Breaking News
Home / Breaking News / কলামিস্ট রিটন মোস্তফা’র “আপনি যখন বিশ্ব শক্তির একটি অংশ “

কলামিস্ট রিটন মোস্তফা’র “আপনি যখন বিশ্ব শক্তির একটি অংশ “

● আপনি যখন বিশ্ব শক্তির একটি অংশ ●

যখন ফেসবুক স্ক্রোল করি তখন যেটা বেশী চোখে আসে সেটা হলো ” উপদেশ ” বা ভালো কিছুর জন্য ” এটা বা ওটা করুন “। আমি বলছি না এই ট্রেডিশন খারাপ। এটা অবশ্যই ভালোর একটি দিক মাত্র। তবে লক্ষ্য করেবেন কেউ বলবে না আপনাকে: যে সেটা আপনি ভালোর জন্য (নিজের বা অপরের জন্য) আসলে কিভাবে করবেন। ব্যপারটিকে সহজ অথবা নেতিবাচক ভাবে নেবার কোনও দরকার নেই।

যেটা বলছিলাম, উপদেশ আমরা দিয়ে থাকলেও সেটা ব্যক্তিগত ভাবে আসলে পালন করতে গেলে যে পাওয়ার বা মানসিক শক্তির দরকার অথবা বলা যেতে পারে ” ভালো রকম এনার্জীর দরকার সেটা কোথায় পাবেন, এবং কিভাবে পাবেন? আর কীভাবেই বা কন্টিনিউ আপনি সেই নিজের এবং অপরের মঙ্গলের জন্য করতে পারবেন। এটা কিন্ত কেউ বলেনা।
বূঝতে পারেননি তাই না?

দেখুন, যখন আমরা কোন কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করি এবং করতে শুরু করি তখন আমাদের মস্তিষ্ক ঐ সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের শরীরে ঠিক সেই পরিমাণ কাজ করার জন্য এনার্জীর রিলিজ করে। একেক জন একই কাজ দেখবেন কেউ একটু আগে শেষ করে এবং কেউ একটু পরে শেষ করে। মূলত এর পিছনে তার দুটো জিনিস কাজ করে। একটা তার সিদ্ধান্তের দৃঢ়তা এবং সেই দৃঢ়তার উপর নির্ভর করে তার মস্তিষ্ক থেকে শরীরে নির্গত এনার্জীর পরিমাণ। এখানে দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। এখন কাজটা কোন ধরণের হবে হবে সেটা আপনার সিদ্ধান্ত উপর নির্ধারণ করে। (ভাল বা খারাপ) এই কাজ যে শারীরিকই হবে সেটা অবশ্যই না। বিভিন্ন রকমের হতে পারে।

আমি যে জিনিসটির উপর আসলে বলতে চেয়েছি সেটা উপদেশ বা মটিভেশনাল স্টাটাস গুলো আমাকে বলে যে এটা করো, ওটা করো। কিন্ত সেই কাজটা অর্থাৎ নিজস্ব উন্নতির জন্য যে কাজ করা এবং তার জন্য যে পাওয়ার দরকার পড়বে সেটা কোথায় পাওয়া যায়? এবং সেটাকে কাজে লাগিয়ে আমি আমার জীবনকে আরও ডেভলপ আসলে কিভাবে করতে পারি?
আমার কথার মধ্যেই আগেই একটি জিনিস কিন্ত অটোমেটিক চলে এসেছে এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে। আর সেটা হলো ‘ ব্রেইন ‘ বা মস্তিষ্ক। সব কিছুর মূলেই যেটা আমাদেরকে পরিচালক হিসেবে কাজ করে সেটা হলো এই ব্রেইন বা মস্তিষ্ক। আর সে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, কাজ, এবং বিভিন্ন কিছু রিজার্ভ করার জন্য যে শক্তির সরবরাহ করে আমাদের “বডি ফ্যাংশনে সহ মস্তিষ্কের অন্যান্য অঞ্চলে ” আসলে সেই শক্তির জন্য তাকেও তো আগে থেকেই সেই এনার্জী কোথাও থেকে অর্জন অথবা সঞ্চয় করে রাখতে হয়। যেমন একটি মটর সাইকেল দৌড়াবার জন্য আগে পেট্রোল পাম্প থেকে পেট্রোল রিজার্ভ করে। আমাদের মস্তিষ্কও তাই। তার পরেই না আপনার বিভিন্ন কাজের জন্য সে সরবরাহ করবে।
দেখুন আমি সহ আমরা যারা এই মটিভেশনাল স্টাটাস দেই। বা একে অপরকে উপদেশ দেই এমনকি আমাদের যে স্কুল টিচার আমাদেরকে শিক্ষা দেন তারা সহ 95% মানুষই জানিনা মস্তিষ্কের গঠন, কার্যক্রম, এবং এর ইন্ধন সম্পর্কে। যেটা জানা এবং তা কাজে লাগিয়েই আপনি আপনার অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন সহ ব্যক্তিগত জীবনের উন্নতির জন্য কাজ করতে পারবেন। এর বাহিরে উপদেশ উপদেশ থেকে যাবে। রাস্তা চেনা এবং সেই রাস্তায় চলার জন্য যে শক্তির দরকার বা ইন্ধনের দরকার তার অভাবে আপনি কখনোই পৌছাতে পারবেন না। মস্তিষ্কের ডেভেলপমেন্ট এর জন্য এই একমাত্র ইন্ধন আসলে সবার কাছেই আছে। আমরা চিনিনা বলেই কাজে লাগাতে পারিনা। ” কসমিক পাওয়ার ” বা বিশ্ব শক্তি বলে একটা শক্তি আছে যা শুধু এই মস্তিষ্কই না বরং, এই বিশ্ব এমনকি সমগ্র ইউনিভার্সের নিয়ন্ত্রণের পিছনে কাজ করছে। এমনকি আপনার আমার মস্তিষ্কের সাব কন্সাস মাইন্ড ফিল্ডের একটি অংশে রিজার্ভ সহ আমাদের মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম সেল গুলিতেও অবস্থান করছে। এই কসমিক পাওয়ারকে যদি চিনতে না পারেন যেটা আপনার কাছেই আছে, এবং সেটাকে যদি সঠিক ভাবে কাজে লাগতে না পারেন তাহলে গন্তব্য আপনার কাছে রূপকথার রাজ্যই থেকে যাবে।

