫ নম্বরে। সেখানে বিএনপি তারাই অগ্রাধিকার পায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা পার্লামেন্টেও নেই, বৈধ বিরোধী দলও না। সংসদের বিরোধী দলকে বিরোধী দল হিসেবে গণ্য করা হয়। আমাদের এখ‍ানে তারা এখনো ফেভারিট, তারা অগ্রাধিকার পায়।’

‘কোন দিনই তো কোনো পত্রিকা বা কোনো মিডিয়া কারও সুনজরে ছিলাম। আমার সমালোচনা বেশি। আপনি দেখেন পত্রিকা বা প্রত্যেকটা নিউজ। তারপরও এই বৈরী পরিবেশ, রাজাকার, একদিকে যুদ্ধাপরাধী পরিবেশের মধ্যে ক্ষমতায় আসছি। সফলভাবে দেশ চালিয়ে উন্নয়ন করতে পেরেছি।’

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ছবি জালিয়াতি বিএনপি-জামায়াতের কাছ থেকে শিখলো নাকি
বিমসটেক সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে অনানুষ্ঠিক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরানোর বিষয়ে যখন মিয়ানমারের সঙ্গে কথা হয়, তারা কখনো আপত্তি করে না। তারা সব সময় বলে আমরা নিয়ে যাবো, তবে বাস্তবতা হলো – তারা বলে কিন্তু করে না।’

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি অনুপ্রবেশকারী’ বলে পরিচিত করতে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অংশ হিসেবে ভুয়া ছবি দিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর বই প্রকাশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই ছবি নিয়ে তারা যেটা করলো, আমি যদি একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই – আমাদের দেশেও কিন্তু এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে অতীতে, মনে আছে আপনাদের। একেবারে কাবা ঘরের সামনে ব্যানার ধরার ছবির মিথ্যাচারও আমরা দেখেছি। সুতরাং এসব মানুষের কাছে ধরা পড়ে যায়। মিয়ানমার সরকারও ধরা পড়ে গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে শিখলো কার কাছ থেকে। আমাদের দেশের বিএনপি-জামায়াত, এদের কাছ থেকে বিষয়টা শিখে নিলো নাকি তারা? সেটাই আমার প্রশ্ন।’

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) সকালে কাঠমান্ডু যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী, নেপালের প্রধানমন্ত্রী শর্মা অলি, ভুটানের অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শেরিং ওয়াংচুকসহ অনেক দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই দিনের সফর শেষে শুক্রবার (৩১ আগস্ট) বিকেল আড়াইটার দিকে দেশে ফেরেন তিনি।

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com