Breaking News
Home / Breaking News / দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

হার হাভাতে মোবাইল মিস্ত্রীর গপ্প ।
রচনাঃ মোঃ বিনয় আমিন ।
এক হার হাভাতে মোবাইল মিস্ত্রীর কাছে আমার মোবাইল মেরামত করতে দিয়ে আমি বড়ই পেরশানিতে আছি । জোড়াতালি দিয়ে আমার সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইলটা ঠিক করেছে কোনরকমে । ব্যাটারি চার্জ থাকা বলে একটা বিকল্প ব্যবস্থা করে দিয়েছে । সেটা আগলা একটি বক্সে করেছে যা আমাকে সাথে নিয়েই চলতে হয় । এখন সেটিও কাজ করছে না বড় পেরশানি নিয়ে মিস্ত্রীর কাছে গেলাম । আমাকে এক গাল হাসি দিয়ে বলে , ” ভাই আসেন ,কি খবর ? মোবাইল চলছে ত ঠিক মত ?” আমি রেগে বলি , ” তোমার মাথা চলছে , এখত চার্জই হয় না , ঠিক করে দেও । ” সে বলে , ” আমি জানি আপনি আসবেন তাই ব্যবস্থা করে রেখেছি ভাই — আপনার জন্য একটা দামি আর ভাল ব্যাটারি রেখেছি । একবার চার্জ দিলে কমপক্ষে এক মাস চলবে — এই যে আপনার ব্যাটারি ।” বলেই নিচে থেকে বেশ কুস্তাকুস্তি করে একটা কিছু তুলে এনে সামনের টেবিলের উপরে রাখে । ব্যাটারি আর সাইজ দেখে আমার চোখ চড়কগাছ হয়ে গেল । অনেকটাই রেগে বলি , ” তোমার কি মাথা ঠিক আছে ?” সে এক গাল হেসে বলে , ” মাথা ঠিক না থাকলে চলবে ? কত চিন্তা ভাবনা করে এটি বের করেছি । ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে আমার কাছে নিয়া আসবেন আমি দুই ঘন্টায় ফুল চার্জ করে দিব । ” চেয়ে দেখি এটি ট্রাকের ১২ ভোল্টের ব্যাটারি ! আমি এবার চেচিয়ে বলি,” এটি গাড়ির ব্যাটারি — এটি বহন করতে লোক লাগবে না ? বাইরে গেলে ?” সে এক গাল হেসে বলে , ” রাখবেন , অসুবিধা কোথায় ? ভাল সার্ভিস পেতে গেলে একটু ত খরচ করতে হবেই ভাইজান । ইউজ করা সহজ এই খুলবেন আর এই লাগাবেন । ” আমি কি বলব ? তারপরে বলি , ” আচ্ছা — শুধু কি বাটারির সমস্যা ? সাউন্ড ও কমে গেছে ,এটার কি হবে ? ” মেকার মিস্টি করে হেসে বলে,” এটা কি কোন বিষয় ? ” বলে পাশের ফ্লোর টেনেটুনে কিছু একটা তুলে টেবিলের উপরে রাখে , চেয়ে দেখি দেড় ফুট উঁচু একটি সাউন্ড বক্স ! আমি বলি,” এটা কি ? সে হেসে বলে,” ভাই এটি ডিজে সাউন্ড বক্স ! যত জোরে চান শুনতে পারবেন । ” আমি বলি , ” একদিকে বাটারি তার সাথে যগ করলে সাউন্ড বক্স এটি বহন করবে কে ?” সে যুক্তি দেখিয়ে বলে ,” পুরাতন ভাংগা মোবাইলের ভাল সার্ভিস চান , সাউন্ড বক্সের জন্য একজন লোক রাখবেন না ? ভাই এটি আপনি কি বলেন ?”
আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি , এবার রেগে বলি , ” তুমি আসলে কাজ জান ?” সে এবার নিজেই রেগে বলে, ” কি বলেন ভাই ? কাজ না জানলে এসব ব্যবস্থা কি ভাবে করছি ? কই আপনি পারলেন না । দুইজন লোক রাখতে অসুবিধা কোথায় ?” আচ্ছা , আমি কাদব নাকি হাসব ভেবে পাচ্ছি না , মোবাইলে আরেকটি দোষ আছে , বলব কি ভাবছি । বলেই ফেলি । ” তুমি হাত দেয়ার পর থেকে আমার মোবাইলে নানান রোগ হয়েছে , গতকাল থেকে লাইট জ্বলে না । ” সে কথা শেষ না হতেই বলে , ” শুনেন ভাইজান আমি হলাম মোবাইল মিস্ত্রীদের ওস্তাদ , এমনি এমনি অস্তাদ মানে ? আপনার মোবাইলের লাইটের সমস্যাও মিটিয়ে দিচ্ছি ।” বলেই পাশের রেকের উপর থেকে একটা লম্বা কিছু একটা বের করে আনে । আমি ভয়ার্ত দৃষ্টিতে সেটার দিকে বলি ,” ভাইরে এটা আবার কি ?” সে একগাল হেসে হেসে ,” কেন ? চিনেন না ? এল ই ডি টিউব লাইট , ১২ ভোল্টে জ্বলবে । যখন দরকার পড়বে শুধু ব্যাটারি দুইপ্রান্তে লাগিয়ে দিবেন আর কি ? কি ফোকফোকা আলো — দিনের মত হয়ে যাবে ছবি তুললে দিনের মত আসবে ! ধারান ভাই টেস্ট করে দেখাই । ” আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে পাশেই কারেন্টে লাগায় লাইটের দুই তার আলোতে ঝলমল করে উঠে চারপাশ । ” দেখলেন ভাইজান ? কত আলো । এবার সবই ত দেখিয়ে দিলাম কিভাবে ইউজ করবেন — সোজা এবার দাম দেন । বাটারির দাম চার হাজার টাকা , ডিজি সাউন্ড বক্সের দাম দুই হাজার — আর দামি আছে , যাক এটাই নেন । আর লাইটের দাম পাচ শত টাকা । আর আমার সার্ভিসিং খরচ পাঁচ শত টাকা । মোট সাত হাজার টাকা । ভাই তাড়াতাড়ি দাম দেন মালিক আসলে আমার খবর আছে ?” আমি জিজ্ঞেস করি , ” কি খবর আছে তোমার ?” ভাই বুঝলেন না ? আপনারে কম দামে মাল দিচ্ছি শুনলে আমার চাকুরিই থাকবে না । ভাই তাড়াতাড়ি করেন । ” বলে আমাকে তাড়া লাগায় । আমি কাষ্ঠ মুখে বলি , ” লাইট বহনের জন্য একজন লাগবে না ?” সে বলে , ” লাগলে , লাগাবেন না ? এটা আর কত লাগবে দুই হাজার টাকা বেতন দিবেন ! ” বলে একগাল হাসে । এবার এটম বোমার মত বিস্ফোরিত হয়ে বলি , ” আরে ছাগল মিস্ত্রি — তোমার ব্যাটারি বহনের জন্য একজন লোক যাকে দশ হাজার , ডিজের জন্য পাঁচ হাজার আর লাইটের জন্য দুই হাজার মোট সতের হাজার টাকা মাসে লাগবে আর আমি মোবাইল কিনেছি তিন হাজার টাকায় — ফাজলামি করার যায়গা পাও না ?” সে তার চেহারা করুণ করে বলে , ” ভাই ভাল বুদ্ধি দিয়েছিলাম ।” আমি মোবাইলটা হাতে নিতে নিতে বলি, ” এতো বুদ্ধি নিয়ে ঘুমাও কিভাবে ? ”

