Breaking News
Home / Breaking News / দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

কবিতা – দিনের শেষে
সন্দীপ চট্টোপাধ্যায়-
6/3/22
– – – – – – – – – – – – – – – – – – – –

” দিনের শেষে
সবাই আমরা একা- -”
এ পারেতে নৃত্য – গীত
ও পারে তে কাঁদা
মধ্যি খানের সময় গুলো
আবেশ দিয়ে ঠাসা- –

তুলসী তলায় প্রদীপ খানি
কে দিয়েছ জ্বেলে!
দিনের শেষে হাটের খুঁটি
বাঁশি বাজায় আপন মণে- –
সময় আর নাই বেশি গো
আগল খনি খোলো
বৃথা সময় ব্যয় না ক’রে
পারের খেয়া ধরো
বোঝাই তরী ঠাঁই কোথা নাই
আর যাবে না থামা;
হিসেব নিকেশ থাক না এখন ;
” দিনের শেষে
সবাই আমরা একা। ”

। সম্পূর্ণ।


——————————————-

অণুগল্প
অধরা
নরেন্দ্রনাথ নন্দী
০৬/০৩/২২

ফেসবুকে দেখছি ব ই মেলা।কত নতুন ব ইয়ের প্রকাশ।নামি দামি কবিরা ব ই উদ্বোধন করছেন।হাতে হাতে ঘুরছে নতুন কবিতার বই , মুখে মুখে হাসি,ক্যামেরা চলছে।বুকের মাঝে রাখা কবির প্রকাশিত নতুন ব ইটির মুখ । এসব দেখতে দেখতে মনটা কখন চলে গ্যাছে ব ই মেলায়। কোথাও রয়েছেন বাঁকুড়ার চারণ কবি, কোথাও কবি গোলাম রসুল তাঁর ” বিস্ময়ের অট্টালিকায়” বসে কবিতা পাঠ করছেন।সম্বর্ধনা- উত্তরিয় ,মান-সম্মান এককথায় চারিদিকে স্বপ্নময় আনন্দের ছড়াছড়ি।

হঠাৎ কে যেন ডাকল তার নাম ধরে,” তোর মায়ের ঔষুধ টা এনেছিস বাবা, কাল থেকে প্রেসারটা বেড়ে রয়েছে।”হ্যাঁ যাই,চরম বাস্তবে ফিরে আসা। ব ই মেলায় যেতে হলে,আসা যাওয়ার ভাড়া,খাওয়া খরচা, ব ই কেনাকাটা মনে মনে হিসাব কসতে থাকে সুজিত। কমপক্ষে এক হাজার পকেটে না নিয়ে যাওয়া হবে না।
টাকা উপার্জনের একটা পথ খোলা আছে।আজ মালিয়াড়া নীল বাড়ির মাঠে “বাঁকুড়া চ্যাম্পয়িন ” ম্যাচের ফাইন্যাল খেলা। কতৃপক্ষের ঘোষনা, বাউন্ডারীর বাইরে প্রতিটি ক্যাচের মূল্য দু-শ টাকা।
সুজিত খেলা শুরুর আগে ভাগেই অন সাইডে একটা ভালো পজিশনে দাঁড়িয়ে থাকল। যথারীতি খেলা শুরু হল।শ্যেনদৃষ্টিতে সুজিত মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকে ,এক দুটো ক্যাচ নিতে পারলেই কেল্লা ফতে। ব ই মেলায় যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়ে যাবে।
বল যাচ্ছে সব দিকে। অনেকেই ক্যাচ ধরেছে।প্রথমার্ধ শেষ হয়ে গেল।লোক্ষ্য মাত্রা দিয়েছে ১০৯। সব ভুলে সুজিত ঈশ্বরের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। একটা ক্যাচ তার কাছে ঈশ্বর। ঈশ্বরের দেখা নেই। সবাইতো আর ঈশ্বর কে পায়না। সুজিত মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।আকাশের বুকে কলকাতা বইমেলার মানচিত্র ভাসতে থাকে…….।

