Breaking News
Home / Breaking News / দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

বিভাগ-কবিতা
শিরোনাম ” ওরা ”
কলমে — সূর্যকন্যা তপতী (তপতী দাস)
তারিখ- ১৬/০২/২০২২
USA সময় 8:45 PM
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
বসন্ত বাতাসে সজনে ফুলের গন্ধ ভাসছে
ঢিম্ ঢিম্ ঢোলকের তালে তালে
সুরে সুরে মিলিয়ে গলা
গাইছে ওরা দুলে দুলে
ফাগুয়ার গান—
সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর
এখন সাঁঝবেলা, ওদের অবসর—
বিহারের ছাপড়া জেলা কিংবা মুঙ্গের
রাজস্থান, নয়তো বা অন্য কোথাও
অন্য কোনও দেশ–!!!
এখন ওদের ঠিকানা
এই বাংলার কোলকাত্তার ডেরা–
গাইছে ওরা উচ্চ স্বরে
দুঃখ কষ্ট সব ভুলে–!!
চড়িয়ে গলা–
‘আয়া– রে –আয়া–রে–আয়া
আয়া —ফাগুয়া–
কানহা সঙ্গ হোরী খ্যালে বৃজবালা–
আয়া –রে–আয়া–রে আয়া
আয়া ফাগুয়া—
হোলি হ্যায়— হোলি হ্যায়–
ফাগুন বাতাসে ছড়ায়
আবীরের লালি—
ঢোলকের আওয়াজ দ্রুত হয়
গানের কথা গুলির হয় পুনরাবৃত্তি
গাইতে গাইতে যেন ওরা গেছে ভুলে
সারাদিনের হাড়ভাঙা কাজের খাটুনি
ওদের কেউ বা চালায় রিকশা, কেউ বা মজদুর
কেউ বা বাবুর বাড়ির পাহারাদার
কিংবা ড্রাইভার–
‘গাঁও’তে আছে ওদের মা -বাপ , পুরা পরিবার–
ওদের রুক্ষ্ম চুলে আবীরের লালি
ফাগুয়ার গান শুনে দাঁড়ায় পথচারী
রাত বাড়ে–ডেরায় ফেরে ওরা–
কাঁচা লঙ্কা, পেঁয়াজ কুচি,ছোলার ছাতু
‘চুটকি ভর নমক’ আর এক লোটা জল
কিংবা গরমা গরম ফুলকা আর আলুর চৌকা
যদি থাকে ‘ইমলি ‘র চাটনি-জমে যায় খাওয়া
এই দিয়ে সারে ওরা রাতের খাওয়া—
ছাড়পোকা ভরা খাটিয়া কিংবা মলিন ‘বিস্তরা’
ওতেই নিশ্চিন্ত আরামে শুয়ে ঘুমায় ওরা
ঢোলকের আওয়াজ আর গানের সুরের মূর্ছনা
হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে আবীর গুলাল
শিমুল পলাশ রঙে রঙিন ফাগুন
আমের মুকুলে মৌমাছির গুন গুন গান
সজনে ফুলের গন্ধ মাখা ফাগুন বাতাস
আর ওই দ্যাখো—
‘গাঁও’ ছাড়া ক’ জন ওরা—
“সূর্যকন্যা তপতী”””

——————————————-+

কবিতাঃ “আমিও আমার ছাঁয়া”
কলমেঃ এম. আর হারুন
১৭/০২/২০২২
———————————————
কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে রাঙিয়ে
প্রতিদিনই আমি পথ চলি আমার ছাঁয়ার সাথে
সেতো আমার পরম বন্ধু,
আমার দুঃখ বেদনা যন্ত্রনার চিরসঙ্গী
বলেই আমিও তাঁকে ছাড়তে পারিনা,
কে বা পারে ছাঁয়ার মায়া ত্যাগ করতে
পৃথিবীর বুকে কেউ নেই।

আমার মৃত্যু হবে, আমি পরবাসী হবো
কিন্তু ছাঁয়া কি পারবে আমায় ছাড়তে
এর কোনো নিশ্চয়তা নেই,
পৃথিবীর সব পথ হেটে শেষ করে
যখন বিশ্রাম নিই, তখনও?
ছাঁয়া আমার জীবন্ত সঙ্গী হয়ে থাকে,