——————————————-

স্মৃতিপটে আঁকা একুশে ফেব্রুয়ারি।।
কলমে-মনোজ ভট্টাচার্য্য।
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
স্মৃতিপটে আঁকা রবে যুগ যুগান্তর ধরি,
উনিশশো বাহান্ন সালের
একুশে ফেব্রুয়ারি।।

ভাব প্রকাশের ভাষা মোদের
বাংলা ভাষা কে,
প্রতিষ্ঠা দেবে না ওরা
পণ করেছে যে!

মদত পুষ্ট মার্কিনীদের,
পাক- শাসকেরা,
চরমপন্থী উঠল হয়ে,
নাছোড়বান্দা তারা।

আরবি হরফে লিখতে হবে,
বাংলা ভাষাকে,
উর্দু ভাষা হবে রাষ্ট্রভাষা,
পূর্ব -পাকিস্তানেতে।।

রণরঙ্গে মাতলো তখন
মোদের পূর্বসূরী,
গর্জে উঠল এক যোগেতে
অধিকার নিতে কাড়ি।।
রক্তগঙ্গা গেল বয়ে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে,
নির্বিচারে চালাল গুলি পুলিশ তাদেরকে।।
রফিক ,জব্বার, সালাম, বরকত আরো কত প্রাণ,
বলিদান যে গেল হয়ে,
নাইকো তার হিসাব !!