——————————————–
রোজা যখন আসে
_________________________#রফিকুল্লাহ্_কালবী
কুষ্টিয়া ০৬/০৩/২০২২

রোজা যখন আসে
খুশির চোটে ব্যবসায়ীরা মেঘের কোলে ভাসে,
আর কেবলই দরুদ পড়ে মিটিমিটি হাসে।

উঠলে রোজার চাঁদ
ব্যবসায়ীদের চোখ ও মুখে খুশির আহ্লাদ,
রোজা যেনো সওদাগরের শিকার ধরার ফাঁদ।

এলে রোজার মাস
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সবাইকে দেয় বাঁশ,
আর কেবলই মুখে মুখে ঈমান করেন চাষ।

যখন আসে রোজা
ব্যবসায়ীদের ঈমান থাকে বাম কোমরে গোঁজা,
সেইটা বেচে খরিদ করেন নানান পাপের বোঝা।

রোজা আসার কালে
হাসির ঝিলিক ব্যবসায়ীদের লেগে থাকে গালে,
সব ফজিলত লেখা থাকে ওদেরই কপালে।

রোজা আসার আগে
সব রহমত জমা পড়ে সওদাগরের ভাগে,
গরীবগুলো ঝোলা হাতে শুধুই ভিক্ষা মাগে।

Copyright protected by the writer.

——————————————–

তুমি শুধু থাকবে না
*
মহিউদ্দিন সুমন
*

মন্ত্রণালয় থাকবে ঠিকই মন্ত্রী গুলো থাকবে না
তার লিখা সব ভালো মন্দ নথি পত্র মুছবে না।
সচিবালয় ঠিকই রবে সচিবগুলো থাকবে না
জুলুমকারী হলে সে জন বদনাম বলা ছাড়বে না

সংসদ ভবন রয়ে যাবে সাংসদ তুমি থাকবে কই
তার দেওয়া সে বক্তব্যটার মিলবে ক্যাসেট লিখবে বই।
রাষ্ট তোমার থেকে যাবে রাষ্টপতি থাকবে না
মরার পরে মাথার উপর ছবি খানা রাখবে না।

বিচার বিভাগ থাকবে ঠিকই বিচারপতি কই গেলা
মনগড়া সেই রায় দিছিলা মরার পরে লও ঠেলা।
জেলখানা তো থাকবে জানি জেলার তুমি বাঁচবে না
ন্যায় নীতিটা ভুলে তুমি যেমন খুশি নাচবে না।

কমিশন নীড় থাকবে দাড়াই কমিশনার লুটবে তল
তোমার সকল কর্ম গুলোর ভালো মন্দের পাবে ফল।
চেয়ার খানি ঠিকই রবে চেয়ারম্যানটা থাকবে না
তোমার সকল কৃতকর্ম আমজনতা ভুলবে না।

মিম্বার আছে খুৎবা আছে খতিম সাহেব থাকবে না
হক কথা না কইয়া মরলে ফেরেস্তারা ছাড়বে না।
রাজ ফাসাদটা আছে ভবে রাজত্ব তোর হবে শেষ
নিদর্শন হই রবে ফাসাদ দেখবে জাতি খুঁজবে রেশ।

ও জমিদার জমিদারী থাকবে বেঁচে ততদিন
মরলে তুমি হিসাব দিও জমানো সে জমির ঋন।
কৃষকের সে লাঙল জোয়াল থাকবে গোয়াল ঘরেতে
মরলে তুমি সবাই মিলে করবে কবর শুয়াতে।

শিক্ষাগৃহ থাকবে জানি শিক্ষক গুলো থাকবেনা
শিক্ষা গুরুর শিক্ষা গুলো মরার আগে ভুলবে না।
আমি তুমি করবো যাহা রয়ে যাবে সবি ভাই
ক’দিনের সে ব্যবধানে আমি তুমি কেহ নাই।

——————————————–

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com