বহু বছর ধরে, বহুকাল
আমার নিঃশ্ব মনে আমি হেটেছি
জীবনের জলতরঙ্গে খেলা করেছি,
পাহাড় পর্বত বনাঞ্চল পেরিয়ে
রাতের অন্ধকারে যখন চাঁদের নীচে
দাড়িয়ে একটু নিঃশ্বাস নেই
তখনও আমার ছাঁয়া আমারই থাকে।

জীবনের পরিবর্তন করা মানুষের সম্ভব
মনের পরিবর্তন করা মনের সম্ভব
কঠোর থেকে কঠোর হতে পারে মানুষ
কিন্তু, ছাঁয়া, সেতো চিরন্তন,
না করে বেঈমানি, না করে অপদস্ত।
আমি শুধু একাই চলিনা
আমার সাথে চলে আমারই ছাঁয়া
দোসর হয়ে।

——————————————–
” কোয়ারান্টাইনে থেকেও অভিসারী শিলাই সুন্দরী”

চন্দন ভট্টাচার্য্য

অকস্মাৎ অন্ধকার নেমে এলো পৃথিবীর বুকে, কারখানার ভোঁ, হিমঘরের ঝলমলে আলো, বিলিতি আদলে গড়ে তোলা বিদেশী আসবাবে ভরা মার্বেলের মেঝে গুলো গ্রানাইট পাথরের মতো মিশকালো দেখায়। পর্বতের বুক চিরে, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ধারালো তরোয়াল দিয়ে কেটে কেটে আশ্চর্য যন্ত্রের সাহায্যে কেটে ছেঁটে, ঘষে মেজে, মাটিকে সরিয়ে দিয়ে থরে থরে সাজানো সব মার্বেল পাথরের মেঝে সহসা কখন অতি পিচ্ছিল ও সুপার সেনসিটিভ হয়ে গিয়ে আধুনিক বাবু বিবিদের পথের কাঁটা হয়ে যায়। হ্যাঁচকা টানে ঠেলে ফেলে দিতে চায় মেকী সভ্যতার উদ্ভিন্ন যৌবনা যুবক- যুবতীদের , পা পিছলে পড়ে যায় মার্বেলের মেঝেতে….হাতে চোট লাগে…পা মচকে যায়…ভাঙা দাঁতের রক্ত পান করে অট্টহাসি হাসে মাটিহীন ঝকঝকে তকতকে মার্বেলের মেঝে। কোথাও একটুকরো আলো নেই, পথবাতি নিভে গেছে, দিবানিদ্রা শেষে কাল পেঁচা গাছের কোটর থেকে বেরিয়ে এসে চিল চিৎকার করে…গর্ত থেকে সিম সিম করে বেরিয়ে পড়েছে শঙ্খচূড়, কালো খরিস, দুধে খরিস , সেঁকোচিতি , চন্দ্রবোড়া, কিংকোবরা , অজগর, মালকাঁকড়া , তেঁতুলেবিছে, আরো কিছু, আরো কতো সব। উদ্বেড়াল ঝাঁপ দেয় পুকুরের জলে। হায়না, নেকড়ে, কটাশ, শেয়াল, বনবিড়ালেরা মুক্ত বাতাসে সুখের শ্বাস নেয়। গাংচিল উড়ে এসে দুনিয়াজুড়ে লক ডাউনের খবর আনে, কোরোনার কামড়ে লাখো লাখো আক্রান্তদের খবর আনে, মৃতদের লাশ গুনে গুনে চোখের জল তার চোখেতে শুকায়। তবু হঠাৎ এই ঘনান্ধকারের সঠিক খবর দিতে পারে না কেউ। তবু জানি সব অন্ধকারেরও অন্য এক অন্ধকার থাকে, আকাশগঙ্গা ছায়াপথের সেই অসীম কালো গহ্বরের মতো। অযুত কোটি উল্কা নক্ষত্র নিহারিকা ধুমকেতুর এতো আলো, আমাদের প্রাণভোমরা সূর্যের অনন্ত ঘুর্ণন! তা সত্ত্বেও অন্ধকার সে, ব্ল্যাক হোল নাম তার…. মহাবিশ্বের এক মহা অন্ধকার স্থান। তবুও মানুষের ভাবনার শেষ নেই…চিন্তার শেষ নেই… গবেষণার শেষ নেই কোনো। সব আলো নিভে যাওয়া দেখে কোন একজন প্রযুক্তিবিদ রায় দিয়ে গেছে, পাওয়ার গ্রিড নাকি বসে গেছে….