পরাজয় তবু হয়নি মোদের
পরাজয় হল শাসকের,
উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার,
মর্যাদা দিতে নেরেছে।।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ,
এই স্মরণীয় দিন টিকে,
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার,
শুভ দিন বলে মেনেছে।।

শহীদ হয়েছে রক্ত ঝরিয়ে,
ঘুমিয়ে আছে মায়ের কোলে,
সেই শহীদেরে এই দিনটিতে,
স্মরণ করি শ্রদ্ধার সাথে।।

বেঁচে রবে তাঁরা হৃদ মাঝারে,
যুগ যুগান্তর ধরি,
তাদের জন্যই মাতৃভাষারে,
নিয়ে গর্ব করি।।

——————————————-
শিরোনামঃ “একুশ স্বরণে”
কলমেঃ এইচ,এম আমিরুল ইসলাম।
তারিখঃ ২১/০২/২০২২ইং
—————/////————-
জন্মের পরে প্রথম ডাকা মা
তার জন্য জীবন দিতে হবে
বুঝেনিতো তো এই বাঙ্গালিরা।

শত দেশের বাস দুনিয়ায়
জীবন দিয়েছে ভষার জন্য
নেই কোন জগৎ সীমানায়।

এই দিনে হয়েছেন শহীদ
বাংলার সোনার ছেলের দল
মরেও তারা, করে ঝলোমল।

জগৎ ধরায় বাংলা থাকবে
তাদের ত্যাগেই রয়ে যাবেই,
এখানে সেখানে সর্ব খানেই
তাদের স্বরণ আজ হবেই।

আজকে বাংলায়, বাংলা যে বলা
যাদের তরে আমরা পেলাম,
মহান একুশের এই দিনে
স্বরণ করে তাদের গেলাম।

