Breaking News
Home / Breaking News / দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

আমার তুমি
কলমে : প্রকৃতি

তুমি থাকো আমার বুকে নয় মাথায়
তোমায় না পেলে আমি যে অন্ধ প্রায়
তুমি আমার জীবনের একমাত্র আপন
তুমি ছাড়া আমি যে বড্ড অসহায় এখন
তোমার অনুপস্থিতি! হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া
তোমায় খুঁজে মরি হয়ে পাগল হাওয়া
তোমাকে ঘিরেই পৃথিবী আমার
তোমার ছোঁয়ায় স্পষ্ট আজ,
যা ছিলো অগোচর….
ইতি আমার চশমা 👓


——————————————–

বোঝাতে পারিনি আমি
দোলা ভট্টাচার্য্য
26.2.2022

সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিক।মধ্যপ্রদেশ ভ্রমণের দ্বিতীয় পর্বের মধ্যভাগে তখন আমরা। দুপুর বারোটা নাগাদ পৌঁছলাম মহেশ্বর ।নর্মদা রিট্রিট এ ঘর বুক করাই ছিল। খুব ভোরবেলায় ওঙ্কারেশ্বর থেকে বেরিয়েছি। সালটা 2013 । না না। কোনো ভ্রমণ কাহিনী লিখতে বসিনি আমি। যে স্মৃতিচারণ করতে চলেছি , তার জন্য যেটুকু বর্ণনা দরকার, সেটুকুই দেব।
এখানে আসার পর লাঞ্চ সেরে রাণী অহল্যাবাঈ ফোর্ট দেখতে গিয়েছিলাম।
ঘুরে এসে একটু বিশ্রাম নেবার জন্য ঘরে ঢুকলাম আমি। আর কর্তামশাই মেয়েকে নিয়ে বেরোলেন, রিসর্টের আশপাশটা একটু ঘুরে দেখবেন। একটুখানি চোখ দুটো লেগে গিয়েছিল। হঠাৎ চেঁচামেচি করতে করতে মেয়েটা ঘরে এসে ঢুকল, “ওমা! শিগগিরই চলো। নদীর ঘাটে সূর্যাস্ত হচ্ছে কি সুন্দর। বাবা তোমাকে ডাকছে। তাড়াতাড়ি চলো”। দরজায় তালা দিয়ে বেরিয়ে এলাম। রিসর্টের পেছনে খানিকটা হেঁটে যেতেই চোখে পড়ল নর্মদার ঘাট। রিসর্টের নিজস্ব ঘাট এটা। পায়ে পায়ে ঘাটের শেষ সিঁড়িতে এসে দাঁড়ালাম। নর্মদার জলে তখন সূর্যাস্তের রক্তিম আভা । তাকিয়েছিলাম সেদিকেই । নদীর অন্য পারে দিবাকরের অন্তিম শয্যা রচিত হয়েছে, জলে যেন আগুন লেগে গিয়েছে। জ্বলে উঠেছে দিনমণির চিতাগ্নি। সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হু হু করে কেঁদে ফেললাম। মনে পড়ে যাচ্ছে। সব মনে পড়ে যাচ্ছে। মাত্র তিনমাস আগে এই রকমই এক দিনে একটা জীবনের অবসান দেখেছিলাম। সেদিন আমাদের গঙ্গার বুকে এভাবেই জ্বলে উঠেছিল দিবাকরের চিতার আগুন। এর আগে আমি কখনো শ্বশানে যাইনি। দেখিনি কখনো কোনো মনুষ্য দেহকে চিতার আগুনে বিলীন হয়ে যেতে।
মৃত্যু কে বড় ভয় পাই আমি। জানি এটাই চরম পরিণতি, যা সবাই প্রাপ্ত হবে। তবু অপরিসীম ভয়।
মনে আছে, পুরী বেড়াতে গিয়েছিলাম। বাবা আর ভাই সেবারে আমাদের সফর সঙ্গী হয়েছিল ।আমার মেয়েটা তখনও ভালো করে হাঁটতে শেখেনি। সারাদিন ঘোরার পর সন্ধ্যা নাগাদ আমাদের গাড়ি টা এসে দাঁড়াল স্বর্গদ্বার শ্বশানের সামনে। ড্রাইভার বলল, “খুব বিখ্যাত এই শ্বশান। দেবতাদের বিচরণ ক্ষেত্র, বড় পবিত্র এই স্থান। যান, ভেতরটা দেখে আসুন।” বাবা বলেছিলেন, “না, আমার মেয়ে বড় ভয় পায়। আমরা কেউই যাব না শ্বশান দেখতে”। বাইরে থেকেই হাতজোড় করে প্রণাম করেছিলেন বাবা শ্বশানবাসী দেবতাদের উদ্দেশ্যে। আর আমি তখন আমার বাচ্চাটাকে বুকের মধ্যে আঁকড়ে নিয়ে বাবা আর কর্তামশাইএর মাঝে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
বেনারসে বেড়াতে গিয়ে ঘাটগুলো আমরা নৌকা করে ঘুরেছিলাম।ঘাট গুলোর কাছে যাইনি। এখানকার অনেকগুলো ঘাটে শবদাহ হয়। সে দৃশ্য থেকে আমাকে সরিয়ে রাখার জন্য এই ব্যবস্থা। মণিকর্ণিকা ঘাটের কাছে আসতেই টের পাওয়া গেল, এখানে দাহকার্য চলছে। বাবার নির্দেশে কর্তামশাই মাঝিকে আর এগোতে বারণ করলেন। এইসব দৃশ্য যাতে আমাকে দেখতে না হয়, সেজন্য বাবা বরাবর সচেষ্ট ছিলেন। আর সেই বাবার দেহটা আমারই চোখের সামনে যখন চিরতরে অগ্নিগ্রাসে লীণ হয়ে গেল, কি করে তা সহ্য করতে পারি! এত ভয়ংকর দৃশ্য যে এর আগে কখনো দেখিনি আমি।
