Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / অতি আবেগী ও স্বল্প আবেগীদের নিয়ে কিছু কথা!

অতি আবেগী ও স্বল্প আবেগীদের নিয়ে কিছু কথা!

এন কে সুমন: মাঝেমধ্যে আমি বিভিন্নভাবে মানুষের শ্রেণীবিন্যাস করি। শ্রেণীবিন্যাস করতে গিয়ে আমি মূলত যে দুই ধরণের মানুষ আবিষ্কার করেছি সেগুলো হচ্ছে-

১। জন্মগতভাবেই অতিমাত্রায় আবেগী মানুষ। এইসব আবেগী মানুষের জীবনে আবেগ অনেকটাই অভিশাপের মতো। তাদের জীবনের প্রতিটা পদে পদে আবেগ একটি কঠিন অন্তরায়। এদেরকে অন্য মানুষেরা যাচ্ছেতাই ভাবে নিজেদের কাজে লাগায়।

আবেগের বশবর্তী হয়ে তারা জীবনে বহুবার অনেক বড় বড় বিষয় সেক্রিফাইজ করে ফেলে এবং আজীবন তার মাশুল দিতে থাকে। এই আবেগী মানুষগুলোর জীবনে হাসি কিংবা সুখের মুহূর্ত খুবই ক্ষণস্থায়ী হয়ে আসে।
তারা অন্যের সুখের জন্য সবকিছু হাসিমুখে ত্যাগ করতে পারে এবং স্বার্থপর হবার অনেক চেষ্টা করেও কখনো সফল হতে পারেনা তাই জীবনেও সফলতার দেখা খুব কম পায়।
এই অতি আবেগী মানুষদের বিরাট একটি সমস্যা হচ্ছে, জীবনে ঝামেলার শেষ নেই। কোনো অপরাধ না করেও কঠিন কঠিন শাস্তি পেতে থাকে আর কারণে অকারণে অন্যের ভুল বোঝাবুঝির স্বীকার হয়।
তাদের কোমল হৃদয়ের কারণে কারো প্রতি ভালোবাসা জন্মালে তা জীবনের চেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে আঁকড়ে ধরে রাখতে চায় এবং বিনিময়ে প্রত্যাশাও থাকে তেমন।

ফলে সহজেই কষ্ট পায় কারণ অধিকাংশ সময় অতি আবেগী মানুষগুলোর সংস্পর্শে যারাই আসে তারা নিজেদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

যাইহোক আবেগী মানুষদের মেন্টাল গ্রোথ খুব দ্রুত ঘটে তাই জন্মের পর থেকেই যেকোনো বিষয় অন্যান্য মানুষের চাইতে মস্তিস্কে সহজে ধারণ করতে পারে। এই ক্ষমতার ফলে সে চারপাশের পরিবেশ, প্রকৃতি কিংবা মানুষের অনেক অদৃশ্য বিষয়বস্তু অনুভব করে এবং কষ্ট পায়। আমি আগেই বলেছি আবেগী মানুষের জীবনে কষ্ট বেশী।

প্রতিনিয়ত কষ্ট পেতে পেতে তারা অনেকটাই একা হয়ে যায়। সবসময় একটা ভয় কাজ করে আর ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা হারাতে থাকে। আবেগী মানুষদের স্মৃতিশক্তি ভয়াবহ রকম শক্তিশালী আর এটাই প্রদান শত্রু।

স্মৃতি সুখের হোক কিংবা তীব্র যন্ত্রণার এদের ব্রেইনে যেনো সারাক্ষণ স্মৃতিদের দৌড়ঝাপ চল। ছোটবড় কোনো কিছুই তারা সহজে ভুলেনা আর এটাই তাদের অতিরিক্ত কষ্ট আর যন্ত্রণাময় জীবনের মূল কারণ।