——————————————-

গল্প
রক্তের সম্পর্কের চেয়ে আত্মিক সম্পর্ক বড়
কৌশিক ভট্টাচার্য্য
20.02.2022
#

রাত বারোটার পর সুনসান বারুইপুর রেলস্টেশন।তার থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে বারুইপুর
মহকুমা হাসপাতাল। সেখানে একদিন একটা যা
কান্ড ঘটল, মানবিকতার দিক থেকে তা প্রথমে খুবই লজ্জাজনক মনে হলেও পরে অন্যরকমই লাগবে।
রাত বারোটার সময় ঐ হাসপাতালের উল্টোদিকে
থাকা মুদির দোকানের মালিক অরুপ বাগচি সবে দোকান বন্ধ করছিলেন।হঠাৎ ওনার চোখ পড়ল হাসপাতালের স্ক্যান বিভাগের সামনে পড়ে থাকা স্ট্রেচারে শুয়ে থাকা এক বৃদ্ধের ওপর। কপাল জুড়ে থাকা ভাঁজ।চোখ মুখের চামড়া কুঁচকে গেছে।এক মাথা সাদা চুল।সারা গায়ে চাকা চাকা দাগ।
অরুপদা দৌড়ে গেলেন হাসপাতালের কর্মীদের সাথে কথা বলতে।কর্মীরা বলল,”যা বলার,আমাদের সুপারকে বলুন।” মেডিকেল সুপার বললেন,”দেখুন।আমাকে বিরক্ত করবেন না।আমাকে কিন্তু কেউ এ ব্যাপারে কোনো খবর দেয়নি।আপনি এবার তাহলে আসুন।”
পরদিন সকালে যখন অরুপবাবু ওনার দোকান খুললেন,বৃদ্ধ ঘোলাটে দৃষ্টি নিয়ে আকাশ দেখছেন আর গোঙাচ্ছেন। এই সব দেখেশুনে,অরুপবাবু স্থানীয় থানায় ফোন করলেন।”হ্যালো,স্যার।আমি বারুইপুর কনজিউমার স্টোরসের মালিক অরুপ বাগচি বলছি।কাল রাত বারোটা থেকে এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক পড়ে আছেন এখানে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের সিটি স্ক্যান বিভাগের সামনে।প্লিজ।স্যার।ওনাকে বাঁচানোর জন্যে কিছু ব্যবস্থা করুন।হ্যাঁ,স্যার।হাসপাতালের সুপারকেও বলেছি।উনি পাত্তাই দেননি।প্লিজ,কিছু করুন।কি বললেন,লোক পাঠাচ্ছেন?অনেক ধন্যবাদ স্যার।”
হাসপাতালের সুপার চেম্বারে ঢুকতে যাবেন।ফোন বাজছে।একি?Baruipur Police station officer in charge calling! সুপারের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ল।”কি হয়েছে,স্যার? না। না। বিশ্বাস করুন।আমার হাতে কোনো লোক ছিল না।না। না।এক্ষুণি লোক পাঠাচ্ছি।তারা যা বলবে,সেই মতো এ্যাক্শন নেবো।”
ওদিক থেকে ওসি ধমকালেন,”নিচ্ছি নয়।নিয়ে রিপোর্ট করবেন। না হলে বুঝতেই পারছেন?” ওসি ফোন ছাড়তে যেন একটু হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন সুপার।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই,পুলিশের জিপ এসে থামল সেখানে।সেই খবর পেয়েই সুপার দৌড়ে এলেন।পুলিশকর্তার সামনে তৎপরতা দেখাতে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন সুপার।
ভদ্রলোকের জামা প্যান্ট ভালো করে তল্লাশি করা হল।কিন্তু ওনার কোনো নাম,ঠিকানা পাওয়া গেল না।এমনকি ফোন নাম্বারও নেই! এবার সুপারকে ওসির পাঠানো পুলিশ সার্জেন্ট বললেন,”আপনি দয়া করে এবার আপনার কাজ করুন।”
ওনার ব্লাডসুগার,প্রেসার,এমনকি অক্সিমিটারে
অক্সিজেনের মাত্রা,সব মাপা হল।ই.সি.জিও করা হল।সার্জেন্ট বললেন,”আপনি ওনাকে কোনো ওয়ার্ডে ভর্তি করেননি কেন?” সর্বদা হাসপাতালের দোর্দন্ডপ্রতাপ সুপার এবার ঐ পুলিশ সার্জেন্টের সামনে হাত কচলাতে লাগলেন,”মানে,মানে,আসলে না,স্যার,এখানকার কোনো ওয়ার্ডে বেড খালি ছিল না।স্যার,আমি বলি কি,ওনার তো মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে।তা বলছিলাম স্যার যে এখানে তো হার্টের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই।তা আপনি দয়া করে যদি ওনাকে এখনি বারুইপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।আমি ঐ হাসপাতালের সুপারকে ফোন করে দিচ্ছি।” সার্জেন্ট বললেন,”ঠিক আছে।আমার সঙ্গে একটাঅ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে দিন।” “না,স্যার,আসলে একটাই অ্যাম্বুলেন্স ছিল।সেটা তো এখনো মেরামত হয়ে ফেরত আসেনি!” সার্জেন্ট রেগে এবার চেঁচিয়ে উঠলেন,”দূর,একটা অযোগ্য লোক।আপনি একটা হাসপাতালের সুপার হয়ে বসে আছেন।আরে মশাই,চাকরি ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় বসে ভিক্ষে করুন।আপনার মতো জানোয়ারদের জন্যে একটা গরীব লোকের চিকিৎসা হবে না?” একটু থতমত খেয়েও সামলে নিলেন সুপার।”দেখছি,স্যার।এই,অমল।দৌড়ে যাও।এক্ষুণি একটা টোটো ডেকে আনো।”