তাই আজ পৃথিবীতে এত অন্ধকার। তবে কি সবই অন্ধকার হয়ে গেলো….! না, কারো কারো ঘরে সহসা জ্বলে উঠলো ইনভার্টারের আলো…. যন্ত্রদানব জেনারেটর অন্ধকার অমানিশায় কিছুক্ষণ তর্জন গর্জন করে দিয়ে গেল আলো, শীততাপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রগুলো হল যে সচল। সাত তাড়াতাড়ি করে মুঠোফোন গুলো চার্জে বসিয়ে দেয় আধুনিক সভ্যতার জনক জননী, যুবক- যুবতী, কিশোর- কিশোরী।… তারপর অনিবার্যভাবে দৈত্যাকার জেনারেটরও স্তব্ধ হয়ে যায়…টান পড়ে পেটে, নিমেষেই ঘনান্ধকারে ছেয়ে যায় গগনচুম্বী ফ্ল্যাট বাড়ি। তবে কি এক্কেবারেই নেমে এলো ঘোর অন্ধকার….গা ছমছমে ঘনঘোর অমানিশা…. তিমির রাত্রি ! না, সবটাতো ঠিক নয়…. অন্ধকারেও তো লুকিয়ে থাকে এক আলো…। আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ আজ স্মার্টফোন হয়ে গেছে, গগনচুম্বী ইমারতের প্রকোষ্ঠে প্রকোষ্ঠে ‘টিকটকে’ মেতে উঠেছে অত্যাধুনিক আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ, নেট চ্যাটিং করে রমরমিয়ে এখনো চলে উদ্ভিন্ন পরকীয়া, পিতৃ সত্য পালনের জন্য আজকে আর যেতে হয়না সওদাগরের কণিষ্ঠা নন্দিনী ‘বেল’ কে বিকট দর্শন বুনো জানোয়ারের গুহায়….পায়না পশুর গুহায় সুদর্শন রাজকুমারের কোন খোঁজ। তবু নেট ঘেঁটে, নোট বেটে, প্রাচুর্যের মহিমায় কুট কাচালি ও ছলচাতুরি করে ছিনিয়ে নেয় রহস্যময় আয়না আর অত্যাশ্চর্য অঙ্গুরীয় । আর সেই মায়াময় মোহময় যাদু শক্তিযুক্ত আয়না আর অঙ্গুরীয় কালের গতিতে হয়ে গেছে মুঠোফোন…স্মার্টমোবাইল । পলে অনুপলে কত সব বার্তা পাঠায়…সচল স্বচ্ছ অর্ধস্বচ্ছ নগ্ন অর্ধনগ্ন মিথুনরত কতসব জলছবি…..নিবিড় নিশ্ছিদ্র নিস্পন্দ ঘনান্ধকারেও রিপুদের জাগরিত করে, কামনার পাহাড় বানায়। পার্কিং প্লেসের বর্ণময় গতিময় স্বাচ্ছন্দ্যময় দেশী বিদেশী গাড়িগুলি হাতছানি দিয়ে ডাকে, আদিম প্রবৃত্তির কানে ফুসমন্ত্র দিয়ে লোভকে রিচার্জ করে, শোষনের প্যাঁচ পয়জারগুলি ভালোকরে আবার ঝালিয়ে দেয়, আদিম প্রবৃত্তি বাড়ায়, ক্যান্ডেল লাইট ডিনার ডাকে…. ইনভার্টারে প্রাণ ফিরে পেয়ে প্রকোষ্ঠে প্রকোষ্ঠে সুরা নারীর বেলেল্লাপনা চলে সরকারী লেবেল আঁটা আধুনিক সরাইখানায়। তারপর অচেতন অর্ধ অচেতন বিবস্ত্র দেহগুলো ওইসব আধুনিক প্রকোষ্ঠে লুটিয়ে পড়ে, নেতিয়ে পড়ে….কীটদূষ্ট বেহায়া জরায়ুতে বাড়তে থাকে অজাতশত্রু ‘ বর্ণশঙ্করের ‘ ভ্রূণ। কোরোনা রুপী অদৃশ্য দানবেরা এই অবিমিশ্র কুরুচিকর মানুষের ঘেরাটোপে ঘেরা বসুধার বুকে বসিয়েছে থাবা…. নিশ্চিহ্ন করতে চায় এই অবাঞ্ছিত বর্ণশঙ্করের দলবলকে….আর রতির চাতুরিতে ভরা সুর হীন, লয় হীন , তাল হীন, শ্যামের মুরলী হীন, অর্ফিয়ুসের মোহময় বাঁশরী হীন, যৌনতার মোড়কে মোড়া ক্লেদ যুক্ত নীলাভ সঙ্গীত।