এই কসমিক পাওয়ার বা বিশ্ব শক্তিকে কিভাবে আপনি অনুভব এবং কাজে লাগাবেন? উত্তরঃ একটা কথা সবসময়ই মনে রাখবেন, আপনার ইচ্ছা শক্তির মাধ্যমে আপনি যে কোন জিনিসকে অর্জন করার যথেষ্ট ক্ষমতা রাখেন। সেটা ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক যেটাই হোক। আপনার ইচ্ছাটা যত শক্তিশালী হবে আপনি ততটাই দ্রুত সেই ইচ্ছার বাস্তবায়ন করতে এবং দেখতে পাবেন। পাশাপাশি আপনার যে কোন বিশ্বাসও আপনার অভন্তরীণ মানসিক শক্তির বিষয়ে যথেষ্ট যথেষ্ট প্রভাব ফেলে বা কাজ করে।
আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে আপনার ভিতরে একটা অতিরিক্ত শক্তি আছে এবং আপনি সে ক্ষেত্রে যদি ইচ্ছে করেন যে আপনি সেই শক্তিকে আপনার ভিতরে আছে বা বাহির থেকে অর্জন করবেন, তাহলে প্রথমেই আপনাকে এটা বিশ্বাস করতে হবে যে ” এই সুনিয়ন্ত্রিত ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত কিছুই অদৃশ্য একটি মহা শক্তি বা বিশ্ব শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় সমস্ত কিছুই তাদের আচরণ দেখাচ্ছে। আর আপনিও এই সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডের একটি অংশের বাসিন্দা এবং এই বিশ্ব শক্তির বা কসমিক পাওয়ার একজন অংশীদার।” এখন সেটাকে আপনার অভন্তরে রিজার্ভ করা এবং সেটাকে আপনি কিভাবে অনুভব এবং কাজে লাগাতে পারেন তার বিভিন্ন উপায় ” মেডিটেশনে ” উল্লেখ্য হয়ত বিভিন্ন ভাবে দেখে থাকবেন। কিছু ধর্মীয় বিশ্বাস এবং এর চর্চা যেমন আমাদের ঐশ্বরিক অস্তিত্বকে অনুভব করতে শেখায় তেমনই আপনি চাইলে এই বিশ্ব শক্তি অর্জন এবং অনুভব করতে পারেন। শর্টকাটে কখনোই কোন ভাল কিছুই কখনোই অর্জন সম্ভব না। তবুও আমি অত্যন্ত সহজ ভাবে একটি পথ দেখাব যেটার মাধ্যমে আপনি যদি আপনার আন্তরিক মানসিক ইচ্ছার মাধ্যমে এটা করেন তবে আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে চাই যে ” হ্যা আপনিও কসমিক পাওয়ার অর্জন এবং এটা আপনার জীবনে ব্যবহার করে আপনার সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবর্তন অবশ্যই করতে পারবেন।

তবে তার আগে আমি আরও একটি পরামর্শ দেব। সেটা হলো আপনার জীবনে সবসময়ই ” ইতিবাচক দিকগুলোকে চর্চার মাধ্যমে ডেভলপ এবং প্রতিষ্ঠিত করুন। অর্থাৎ নিজের এবং অন্যদের জন্য মঙ্গল না এমন কিছু থেকে অবশ্যই নিজেকে দূরে রাখুন। এই নেতিবাচক মানসিকতার জন্য-ই আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনি আপনার জীবনের অর্ধেক শান্তি, তৃপ্তি এবং পূর্ণতা অবশ্যই অর্জন করতে পারবেন।

