Breaking News
Home / Breaking News / দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের আজকের সেরা ছয় সাহিত্য

দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের আজকের সেরা ছয় সাহিত্য

জীবন চিরটাকাল এলোমেলো
___________________________________________

যত‌ই সাজাও দিনরাত সশব্দ অভিঘাত
যত‌ই যতনে যতনে গড়ো ভালোবাসা ধারাপাত
জীবন চিরটাকাল গোলমেলে এলোমেলো
জীবন চিরটাকাল ‘কিছু বাকি রয়ে গেলো’!

প্রিয় বাতায়নে প্রিয় সবুজের উদার নাচন
প্রিয় আঙিনায় ফুলকুলের মধুর বচন
সব এলোমেলো হয়ে যায়, ছেঁড়া উপন্যাস বুঝি!
ভাঙা ভাঙা জোসনায় ছেঁড়া ছেঁড়া ঢেউগুলো খুঁজি।

চোখের শব্দহীন ভাষা নীরবে যে কথা কয়!
না বলা কথামালা নির্বাক চেয়ে রয়।
পাখিদের‌ গানকথা সুমধুর ভেসে যায় অজানায়,
মানুষের‌ বেশি কথা চুপচাপ নিরালায় থেকে যায়।

না বলা কথামালা সত্যের সাথে আছে চিরকাল
সাজানো কথারা কয় বেহুদার গল্প বেহাল।
যতবড় সভা হবে যত বেশি কথা হবে হয়ে যাক;
সত্যেরা চুপচাপ ক্ষয়হীন লয়হীন থেকে যাক।

সাজঘর লাজঘর সত্যের অপলাপ সশব্দে বিরাজে
বৃষ্টি সাজে না সাজে, রোদেরা সাজে না লাজে
মানুষ‌ই তো সাজঘরে একা সাজে নানা ঘোরে
সভা সমাবেশে ঐ সাজ করে কথা বলে খুব জোরে।

জীবনের গান খানি সহজিয়া গাই যদি ক্ষতি কার
চাইনি তো আদালতে সাজানো গল্পের কভু প্রতিকার!
বলে যাই কিছু কথা নিঃশব্দে নিরালী ঘরে মায়াময়
যদি এ মানুষদলের কোনদিন এলোমেলো দয়া হয়!

॥বিজ্ঞান নগর কোলকাতা ১৩ ০৫ ২০২২ ল্যান্ডমার্ক॥

——————————————–

কবিতা – আপনজন
স্বপন কুমার রুইদাস ১৩/৫/২২

আ — আপনজন আলোকিত জ্যোৎস্না
মনের আকাশ আশীর্বাদী নদী
সদা স্নিগ্ধ স্নেহময় ,

প — পথ যদি হয় দুর্গম বন্ধুর
দেখায় মধুর স্পর্শে তারা দিশা
অমানিশা করে জয়।

ন — নকল মুখোশে সাঁটা নয় মুখ
জেনেও নিজের ক্ষতি সঙ্গে রয়
স্নিগ্ধ মনে কথা কয় !

জ— জীবনে তারা বকুল গন্ধ দিয়ে
করে সদা প্রিয় বাক্য বিনিময়
কথায় শুভ্রতা রয়;

ন — নেয় না,দেয় অঞ্জলি কতকিছু
বিনম্র শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়
রক্তে ওরা স্বর্গ বয়।

——————————————–

~চতুর্দশপদী~

জীবনানন্দ মেলা
12.05.22

আবেগর নদী অদ্ভুত উপমা-ঢল,
মুখোশের চোখ হয় অশ্রু টলমল,
প্রকৃতির গায়ে এঁকে অপরূপ শিখা,
মাছরাঙার চোখের নৃত্যনাট্য দেখা,
শঙ্খচিলের স্বপ্নডানার দৌড়ঝাঁপ,
খরগোশের চোখে মায়াবী ছন্দ ছাপ,
দুর্বার গতিতে স্বপ্ন জীবনের ভীড়ে,
ধান শালিকের বেশে এলে ফিরে ফিরে।