পুনরায় লক ডাউন তেরছা চোখে চেয়ে থাকে, কোয়ারান্টাইন হৈ হট্টগোলে হেঁসে খেলে বাজারের থলি নিয়ে বাজারে লুকায়।
স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সব লাটে উঠে গেছে, ধনীদের দুলাল দুলালীরা সব অনলাইনে তেতলায় বসে পড়াশোনা করে….পরীক্ষাও দেয়, আর সমাজের সংখ্যাগুরু নিতান্ত গরীব , সৃষ্টির কারিগরের সন্তান সন্ততি সব অশিক্ষার ঘনান্ধকারে পুনরায় নিমজ্জিত হয়, আদি বিদ্যা অধিবিদ্যা হয়েই গগনচুম্বী ইমারতে রয়ে যেতে চায়।
এইরকম এই মহাবিপর্যয়ময় ঘনঘোর ঘনান্ধকারে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়, তড়িঘড়ি চলে যাই পাত কুয়োটির কাছে, অনন্ত রশিতে বেঁধে পাতালে বালতি ডুবাই। সহসা পরশ পেয়ে লকলকে লেলিহান জিভ বের করে ধেয়ে আসে ‘হোয়াং-হো— ইয়াং শিকিয়াং।’ অন্ধকার ঘনঘোর তমসাচ্ছন্ন রাতেও দাঁত নোখ বের করে… লাল চোখ দেখায়। আমাজন ডুকরে ডুকরে কেঁদে ফেরে, ভগীরথের শঙ্খধ্বনি শুনেও ভাগীরথী পথ যে হারায়, নীল নদ ভয়ে কেঁপে ওঠে, মিসিসিপি চমকে ওঠে…..কান্নার রোল তোলে ওয়ার্ডসওয়ার্থের প্রাণের প্রিয় ওয়েস্ট মিনিস্টার ব্রিজ, আর সুন্দরী টেমস, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে পম্পাই নগরী।
পাত কুয়োর ছলাৎ ছলাৎ শব্দে, জলের আয়নায় কতসব জলছবি ভেসে ওঠে, মনের ভেতরটা শুধু করে আকুলি বিকুলি, হৃদয় ভেঙে ভেঙে হয় উথাল পাথাল।
কত নদী এলো…. গেলো, আর আমার শিলাই নদী… আমার প্রাণাধিকা প্রিয়া…আমার তিলোত্তমা সুন্দরী….আমার গলার হার… আমার বকুলের মালা…. গনগনির কাজুবাদাম, বাগানের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফোটা কুন্দফুল , চম্পা কলি , নদী বালুকায় অবহেলায় বেড়ে ওঠা কাশফুল।
আচম্বিতে সম্বিত এলো ফিরে, দেখি পাতকুয়োর জলে আর কোন কোলাহল নেই, আলতো ভাসা বালতিটা আমার কেমন যেন নড়েচড়ে ওঠে…..সন্তরণরতা কোনো ষোড়শী উর্বশীর চুড়িগুলি যেন সমস্বরে বেজে ওঠে….. আচম্বিতে সম্বিৎ ফিরে পাই… দূর হয় ভয়….মনে মনে ভাবি…. শুধু এতক্ষনে…এত প্রতিক্ষার পর, আমার শিলাই সুন্দরী এসেছে নিশ্চয়। সযত্নে খোঁপায় আঁটা ‘রুপোর কাঁটার’ পরিপাটি বলগুলি ঝুমকো লতার মতো দুলে দুলে ওঠে….আর আনমনে তুলে চলে সুরের লহরী। আমি বুঝে গেছি… নিশ্চিত বুঝে গেছি….গোপন অভিসারে এসে গেছে আমার প্রাণের প্রিয়া শিলাই সুন্দরী।
লক ডাউন ঘরে বন্দী করতে পারেনি তাকে……
‘ কোয়ারান্টাইনে থেকেও অভিসারী শিলাই সুন্দরী।’

