Breaking News
Home / Breaking News / চাঁদপুরে অবৈধ জেলি মিশ্রিত চিংড়ি মাছ সহ গাড়ি আটক অতঃপর মামলা জরিমানা ছাড়া মুক্তি

চাঁদপুরে অবৈধ জেলি মিশ্রিত চিংড়ি মাছ সহ গাড়ি আটক অতঃপর মামলা জরিমানা ছাড়া মুক্তি

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুরে হরিনা ফেরি ঘাটে কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে অবৈধ জেলি মিশ্রিত চিংড়ি মাছ সহ গাড়ি আটক করেছে।
অবৈধ জেলি মিশ্রিত আড়াইশো কেজি চিংড়ি মাছ পাওয়া সত্বেও কোন প্রকার মামলা ও জরিমানা ছাড়াই বৃহস্পতিবার দুপুরে গাড়িটি ছেড়ে দেয় মৎস্য কর্মকর্তা ও কোস্টগার্ড।

বুধবার রাত ১১ টায় চাঁদপুর হরিনা ফেরিঘাট এলাকায় কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট এন্ড সাদিক হোসেনের নির্দেশে পেটি অফিসার মইনুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় খুলনা বাগেরহাট থেকে আসা ঢাকা মেট্রো ড ১১-৮০০৯ নাম্বারের হাইস গাড়িতে থাকা পাঁচটি ককশিট বাক্সে আড়াইশো কেজি জেলি মিশ্রিত চিংড়ি মাছ সহ চালক ও হেলপার নাজমুল হোসেন (২৬),বাবুল বাসার(৬৫)কে আটক করে কোস্টগার্ড।
পরে গাড়ি ও আটক দুইজনকে সাথে নিয়ে চাঁদপুর ইচলী কোস্টগার্ড স্টেশন নিয়ে যায়।
কোস্টগার্ড চাঁদপুর মৎস্য কর্মকর্তাকে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করলে ঘটনাস্থলে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব রশিদ আসেন। পরে কোস্টগার্ড মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশমতে ২৫০ কেজি জেলি মিশ্রিত চিংড়ি মাছ রেখে সেগুলো মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করে ও আটক চালক-হেলপার সহ গাড়িটি ছেড়ে দেয়।
জেলি মিশ্রিত চিংড়ি মাছ বহনকারী গাড়িটি মামলা ও জরিমানা ছাড়া ছেড়ে দেওয়ায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা খুলনা বাগেরহাট থেকে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি মাছ চাঁদপুর সহ বিভিন্ন জেলায় পাচার করে। মামলা ছাড়া তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ায় এতে করে আবারো জেলি মিশ্রিত মাছ পাচার করার সম্ভাবনা থেকেই যায়। এই জেলি মিশ্রিত মাছ খেয়ে মানবদেহে ক্যান্সারসহ বড় ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ বিষয়ে কোস্টগার্ড জানান, জেলে মিশ্রিত মাছসহ গাড়িটি জব্দ করে মৎস্য কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা মৎস্য কর্মকর্তার সহযোগী হিসাবে কাজ করেছি। তাদের নির্দেশক্রমে জরিমানা ও মামলা ছাড়াই হেলপার চালকসহ গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
মৎস্য কর্মকর্তা বাদী হয়ে থানায় মামলা করার উচিত ছিল কিন্তু তারা সেটি না করে কোস্টগার্ডের উপর দায় দিতে চায়।

চাঁদপুর সদর সরকারি মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, জেলি মিশ্রিত মাছসহ গাড়িটি জব্দ করে কোস্টগার্ড মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত করার জন্য জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অনুরোধ করলেও তারা না আসায় কারণে মামলা ও জরিমানা ছাড়াই অবশেষে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চালক-হেলপারসহ গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মামলা করা উচিত ছিল সেটা করা হয়নি।

উল্লেখ্য, কিছুদিন পূর্বে হরিনা ফেরিঘাটে নৌ পুলিশ অভিযান চালিয়ে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি মাছ সহ দুটি গাড়ি জব্দ করে মামলা দায়ের করেছে। তারপরে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ জেলি মিশ্রিত চিংড়ি মাছ আনা বন্ধ করলেও আবারও তারা শুরু করেছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com