মৃত্যু-দূত ট্রাম গাড়ির নিষ্ঠুর চাকা,
সিঁদুরের লালে বিষাদের চিত্র আঁকা,
নোনা স্রোতেই ভেসে গেলো নোলক ছবি,
বেদনার অন্ধকারে ঢলে কল্প রবি,
প্রকৃতির অপরূপ কি অসীম খেলা,
দশ দিগন্তে বসে জীবনানন্দ মেলা।

মহিউদ্দিন আহমেদ
নারায়ণগঞ্জ,বাংলাদেশ
© স্বপ্ন

——————————————-

“বাংলায় কথা হয় বিশ্বময়”
আউয়াল জামান কয়েছ
১৩.০৫.২০২৩
———————————
সেদিনও আকাশে মেঘ ছিল
মেঘের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে ছিল রক্তিম বর্ণমালা!
বৃষ্টি হবে হবে করেও হয় না
রফিক সালাম বরকত জব্বার রাস্তায় দাঁড়ালো
সাথে নাম না জানা আরো অনেকেই ছিল!
স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হলো রাজপথ
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, মানতে হবে, মানতে হবে!
একসময় অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামলো
ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়লো রক্তমাখা বর্ণমালা
যে বর্ণমালায় আমি কবিতা লিখি!
তাই তো, আমার কলমে বারবার চলে আসে তাঁদের নাম
রফিক জব্বার বরকত সালাম!
আমি লিখি, রক্ত ঝরা দিনের কথা
আমার মায়ের কথা, মাতৃভূমির কথা, মাতৃভাষার কথা
স্বাধীনতার কথা, আশার কথা, ভালোবাসার কথা!
আমি নিঃসংকোচে লিখি, নির্দ্বিধায় লিখি
আমি কথা বলি সাহসী উচ্চারণে!
চিৎকার করে বলতে পারি, আমি বাংলায় কথা বলি;
আমার ভাইয়ের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষা
আমি আজন্ম হৃদয়ে আগলে রাখি!
সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিয়ে এসেছি
তবুও বাংলা সাথে রেখেছি
এ যে আমার ভাইয়ের দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহার
কি করে ফেলে আসতে পারি?
তাই তো, আজ বাংলায় কথা হয় বিশ্বময়,
বাংলায় কবিতা গান!
বাংলায় খুঁজে পাই প্রাণের স্পন্দন
বাংলা আমাদের এক অটুট বন্ধন।