Copyright strictly to@Chandan Bhattacharya….

——————————————–

তেপান্তরের নদী
“””শহিদ মিয়া বাহার””

ধূপছায়া জলে বাইন্ধেচি ঘর,
খড়ের উনুনে জ্বলে তেপান্তরের নদী, মন-পোড়া অন্তর !

বেনারসী দোলায় তোর আম্বরী আঁচল
বেহুলা-সুন্দর রাইত;
অমলদিঘী চোখের চাহনি তুইলে নাকের নোলক দোলায়ে একদিন কয়েচিলি তুই
“মাঝি— ও চিত্রা গাঙের মাঝি
ভর নিশীথের আয়নাকান্দি’র ঘাটে কবে আইসপে আবার?
মন জ্বলে মাঝি মনের জ্বালায়
ঈশানে খাঁ খাঁ রোদ্দুর, উত্তরে আসমানী হাওয়া, দক্ষিণে ঝরে আমার তোলপাড় নিশুতি রোদন!
মাথার দিব্যি মাঝি–ঘাটে আইসো আবার
মন চায় — মন শুধু ঢালি
ছল ছল গাঙের টল টল জোছনায়!
কি মায়া-কাজল মাখায়েচ মাঝি তোমার ভৈরবী বৈঠায়
ডুইবে যাই আমি— পইড়ে-কী-মরি
তোমার গামছার ঘাটে
জ্বলন্ত মেঘনায়!”

সেই থাকি “কুটি” ভাটির মাঝি আমি উজানে ছুইটেচি,
ঘর ছাড়িচি,
সুখের ডিঙ্গায় সাজায়ে নাও পদ্মার চরে পাতিচি পদ্মমোহন তালপাতা সংসার!
উজানে উত্তাল ঢেউ, তেমুখা গাঙ্গের আগুনমুখা নদী
তোর জন্যি উজানি আগুন পাড়ি দিয়ি
নিশি পহরে আলতার আদর আনিচি
মেলা থাকি আনিচি ঝুনঝুনি চুড়ি’র কদর!
সেই থাকি ‘কুটি’ মেঠুয়া অন্তরে বাইন্ধেচি
তোর লাউডুগী অন্তর!!

অন্যকার নাইওরি এখন তুই
সাঁইজে আমার শিথানে কান্দে কুপির কান্দন
পৈথানে এখন মন-কাঠি জ্বলে!
আয়নাকান্দি’র ঘাটে চ্যায়ারম্যান বজরায়
কার কোলে তোর চান্নি পসর চুলের নাচন মাতে!?
কার হাতে হাত!?
ছলকে উঠে তোর শালুক শালুক
হাতের কাঁকন!?

ধূপছায়া জলে তোর লাইগে ‘কুটি’
আইজো মিহি-মিহি জ্বলে আয়নাকান্দি’র ঘাটে
মন-পোড়া অন্তর
নয়ন কান্দে জলসিঁড়ি চোখে
লোকান্তরের চোখে তেপান্তরের নদী—-!!


——————————————

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com