ওনার আদেশমতো একটা টোটো ডেকে আনা হল। সার্জেন্ট দুই সহকর্মী সহ চেপে বসলেন তাতে।তখন সুপার বললেন,”স্যার,আমি টোটোর ভাড়া দিয়ে দিচ্ছি।” “চোপ! কিছু করতে হবে না আপনাকে। আপনি সুপারের কাজটা ঠিকমতো করুন।এর পর যদি কোনো অভিযোগ আসে আপনার নামে,তাহলে কিন্তু…..” কথা না বাড়িয়ে সুপার চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন। এবার গলাটা নামিয়ে সার্জেন্ট সুপারকে বললেন,”চিন্তা নেই।ওখানে গিয়ে আপনাকে খবর দিচ্ছি।এই,ভাই,টোটো চালাও তাড়াতাড়ি।”
বারুইপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে গিয়ে এঁরা পৌঁছতেই,সসম্ভ্রমে হাসপাতালের সদর দরজা খুলে দিল দারোয়ান।যথাস্থানে টোটোটাকে ফেলে রেখে দিয়ে,টোটোওয়ালা,সার্জেন্ট,তাঁর দুই কর্মী,ঐ বৃদ্ধকে হাতে ধরে নামালেন।ওনাকে ঐভাবে এমার্জেন্সী ওয়ার্ডে নিয়ে যেতেই, কর্তব্যরত ডাক্তার জানালেন,”একটু আগেই মহকুমা হাসপাতালের মেডিকেল সুপারের ফোন পেয়েছি।এখনি ওনাকে কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি করে দাও।ওখানে পনেরো মিনিট অন্তর ওনার পরীক্ষা হবে।যা যা রিপোর্ট পাবো,সব আপনাকে জানাবো আর ঐ সুপার সাহেবকেও ই-মেইল করে দেবো।”
বিকেলে সার্জেন্ট বৃদ্ধের বেডের কাছে এলেন।বৃদ্ধের মুখে এক গাল হাসি।সার্জেন্টের কপালে হাত রেখে বললেন,”বাবা,তুমি আমার জন্যে যা করলে আমার নিজের ছেলেও বোধহয় এতটা করত না।” ওনার হাত দুটো ধরে সার্জেন্ট বললেন,”ছাড়ুন তো। ও সব সবাই করে। আপনার কে কে আছে?কোথায় গিয়ে থাকবেন? যেখানে যাবেন বলুন।আমি পৌঁছে দিয়ে আসব।” বৃদ্ধ ডুকরে কেঁদে উঠলেন। “আমার কেউ নেই,বাবা। একমাত্র ছেলে,ওর মা মারা যাবার পর আমার বাড়িটা প্রোমোটারকে দিয়েছিল।আমাকে দিয়ে চুক্তিপত্রে সই করিয়ে আমাকে ওর মামার বাড়ি নিয়ে যাবে বলে আমার সাথে হাওড়া স্টেশনে আসে।তার পর টিকিট কাটতে যাচ্ছি বলে আমাকে ফেলে রেখে সেই যে হাওয়া হয়ে গেল,তার পর চার বছর ধরে পথে পথে ভিক্ষে করে খাই। পথেই আমি একদিন অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। তার পর কে যে আমাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের সামনে রেখে গেল আমি নিজেই জানি না। ভাগ্যিস তুমি এসেছিলে।নইলে প্রাণে বাঁচতাম না।”
শুনে সার্জেন্ট কপালে হাত দিয়ে বসে পড়লেন। তা আপনার ছেলের নাম কি?কোথায় থাকতেন?সব বলুন।আমি দরকার হলে ওসি সাহেবকে বলে একটা ডায়েরি করে রাখবো ওনার নামে।কি রকম জানোয়ার?আমি ওর কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করব।” বৃদ্ধ ওর হাত ধরে বললেন,”না। না।তুমি ওকে কিছু করো না। হাজার হোক আমার ছেলে ত,বাপ হয়ে কি ছেলের ক্ষতি চাইতে পারি?” সার্জেন্ট চোখের জল সামলে নিয়ে বললেন,”না।আপনি যখন মানা করছেন তখন কিছু করব না। জানি ত বাবারা কখনো ছেলের ক্ষতি করতে চায় না।তবে ওকে পাপের ফল পেতেই হবে। তখন ও ঠিক বুঝবে কি করেছে।”
সার্জেন্ট এবার বৃদ্ধকে বললেন,”দেখুন।আমি একটা কথা বলছি।যখন কোথাও আপনার যাবার জায়গা নেই আপনি আমার বাড়ি চলুন। আমি একাই থাকি।বিয়ে থা করিনি।আপনার কোনো অসুবিধে হবে না।”
বৃদ্ধ কিছু বলছেন না দেখে সার্জেন্ট বললেন,”কি?আমি কি আপনার ছেলে নেই?কি হল?আমার কাছে আপনার এত কিসের লজ্জা বলুন তো?আমি কি খূব খারাপ লোক বলে মনে হচ্ছে আপনার?” বৃদ্ধ এবার কাঁদতে কাঁদতে বিছানায় উঠে বসলেন।সার্জেন্টের হাত চেপে ধরে বললেন,”না। না। বাবা।ভগবান আজ বুঝিয়ে দিলেন যে রক্তের সম্পর্কের চেয়ে আত্মার সম্পর্ক অনেক বেশি গভীর।নিশ্চয় তোমার কাছে থাকবো,বাবা।তোমার কল্যাণ হোক।”

——————————————–

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com