Breaking News
Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / হারিয়ে গেছিস তোরা, বলেনা এখন ওরা, ডান দিয়ে যাও, বাম দিয়ে যাও

হারিয়ে গেছিস তোরা, বলেনা এখন ওরা, ডান দিয়ে যাও, বাম দিয়ে যাও

নিপুন জাকারিয়া:—

পৃথিবীর ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত অনেক কিছু। আমাদের অজান্তেই কিছু পরিচিত প্রানী ও পশু -পাখি বিলপ্তির পথে। পৃথিবী হারাচ্ছে তার চির চলিত মনোরম পরিবেশ। বিধাতার প্রেরিত, উপকারী এই সব পশু -পাখিদের হারিয়ে, পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

যেখানে সেখানে পশু পাখি শিকার করায়, মানব সভ্যতা আজ হুমকির মুখে। দিনকে দিন সমাজের বৃদ্ধি পাচ্ছে হিংসা-বিভেদ। উঠে যাচ্ছে গ্রামের বাপ- দাদাদের আমলের সেই সহজ সরল মনোভাব। প্রকৃতি হারাচ্ছে তার আপর সুন্দরয্য।

আজ আমি যাদের কথা বলতে এসেছি, তারা মানব সভ্যতার শুরু থেকে ৯০ দশক পর্যন্ত, হয়তো প্রতিটি মানুষের পরিচিত। কতই না স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, ধরা ছোঁয়ায় বাহিরে থাকা, এসব পশু-পাখিদের সাথে আমাদের। তারা হারিয়ে গেছে, আমাদের হৃদয় থেকে মুছে যাচ্ছে, তাদের স্মৃতি।

ইলেকট্রিক ও মোবাইল নেট ওয়ার্কের যুগে আস্তে আস্তে আমরা তাদের কথা ভুলতে বসেছি। আজকাল সভ্যতার উন্নয়নে আর তাদের প্রয়োজন হয়না মানুষের। কিন্তু একটি সময় তারা আমাদের বার্তা বহনের কাজ করতো। ভালো কিংবা মন্দ, আপদ-বিপদ, বার্তা বহন করে, আমাদের জানান দিতো কেউ আসছে। কালের বিবর্তনে, আজ তাদের আমরা ভুলে গেছি।

খুব জানতে ইচ্ছে করে, তারা কেমন আছে? আমি সেদিনগুলির মতোই, তোমারদের অনেক ভালবাসি। তাই আজ আমার হৃদয়ে গাথাঁ, প্রিয় দুটি পাখিকে নিয়ে লেখা।

আমি তখন তৃতীয় শ্রেনির ছাত্র। বাবা ডাক্তারী কাছে ব্যস্থ। গেটপারে কৃষিবিদ মোখলেছুর রহমান কাকার হোটেলের নিজ তলায় এবং সদরের মাধুর বাজারে তার ঔষুদের দোকান। সকালে চলে যাই, রাতে ফিরে। তার সাথে তেমন দেখা হতো না আমার। আমার ছোট দাদা তার চির চেনা চেয়ারে বসে আছে মধ্যর খন্ডে। আমি আমাদের বাড়িগে বসে, দুপুরের মিষ্টি রৌদে মায়ের হাতে তুলা ভাত খাচ্ছি। যদিও এখনো মা আমাকে ভাত তুলে খাওয়ায়। মনে পড়ছে, সেদিনের কথা। আমার নিজ দাদা মরহুম তাজমুল হক মোল্লাও সেদিন বাড়িগে বসে, কামলাদের জন্য হুকা সাজাচ্ছে। আমাদের গোয়াল ঘরে তখন গরু ১২-১৫ টি, কামলা তিনটি, পষ্ট মনে পড়ছে আমার। গাছে বসে ডাকছে কুটুম পাখি।

ছোট দাদা আব্দুর জব্বার কেরানি (দাদার ছোট ভাই) বাড়িগে চেয়ারে বসে, মিষ্টি রৌদে শরীল লেলিয়ে জোরে জোরে বলছে, ডান দিয়ে যাও বাম দিয়ে যাও। পাখির ডাক চলছে, পাখি তার মিষ্টি সুরে গান গাচ্ছে। কিছু সময়ের ব্যবধান বাড়িতে আত্বীয় এসে হাজির। এরপর কুটুম পাখি যখনি ডাকতো, আমার কাছে আনন্দ লাগতো, কারন বাড়ীতে খাওয়ার মহা উৎসব। আত্বীয় আসবে শতভাগ নিশ্চিত। আজ সে কুটুম পাখির মিষ্টি ডাক নেই। নেই সেই দিনের আত্বীয়দের সাথে, খাওয়ার মহা উৎসবের আনন্দ। বেচেঁ নেই, বাবা-দাদারা, গোয়াল ভরা গরু। কাজের লোক বছরি বান্দা কামলা, এখন পাওয়া দুর্বিসহ।

তেমনি কেউ মরবার আগে যে কাঁক আমাদের ইহলোক ত্যাগ করার বার্তা বহন করে বাড়ীতে খবর নিয়ে আসতো। আজ সে কাঁক, আর বার্তা বহন করে না। কাঁকও তার চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। ভাই আর ভাই বেড়েছে দূরত্ব। ক্ষতিকের জীবনে, সম্পতিসহ সকল কিছুতেই লোভ আমাদের সকলকে, মানুষ থেকে পশুতে রুপান্তর করেছে। তাই পশু পাখিরা সন্ধি করেছে, তারা আর আসবে না, মিষ্টি সুরে গান গাইবে না। তারা আমার স্বপ্নের মাঝে এসে বলেছে- আমাদের আর থেকে লাভ কি বলো, তরা নিজেদের রক্ত নিজেরাই খাঁ।

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com