Breaking News
Home / Breaking News / দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

অন্তরালে
নার্গিস পারভিন
০২/০৩/২০২২

নিশ্চল পাহাড়ের বুক বেয়ে
রাত্রিটা ওপরে ওঠে,
শ্রান্তি নেই ক্লান্তি নেই
ভারসাম্যের বিদায়ী অশ্রুপাত!

জমে ওঠা তুষার
পাহাড়ের গা বেয়ে নামে কান্না হয়ে
বিরামহীন প্রপাতের,

সব আর্তির বিরতি টানে
স্রোতের শরীরে মিশে,

দিনের বুকে নিদ্রার মাথা গুঁজে
অনুকূল সত্তায় রেখে পরকীয়া
অঢেল ক্লেশ মোছে
মাটির পিপাসায়,

বাসনায় কামনায় চরম আত্মিক মূর্ছনায়
নগ্ন আলোয় অনাবৃত দেহ সঁপে
অবস্থানের শিকড়ে মৃদু চুম্বন আঁকে,

রঙিন ফুলে সেজে ওঠে বাসর,
রজনীগন্ধা লজ্জায় মুখ ঢাকে!!অন্তরালে
নার্গিস পারভিন
০২/০৩/২০২২

নিশ্চল পাহাড়ের বুক বেয়ে
রাত্রিটা ওপরে ওঠে,
শ্রান্তি নেই ক্লান্তি নেই
ভারসাম্যের বিদায়ী অশ্রুপাত!

জমে ওঠা তুষার
পাহাড়ের গা বেয়ে নামে কান্না হয়ে
বিরামহীন প্রপাতের,

সব আর্তির বিরতি টানে
স্রোতের শরীরে মিশে,

দিনের বুকে নিদ্রার মাথা গুঁজে
অনুকূল সত্তায় রেখে পরকীয়া
অঢেল ক্লেশ মোছে
মাটির পিপাসায়,

বাসনায় কামনায় চরম আত্মিক মূর্ছনায়
নগ্ন আলোয় অনাবৃত দেহ সঁপে
অবস্থানের শিকড়ে মৃদু চুম্বন আঁকে,

রঙিন ফুলে সেজে ওঠে বাসর,
রজনীগন্ধা লজ্জায় মুখ ঢাকে!!

——————————————–

সীমা দাশশর্মা সামন্ত
কবিতা -হঠাৎ দেখা
2/3/2022
………………….
বছর কুড়ি পরে আবার হলো দেখা ,
আমাদের যৌবন গেছে পেরিয়ে
চুলে দেখা যায় রুপালি রেখা |
কনে-দেখা আলোয় তখন চারিদিক আলোকিত ,
সেই পরমলগ্নে তোমাকে দেখে হলাম চমকিত |
অপলক দেখছিলাম তোমায়
মনে হলো থমকে গেছে সময় |
সমস্ত চরাচর নিস্তব্ধ —
আমরা হলাম দুজন -দুজনাতে মুগ্ধ |
হঠাৎ যেন ফিরে পেলাম সম্বিৎ
চোখের সামনে ভেসে উঠলো অতীত |
তোমার থেকে পাওয়া অপমান আর অবহেলা ,
পেরিয়ে এসেছি আজ জীবনের কত বসন্তবেলা |
তবুও অভিমান ভুলে প্রশ্ন করি “কেমন আছো ?
তোমার অন্তরে ভালোবাসার স্মৃতিগুলো বেঁচে আছে আজও ?”
বিষন্ন চোখ দুটি মেলে মুখপানে
সে বলে ,”আছো তুমি আজও মনের একান্ত সংগোপনে “|
পৃথিবীর বুকে নেমে আসে সন্ধ্যা,
ফিরে যায় তারা নিজ নিজ গৃহে —
বাতাসে গন্ধ ছড়ায় রাতের রজনীগন্ধা |

——————————————–
প্রিয় কিছু

খোদেজা মাহবুব আরা

০১—০৩—২০২২ ইং

আমার জীবনের অন্ধকার সমুদ্রে নক্ষত্র খসে পড়া অসংখ্য সুখ কণা যাচ্ছে তাই ভাবে ঝরছে ক্রমশ বিদীর্ণ হবার মতো।