সেদিন সকালে মেয়েকে কম্পিউটার ক্লাসে পৌঁছে দেব বলে বেরোচ্ছিলাম। তখনই ভাই এসে খবর দিল, বাবা খুব অসুস্থ ।এখনই যেতে হবে। বাড়িতে পৌঁছে দেখলাম, সমস্ত অসুস্থতা কাটিয়ে বাবা এক শান্তির জগতে বিরাজ করছে। একদম কাঁদিনি। জানতাম, প্রিয় মানুষদের কাছ থেকে পাওয়া যন্ত্রণাগুলো আর সহ্য করতে পারছিল না মানুষটা। মৃত্যুর দিন গুণছিল। কখন মানুষটা চলে গেল, তাও জানে না ওরা। আমি জানতাম।আগের দিন মাঝরাতে চলে গেছে বাবা। ঠিক ওই সময়ে ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখেছিলাম আমি। দেখি বাবা আমাদের অন্ধকার উঠোন টা পেরিয়ে বাড়ির বাইরের দরজাটা খুলে বেরিয়ে এল। আমিও তখন বাড়ির গেটের সামনে। আমি ঢুকতে যাচ্ছি, আর বাবা বেরিয়ে আসছে। জিজ্ঞেস করলাম, “কোথায় যাচ্ছো বাবা”?
বাবা বললো, “আমি চলে যাচ্ছি, তোমার মা নিতে এসেছে আমাকে। ওই দ্যাখো।”
দূরের দিকে তাকিয়ে দেখি, অন্ধকারের মধ্যে থেকে মায়ের দেহটা আলোর মতো ফুটে উঠছে ক্রমশ। আমি বললাম, “আমিও যাব তোমাদের সঙ্গে”।
বাবা বললো, “না। তোমার যে এখনও সময় হয়নি। অনেক কাজ বাকি আছে তোমার।” বলতে বলতে বাবা এগিয়ে গেল মায়ের দিকে। তখনই স্বপ্ন টা ভেঙে গেল। ঘড়িতে দেখলাম, রাত তখন তিনটে। তবে এত তাড়াতাড়ি ঘটনাটা ঘটবে ভাবিনি।
সেই থেকে বসেছিলাম বাবার পাশে। কত লোকজন আসছে। সদ্য সত্তর পেরোনো এই মানুষটির প্রতি কত ভালবাসা তাদের। অন্তরের ভালবাসা দিয়ে বিদায় দিতে এসেছে তারা আমার বাবাকে। রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত ছিলেন মানুষ টা। বহু মানুষের উপকার করেছেন একটা সময়ে। আজ তারাই ভেঙে পড়েছে আমাদের বাড়িতে।
বাবার শেষ যাত্রার সাথী প্রায় শ দেড়েক লোক। তখন তো করোনা ছিল না। বিরোধী দলের নেতারাও এসে মালা পরিয়ে গেল বাবাকে। এমনটা আগে সত্যিই দেখিনি।
পুরোহিত মন্ত্র পাঠ করছে। পিন্ডদানের প্রস্তুতি চলছে। খুব যত্ন করে বাবাকে স্নান করানো হল। এরপর পিন্ডদানের পালা। মাথা নিচু করে কাজগুলো করছে ভাই। শুকনো খরখরে দুটো চোখ নিয়ে ওর পাশে বসে আমি দেখছি বাবার অন্তিম কাজ। আগে কখনো দেখিনি যে।
শেষ হল কাজ। ভাইয়ের হাত ধরে প্রদক্ষিণ করলাম বাবাকে। তারপর চিতায় অগ্নি সংযোগ করল ভাই। বাবার প্রতিটি কাজ সেদিন আমাকে সাথে নিয়ে করছিল ও । কেউ কোনো আপত্তি করে নি। সকলেই জানে আমরা দুটি ভাইবোন ছিলাম বাবার কলিজার টুকরো।
দিনের শেষে দিবাকর তখন অস্তে নামার আয়োজন করছেন। ঠিক তখনই দাউদাউ করে জ্বলে উঠল আগুন, আমার বাবাকে ঘিরে ।সেইদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ভেঙে পড়লাম কান্নায়। এ দৃশ্য কোনোদিন দেখিনি। আর দেখতেও চাইনা কোনোদিন।
সেদিন মহেশ্বরে নর্মদার ঘাটে দাঁড়িয়ে দিবসের অন্তিম অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে সেদিনের কথাই মনে পড়ছিল খুব। চোখ দিয়ে জল পড়ছিল অঝোরে। কর্তামশাই সেদিন বলছিলেন, ” এটা তো হবারই ছিল। মানুষ যে মরণশীল। চিতার আগুনেই সব শেষ। মেনে নাও। মেনে নিতে হয়।” সত্যিই তো, সবার কাছে এ অতি স্বাভাবিক ঘটনা। স্বাভাবিক আমাকে যে হতেই হবে। আমার অন্তরের অনুভবের কথা কোনোদিন কারোকে বুঝিয়ে উঠতে পারবো না জানি ।