——————————————–

এমন তো ছিলনা কথা
নিতাই চাঁদ গায়েন

তুমি এখন আর আমার পৃথিবীতে নাই
কি সুন্দর এক মুঠো উষ্ণ বালি বিছিয়ে
নিভৃতে অন্যের পৃথীবিতে নিয়েছো ঠাঁই।
শুধু রেখে গেলে কতগুলো ধূসর স্মৃতি,
রেখে গেলে কতগুলো অপরিণত আবেগ
আর তাদের অকাল মরণের দগদগে যতি।
দিয়ে গেলে রক্তিম লৌহের দুঃসহ ছ্যাঁকা
আর নিয়ে গেলে নিরাময়ের সর্ব মহৌষধ।
আমার ধরণী তোমার কাছে কি খুব ছোট্টো?
নেই উন্মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়ার পরিসর?
নেই বাহারি রঙের মনোহারি রামধনু? তাই
ডানা ভাঙার ভয়ে নিয়েছো নীরবে বিদায়ী।
ভাঙাচোরা চুনখসা জীর্ণ দেওয়ালের ঘর
মন ভরে না তোমার কেবল ভয় হারাবার।
এখানে বসন্ত বড়ো বাড়ন্ত আছে শুধু
শীত কাঁটার অসহনীয় কামড় বারংবার,
গ্রীষ্মের তীব্র দহন আর বর্ষার উগ্র ভ্রুকুটি,
অমা নিশির গহীন ঘুটঘুটে বিভৎস আঁধার,
তুমি ভয় পেলে আর চুপিসারে চলে গেলে।
কিন্তু এখানে আছে মধুবনের মাধুরী প্রেম
আছে হাতে হাত ধরে সহমরণের অঙ্গীকার
রক্তক্ষরণ দুঃখেও সহযাত্রী হবার প্রতিশ্রুতি
আছে পুণ্য মিলনের পবিত্র তীর্থ ক্ষেত্র
হৃদে হৃদ মিলনের পরিপূর্ণ নিষ্পাপ রসদ
যা দিয়ে ভরাতাম তব কাঙ্খিত সুখের স্বর্গ।
বৈভব সুখের লালসা ভুলিয়ে দিল অতীতের
সেই পড়ন্ত বিকেলে অধর চুম্বন আলাপন,
ভুলিয়ে দিল ক্রোড়ে মাথা রেখে দেওয়া শপথ,
ভেঙে দিলে রঙিন স্বপ্নে বোনা আশা নীড়,
কেড়ে নিলে জীবনের সব রঙ এক লহমায়,
ভাবলে না কুল ভাঙা অস্থির নদী স্রোতের
সঙ্গমে মিলিত হতে না পারার অব্যক্ত যন্ত্রণা।
ভেবেছো, কি হবে তব পরিত্যক্ত মন্দিরের?
কে জ্বালাবে সন্ধ্যা প্রদীপ পোড়ো মন্দিরে।
না,এ ভাবনায় তুমি হয়তো অভ্যস্ত হওনি
এখন তোমার চোখে স্বর্গীয় সুখের হাতছানি।
টগবগিয়ে ফুটছে তব আবেগ বিহ্বল শণিত
নতুনের সাথে নতুন মিলনের সুখভোগ লাগি।
নতুনের সাথে নতুন সুখে থাকো ক্ষতি নাই
কিন্তু কি যাতনার বিষ ঢেলে দিলে দিলে শুধু
একটিবার ভেবে দেখার অনুরোধ জানাই।

সবং, পশ্চিম মেদিনীপুর,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত।

——————————————-

দৈনিক শব্দনগর
শিরোনাম : ঋণ
সৃজনে : বিজয়া মিশ্র
তারিখ :১৩.০৫.২০২২

হঠাৎ লরির ধাক্কায় ছিটকে গেল অনুজ,
সাইকেলের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন ।
হয়তো জ্ঞান হারিয়ে ছিল,
কতক্ষণ কেটেছে …
চেতনা হতেই
মনে পড়ল কথাগুলো, স্যার, পরীক্ষা, বাজার সবই
কেমন এলোমেলো ,অস্পষ্ট লাগছে অনুজের।
কেউ জল ছিটিয়ে সচেতন করতে করতে
দু একটা প্রশ্ন “খোকা তোমার…
আবার তলিয়ে যায়
একটা ঘোরের
অন্ধকারে।
জ্ঞান ফিরেছে অনেক রাতে হাসপাতালের বেডে,
নাম ধ’রে কেউ বোধহয় ডাকছে তাকে,
হাত পা নাড়াতে পারছে না কেন…
অনেক প্রশ্নের ভিড় একসঙ্গে
,কেউ একজন পাশে
“কেমন লাগছে”?
চোখ মেলে বোঝার চেষ্টা করল সবকিছু, কিন্ত…
ভদ্রলোক আবার বললেন “আমি সমু
মানে তোমার বাবার সহপাঠী,
সৌমেন মজুমদার,
ভয় পেয়োনা। ”
অনুজ কী বলবে ,কী করবে বুঝতে পারলো না
শুধু জানতে চাইল “আমার মা কোথায়… ”
সৌমেনবাবু বললেন “হ্যাঁ হ্যাঁ আছেন
তোমার এখন বিশ্রাম দরকার।
বাঁ পায়ে ফ্র্যাকচার আছে
অপারেশন হবে। ”
সমস্ত যন্ত্রণা ছাপিয়ে চেপে ধরল ভীষণ উৎকণ্ঠা
দু চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল উষ্ণ ক’ফোঁটা…
সৌমেনবাবু বললেন “আমি আছি,
একসময় কত সাহায্য পেয়েছি
তাই টিকে আছি এখনও।
এখন তোমার দায়িত্ব
নিতে দাও আমাকে।
অন্তত এতটুকু
ঋণ কমবে।

——————————————–

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com