উজ্জ্বল সব প্রভাত ঢেকেছে অন্ধকারে, বৃক্ষের পাতায় পাতায় কান্না, যাপনের যন্ত্রণায় অধীর, তবুও ভবিষ্যতের দারুণ উচ্ছ্বাসের মন্ত্রণায় বিভোর কতো হাস্যকর নির্বোধ অনুভূতি।

বাতাসে প্রচন্ড ঝড়ের অলিখিত উচ্ছৃঙ্খল উপাখ্যান, তবু মনোনিবেশ করি বিশ্বের আনন্দ পঙক্তিমালার দিকে, কতো বার ঝেড়ে ফেলি বিষন্নতা,তবু বারবার পরিশ্রান্ত অবসরে ফিরে আসে বিবর্ণ জীবন রঙহীন,
হঠাৎ এক ঝলক জ্যোস্না বিলাস দক্ষিণের বাতায়নে, পাখায় মিষ্টি সুর, স্থির জমে থাকে কিছু সুখ, হ্যাঁ আর এভাবেই আমি প্রিয় কিছু পেয়ে যাই আমার অজান্তে।

——————————————–

#মাটির_মানুষ_মা
Sarmistha Roy Bajpeyi
গদ্য কবিতা
02/03/2022

মা — ও মা——- আঁচল ধরে টানতে টানতে
খোকন
উঠোনের মাঝে নিয়ে ,
মস্ত উঠোন , পাশের গোয়ালে দুটো গরু আছে বাধা
মাকে দেখেই ওরা মুখ বাড়িয়ে
হাম্মা করে ডাকে—-
খোকন তার আঙুল উঁচিয়ে আকাশের দিকে দেখিয়ে বলে
“ওই দেখো মা , প্লেন যাচ্ছে ,
আমিও একদিন মস্ত বড়ো হয়ে প্লেন চালাবো মা,
তুমিও আমার পাশে থাকবে বসে, দুজনে আকাশে উড়বো ওই উড়ো জাহাজে।”
আরে ছাড় আমাকে ,রান্না গেলো যে পুড়ে !
ছাড়বো না , ছাড়বো না আঁচল, বলো আগে , যাবে আমার সাথে,
এদেশ থেকে ওদেশ, পাহাড় নদী সব পেরিয়ে।
ওরে পাগল— অনেক বড়ো হয়ে , তুই উড়বি আকাশ জুড়ে, অনেক ওপর দিয়ে ।
আমি দাঁড়িয়ে এই উঠোন মাঝে
দেখবো খোকন যাচ্ছে আমার
জয়ের ধ্বজা নিয়ে ।
দেখবো দুচোখ ভরে— আমার খোকন অনেক উঁচুতে যাবে
আমি না হয় মাটিতে থাকি, মাটির মা হয়ে ।
দুপুরবেলা মায়ের চোখ বুজে এলে— খোকন–
পা টিপে টিপে মায়ের চোখে দেয় যে ফাঁকি
মায়ের আঁচল ছাড়িয়ে চুপিচুপি কাগজের প্লেন গড়ে
বাড়ির পাশে বিরাট মাঠে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ছুটে প্লেন নিয়ে খেলা করে।

খোকন এখন অনেক বড়ো, মস্ত পাইলট
তবুও যখন আকাশ থেকে দেখে নীচে
চোখের সামনে ভেসে ওঠে উঠোন জুড়ে মা,
গায়ের গন্ধ ভেসে আসে দূর থেকে।
দীর্ঘ—–শ্বাস নিয়ে খোকন উড়ে চলে নদী পাহাড় পেরিয়ে দূরদেশান্তরে —-

প্লেনের শব্দ পেলেই মা , একছুটে উঠোনে দাঁড়ায় এসে–
একলা উঠোনে , আলগা আঁচল হওয়ায় ওড়ে
প্রাণ ভরে আশীর্বাদের হাত ওঠে খোকনের মাথায় —

অনেক ওপরে আকাশ জুড়ে তার খোকন , মাটিতে দাঁড়িয়ে তার মা—-তার মাটির মানুষ মা।

——————————————–

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com