Home / Breaking News / কবি রিটন মোস্তফা রিটন এর ছোট গল্প “○ দৃষ্টি দৃষ্টান্ত ○

কবি রিটন মোস্তফা রিটন এর ছোট গল্প “○ দৃষ্টি দৃষ্টান্ত ○

○ দৃষ্টি দৃষ্টান্ত ○ (গল্প)
– রিটন মোস্তফা

মধ্য রাত। নগরীর সারাদিনের ব্যস্ত মানুষ গুলো তখন বিভোর ঘুমে আচ্ছন্ন ৷ হাল্কা একটা বাতাস বলে দিচ্ছে, প্রকৃতি এখন খুবই শান্ত ৷ টুং টাং শব্দে অলস রিক্সা গুলো পাশ কেটে চলে যায় নিরুদ্বিগ্ন দৃষ্টি রেখে ৷ পায়ের স্যান্ডেলটা ভুল করে পড়ে আসিনি৷ পিচ ঢালা “দূর্নিতী গ্রস্থ বাজেটে” তৈরী রাস্তাটা, বড্ড আঘাত করছে পায়ে ৷ মোড় ঘুরতেই সরকারি হাসপাতাল চোখে পড়ল৷ “আহ এই সুন্দর প্রকৃতি, এই সুন্দর পৃথিবী আর হয়তো দেখতে পাবোনা তোমাকে”৷

হাসপাতালের পাশেই জৌলুসে ঠাসা “রূপান্তর ক্লিনিক”৷ ক্লিনিকের ১২ নাম্বার রুমে “অমৃতা” হয়ত অপেক্ষা করছে আগমী সূর্যের “প্রথম আলো” দেখার জন্য ৷ যদিও এখনও সে সম্পূর্ণ অন্ধ৷ রাত এগারোটায় তার অপারেশন, নতুন দুটো চোখ লাগানো হবে আজ৷

“দারোয়ান কি আমাকে দেখতে পাচ্ছে না?” দু তিনবার ডাক দিয়েও তার কোন সারা নেই ৷ অথচ সে দিব্বি জেগে আছে ৷ আমার কোন শব্দই কি সে শুনতে পাচ্ছে না? দেখতে পাচ্ছে না আমাকে? অবশ্য মৃত মানুষকে জীবিত মানুষেরা না দেখতে পাওয়াটাই যুক্তিসঙ্গত । দেখতে পেলে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে কোন পার্থক্যই থাকতো না। আমি তো এখন মৃত লাশ।

ক্লিনিকের রিসিপশনের মেয়েটি গতকাল কেঁদে ছিলো আমার কি ” ইচ্ছা” সেটা শুনে। আজ এখন সেও আমাকে দেখতে পাচ্ছে না ৷ না পাবারই কথা। গতকাল বেঁচে ছিলাম, এখন তো আমি লাশ।

“না, না দাদাভাই, এটা করবেন না৷ এটা ঠিক না” তখন এই রিসিপশনের মেয়েটি বলেছিল আমাকে। এভাবে নিজেকে মেরে অন্যকে দৃষ্টি দান করা ঠিক হবে না দাদা ভাই, এটা চূড়ান্ত পাগলামি। ”

জরুরী বিভাগের এক কোণের ট্রলির উপর গতকালকের আমার নিজের লাশটা দেখতে পেলাম৷ ভালোই লাগছে নিজের হাল্কা পাতলা লাশটা দেখতে৷ আমার মৃত দেহ থেকে আগেই শর্ত অনুযায়ী চোখ অপসারণ করে রেখেছে কতৃপক্ষ। এখন চোখ ব্যান্ডিজ করা৷ আচ্ছা! মৃত দেহের চোখ তুলে নেবার পর ব্যান্ডেজ দেবার কি কোন দরকার ছিলো? অযথাই আমার মৃত লাশটার চোখ ব্যান্ডেজ করে রেখেছে ।

অপারেশন থিয়েটারে “অমৃতার” পাশে এসে দাঁড়ালাম। এখনেও কেউ দেখতে পাচ্ছেনা আমাকে৷ চারজন ডাক্তার ওর অন্ধ চোখটা তুলে নিয়ে আমার চোখটা বসিয়ে দিচ্ছে। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি। অপেরশনটা ঠিকঠিক হবার পর একজন ডাক্তার আরেক জন ডাক্তারকে বললঃ ” ছেলেটা এই মেয়েটাকে চোখ দেবার জন্য, এই কাজটা করলো কি করে? মরতেও দ্বিধা করলোনা ছেলেটা? হায়রে প্রেম, হায়রে ভালোবাসা…..। বাধ্য করলো চোখ নিতে? ”

অমৃতাকে তিনজন নার্স তার কেবিনে নিয়ে যাচ্ছে৷ অপারেশন শেষ এবং সফল৷

কদিন পরেই যেদিন ওর চোখের ব্যান্ডেজ খোলা হবে তখন অমৃতা আমার চোখে আবার নতুন করে পৃথিবী দেখবে৷ আমার দেওয়া সে দৃষ্টি তাকে দেখাবে-
” ভালোবাসার পৃথিবীটা কতোটা সুন্দর….. ”

আমি এবার ফেরার পথ ধরলাম৷ ফজরের আগেই মানুষ গুলো জেগে ওঠার আগেই আমাকে আমার “কবরে” ফিরতে হবে…. বসে থাকতে হবে কখন আবার ডেড বিডিটা মর্গে থেকে এখানে এনে মাটি চাপা দেয় সেই পর্যন্ত।।

– রিটন মোস্তাফা

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com