ভালোবাসার গল্পগুলিতে আবেগী মানুষগুলির চরম এক অসহায় অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। কাউকে যদি ভালোবেসে ফেলে তবে সেই ভালোবাসার মানুষটি হারিয়ে যেতে পারে, চলে যেতে পারে এমন ভাবনার কোনো উদ্রেক হয়না তাদের মাঝে।

ভালোবাসার মানুষটি আজীবন যেনো হাতে হাত রেখে পাশাপাশি হাটবে আর বুকে মাথা রেখে আগামীর গল্প বুনে যাবে এমন আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা ভালোবেসে যায় তাই কখনো কোনোভাবে সেই ভালোবাসার মানুষটি যদি হারিয়ে যায় তাহলে প্রচণ্ড মানসিক আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। যে আঘাত অনেকে পুরো জীবনই বয়ে বেড়ায়।

আবেগীদের আবেগ জীবনের কোনো একটা সময় এসে একেবারে শূণ্যের কোঠায় পৌছে এর আগপর্যন্ত আবেগের পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে থাকে তার জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত। আবেগ থেকে মুক্তি পাওয়া মাত্র সে অন্য মানুষে পরিণত হয়।

হৃদয়টা যতোটুকু কোমল ছিলো তার তিনগুণ বেশী কঠিন আকার ধারণ করে। জাগতিক মায়ামোহ আর তাকে সহজে স্পর্শ করতে পারেনা। নিজের চতুর্দিকে এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরী করে সে। তবে সে যতোই আবেগহীন হয় না কেন অতীতের আবেগ তাড়িত জীবনের যন্ত্রণা তার পিছু ছাড়েনা কিছুটা ঝাপসা কিংবা মলীন হয় শুধু।

আবেগীরা অত্যন্ত লাজুক হয় এবং কে কি বলছে না বলছে তা নিয়ে খুব দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে। আবেগী মানুষগুলো প্রবল ব্যক্তিত্ববান হয়ে থাকে এবং নিজেকে সবসময় আলাদা প্রমাণের চেষ্টা করে।

এবার আসি ২য় প্রকার মানুষের আলোচনায়। এরা জন্মগত ভাবে কঠিন এক ক্ষমতার অধিকারী হয় আর সে ক্ষমতা হচ্ছে নিজের আবেগকে অদ্ভুতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। এরা খুব সহজেই হাসতে পারে আবার সহজে চোখের জলে ভেসেও যায়। তারা সুখ আর দুঃখকে খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করে। সুখ যেমন তাদের খুব একটা প্রভাবিত করতে পারেনা দুঃখও তাদের মনোবল ভাঙতে পারেনা সহজে। তারা মানুষের সাথে দুরত্ব বজায় রেখে চলতে পারে আবার নিজের প্রয়োজনে নিমিষেই সে দূরত্ব ভেঙে ফেলতে জানে।

নিজের ইচ্ছে এবং চাহিদার গুরুত্ব তাদের কাছে সবচাইতে আগে৷ এখানে কোনো কম্প্রোমাইজ চলেনা। দরকার হলে অন্যের মুখের হাসিটুকু কেড়ে নিয়ে নিজে বাক্সবন্দী করে রাখে৷
এ ধরণের মানুষ ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ায় ঠিকই কিন্তু একটা নিরাপত্তা বলয়ে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখে অর্থাৎ ভালোবাসার মানুষটি তাকে ছেড়ে গেলেও সে খুব একটা ভেঙে পড়েনা। এই প্রকৃতির অধিকাংশ মানুষ জীবনে মোটামুটি একটি প্রতিষ্ঠিত অবস্থান গড়ে তুলে।

অনেক ধৈর্যশীল ও পরিশ্রমী হয় তারা। তাদের ব্যক্তিত্বটা খুব আকর্ষণীয় না হলেও চলনসই। মোটামুটি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে সকল পরিবেশে আর এদের লজ্জাবোধ কিছুটা কম থাকে। পাছে লোকে কি বলে এই সংশয় তাদের মাঝে খুব প্রভাব ফেলতে পারেনা।

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com