এবার আসুন কসমিক পাওয়ারকে অনুভব এবং এটাকে কিভাবে আমাদের অভন্তরীণ শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি সেটার একটা সহজ সাধারণ উপায় বা পদ্ধতির দিকটা দেখি।

একঃ আপনি বিশ্বাস করুন যে বিশ্ব শক্তি আছে এবং এটার অস্তিত্ব আপনার ভিতরেও আছে।

দুইঃ নীরব একটি স্থান বেছে নিন, যেখা প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় আপনি এই সুপার পাওয়ার এর জন্য কাজ করবেন

তিনঃ পিঠ সোজা করে বসুন একটি সমান্তরাল স্থানে। তবে অবশ্যই ঘরটা নীরব এবং আলো শূন্য হলেই ভাল।

– এবার আপনার দেহের কাঠামোটাকে একটু চিনে নিন। এবং আপনার ইচ্ছে মতো আমার দেখানো তিনটি অংশের নাম দিন। আপনার যে মেরুদন্ড আছে, সেটাকে অনুভব করুন, বুঝতে পারবেন মেরুদন্ড আপনাদের দেহের নীচের কোন অংশ থেকে শুরু হয়ে উপরের কোন অংশ পর্যন্ত পৌছেছে। এবং মেরুদন্ডের নীচের অংশের একটি নাম বা পরিচয় দিন (সূচনা)। মেরুদন্ডের মাঝামাঝি একটি পয়েন্ট অনুভব করুন এবং নাম দিন (মধ্যমা)। এবার আপনার দেহের যে অংশে গিয়ে মেরুদন্ড শেষ হয়ে অসংখ্য শীরা উপশীরার মাধ্যমে আপনার মস্তিষ্কের সাথে সংযুক্ত হয়েছে সেটাকে (গর্দান, গলা) অনুভব এবং তার একটি নাম দিন ( ইন্ধনা )। এবার অনুভব করুন এই ইন্ধনা দেকে সমস্ত শীরা আপনার ব্রেইনের সাথে সূক্ষ্ম সুতার মতো গিয়ে আপনার মস্তিষ্কের চারিদিকে সংযুক্ত হয়েছে, এই অবস্থানের একটি পরিচয় বা নাম দিন ( অর্জনা )।

যে নাম গুলো দিলেন, সেই নাম গুলো বার বার মনে করেন এবং সাথে সাথে মেরুদন্ড সহ আপনার মস্তিষ্কের সেই অবস্থানের কথা বারবার কল্পনা করুন যার নাম আপনি “অর্জনা” (উদাহরণ) দিয়েছেন। এরকম প্রতিদিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে এই অবস্থান গুলোকে মনে এবং অনুভব করার চেষ্টা করুন যাতে আপনার মস্তিষ্কে এটা একটা স্থায়ি বিষয় হিসেবে স্থান বা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তার পর শেষ এবং চার নাম্বার কাজটি কন্টিনিউ করতে থাকুন এবং একটা সময় আপনি অবশ্যই এই কসমিক পাওয়ার অনুভব এবং এটাকে নিজের মধ্যেই দেখতে পাবেন। প্রমিজ-

চারঃ মেরুদন্ড, পিঠ সোজা করে বসুন। একটি সহনীয় মাত্রার নিঃশ্বাস প্রঃশ্বাস কন্টিনিউ করুন। চোখ বন্ধ রাখুন। এবার ভাবুন – আপনার মেরুদন্ডের নীচের শুরুর অংশে একটা পাওয়ার প্রবেশ করছে। সেটা মেরুদন্ডের মাঝ দিয়ে মধ্যমা হয়ে ইন্ধনা বা গর্দান হয়ে আপনার মস্তিষ্কের চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। থামবেন না, আবার ভাবুন একই ভাবে, সেই সাথে বিশ্বাস রাখুন
হতাশ কখনও হবেনা। আবার একই রকম ভাবুন

– সূচনা দিয়ে একটি পাওয়ার বা বিশ্ব শক্তি আলো আকারে আপনার মেরুদন্ড হয়ে শীরের চারিদিকে ছিয়ে পড়তে পড়তে আপনার মস্তিষ্কের সমস্ত অঞ্চলকে স্পর্শ এবং বিচ্ছুরণ করছে বা স্পার্ক করছে। এই অনুভব টানা পনেরো দিন একই ভাবে করে আমাকে কল বা এস এম এস করুণ।

বিশ্বাস করুন।
ইতিবাচক হতে শিখুন।
আমি পারি, এটা সবসময়ই মনে রাখুন।
এবং ভালো থাকুন।

দ্রঃ এটার ভিডিও এবং সরাসরি বোঝার জন্য আপনি আগামী দু একদিনের মধ্যেই আমার স্বচিত্র ভিডিও আপডেট ইউটিউবে পারবেন, যেটা বুঝতে অনেকটাই সাহায্য করবে। ইতিমধ্যেই একটি ইংরেজি ভার্সন ফেসবুকে দেওয়া আছে।

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com