——————————————–

টিকিটখানা কই

ঠকঠকাঠক ট্রেন ছুটেছে ট্রেন স্টেশন কই
ফটফটাফট উঠে পড়ছো টিকিটখানা কই।
টিটি মামা এলো বলে এখন তুমি পালাবে কই
টিকিট যদি না থাকে মাথায় তবে ফুটাবে খই।

জরিমানা গুনতে হবে দিতে হবে অধিক টাকা
তাই বলে কী ঝাঁপিয়ে পড়বে নিচে ট্রেনের চাকা।
মান সম্মান বাঁচাতে তুমি দিবে এখন গা ঢাকা
নইলে আবার গুনতে হবে অধিক হারে টাকা।

নিয়ম মেনে চললে সবে হবে না তো কোনো সাড়া
সম্মান খোয়ার ভয় নাই থাকবে বুকটা খাড়া।
এভাবে আর উঠবেনা কভু ট্রেনে টিকিট ছাড়া
শান্তি তুমি পাবে তবে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া।

~~শাফী~~
২৬/০২/২২ইং

——————————————–

” কনডেম সেল ”
🖋️ নাসরীন আক্তার বীনা
২৬/২/২০২২

বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছিলো,
এরপর মেনে নাও মানিয়ে নাও এ কেটেছে পাঁচ বছর।
মানিয়ে নেয়ার সীমা অতিক্রম করে চলার পথ হয়েছে আলাদা,
তিন বছরের কন্যা নিয়ে তেইশ বছরের ঠিকানায় ফেরা।
আমি কর্মজীবী নারী, অভাবও নেই, বেশি কিছুর প্রত্যাশাও নেই,
শুভু সমাজের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে, মুখোশ পরা হায়নাদের থেকে রক্ষা পাওয়া।
ভালোই কেটে গেল কয়েকটি দিন,
আস্তে আস্তে চারপাশের দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করে।
সম্পর্কগুলো যেন নতুন রুপের আবির্ভাব,
সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যেতে থাকলো স্বাধীনতা।
পারিবারিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেই, নেই কোন মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
বছর পাঁচেক আগেও পারিবারিক অনুষ্ঠানের সকল দ্বায়িত্বে ছিল যে,
আজ শুধু কাজের লোকের ভুমিকা।
নতুন আত্মীয়দের সাথে পরিচিত হওয়া বা কথা বলা বারণ,
এ যে নিজ বাড়িতে পরবাসী,
কোন শুভ অনুষ্ঠানে উপস্থিতি কাম্য নয় কারো,
কর্ম সুত্রে কোথাও যাওয়া,কারো সাথে কথা বলা
সবকিছুতেই জবাবদিহিতা ছোট বড় সকলের কাছে।
চলন, বলন ওঠা- বসা সবকিছু নিয়ন্ত্রণাধীন,
পোশাক বা সাজসজ্জার ও বহু বিধি নিষেধ।
আপনজনের কাছেও যেন এক ভারি বোঝা,
এ যে জীবন্মৃত।
মেয়েটি বড় হচ্ছে ধীরে ধীরে,
সে বুঝতে পারে এখানে আমরা অনাহুত।
সে যেতে চায় অন্য কোথাও,এখান থেকে অনেক দুরে,
চারপাশের মুখোশধারী হায়নাদের ধারনা তার নেই।
এ সমাজ একজন সিঙ্গেল মাদারকে নিরাপত্তা দিতে পারেনা।
তাই সংসার ভাঙ্গা মেয়েদের অতি প্রিয় বাবার বাড়িও হয়ে যায় কনডেম সেল।

——————————————–

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com