Breaking News
Home / Breaking News / দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

ফাগুন এসেছিলো রাতে
নুসরাত শারমিন

ফাগুন এসেছিলো রাতে
বাসন্তীর সবুজাভ বন খুবলে খুবলে খেতে,
ফাগুন এসেছিলো রাতে শিশিরের ছদ্মবেশে
দূর্বা ঘাসের কলিজা কামড়ে খেতে!
ফাগুন এসেছিলো রাতে
ভ্রমরের পাখনা ছুঁয়ে কৃষ্ণচূড়ার রক্ত চুষে খেতে;
ফাগুন এসেছিলো রাতে
অনুরাগের সুখ বর্জনে নেকড়ে বাঘের গর্জনে
আগুনঢালা রথের সাথে।
ফাগুন এসেছিলো রাতে
বিষাক্ত সমীরণে বাসন্তী হাওয়ার পরাজয়ের গ্লানিতে,
ফাগুন এসেছিলো রাতে
হিংস্রতার বস্ত্র পরিধানে বিবস্ত্র রাত্রির সরগম জমাতে।
ফাগুন এসেছিলো রাতে
স্বপ্ন ভাঙ্গার ছাউনি তলে
নির্লজ্জতার সীমানা ছাড়িয়ে
আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলতে।
ফাগুন এসেছিলো রাতে
নদীর ঘাটে; আয়েশের গালিচা বিছিয়ে
খায়েশের পেয়ালা চেটেপুটে খেতে,
ফাগুন এসেছিলো রাতে
চাঁদনী রাতের উপহাসে দানবের কপাট ঘেঁষে পৌরুষত্বের তকমা লাগিয়ে
অধিকারের কর্তৃত্ব ফলাতে।

——————————————
ভ্যালেন্টাইন ডে
তপন মাইতি

আজকের দিনে একটা রক্ত গোলাপ দেওয়া হল না
যাকে তুমি ডায়েরির বুকে রেখে দিতে প্রথম ভ্যালেন্টাইন।
ঘণ্টায় ঘণ্টায় জানা হয়ে ওঠে না তুমি কেমন আছো…
কারণটা আমার অফিস।
ইচ্ছে করলেও তোমাকে চোখের দেখা হয়ে ওঠে না
যদি না কোন ছবি পাঠাও
কারণ আমি অনেক দূরে…।
তোমার বিষাদের দিনে মন ভালো করার জন্য বলতে পারি না
চল একটু সিনেমা দেখে আসি।
রেল লাইনের পথে হাত ধরে আর হাঁটা হয় না
কে কতক্ষণ থাকতে পারে!
ফোনের পর ফোন আসার বিরক্তি
কিংবা ফোনের ওপারে গুম করে বসে থাকে না কেউ
কখন বাবুর মনে পড়বে দেখব!
এখন বিশ্বাস করে কেউ এ টি এম এর গোপন নম্বরটা বলে দেয় না
HUBBI নামের কারোর নম্বরে ফোনটা কেঁপে ওঠে না
আজকালকার বিকেলে কোকিলের বদলে হুতুম পেঁচার ডাক শোনা যায়

আমার কোন ভ্যালেন্টাইন নেই কারণ তুমি নেই
আমার একটি ব্ল্যাক ডে আছে
কারণ আমি ভারতবাসী।

——————————————-

বসন্ত চাইনা, চাই শুধু অন্ন
সানোয়ার হোসেন

‌ প্রভু তুমি,
দিয়েছো এই নির্মলা সবুজ ভূমি,
দিয়েছো প্রেম বসন্ত রাণী।
চারি দিকে অরণ্য কান্তিতে ভর যে হৃদয় খানি।
আমি ঋণী, পেয়ে এমন জন্ম ভূমি।

তবু যে কোকিলের কুহু কুহু গানে,
কি বেদনা বাজাও সবুজ প্লাবনে?
কেনো দাও নি প্রেম, ভরা এই যৌবনে?
কেনো যে ভাসাও জল ছলছল নয়নে!

ওহে প্রভু,
এমনি পাষান তুমি রইবে কি তবু?
আজ বসন্তের এই সারা রাত, দেবে না কি ভাত?
আমি যে ক্ষুধার্ত, আহারের জন্য ঘুরছি দিবারাত।
চোখ মেলো, চেয়ে দেখ, পেতেছি যে দুটি হাত।
দাও না প্রভু, এক মুঠো ভাত।

প্রভু শুনছো কি তুমি,
ক্ষুধার্ত পেটের রাহাজানি?
জন্মের আজন্ম পাপ বুকে পেটে বেধে,
দুটি হাত ভাসে ক্ষুধার্ত পেটের সিক্ত ভাড়ে,
ভিক্ষা মাগি প্রার্থণার দুয়ারে দুয়ারে।
বস্ত্র হেরি তবু চাই অন্ন, কাদাও যতো, ভর এই হাত শূন্য।
ওহে প্রভু গরীবের নিত্যানন্দ।
চাইনা ফাগুন, চাইনা বসন্ত, চাই শুধু অন্ন।

——————————————–
ডাকার মতো ডাকলে পাবে
রাজন দেবনাথ _______✍️
তারিখ :- 14/02/22ইং
_________________________✍️

সৃজন করলো ভবে সৃষ্টি কর্তা
এতো সুন্দর করে আয়োজন,
নিজ স্বার্থ মোহে মগ্ন হয়ে ভুলে
রইলে মন তাঁর নাম প্রয়োজন।

ডাকার মতো ডাকলে পাবে
ভেবে দেখ না একবার মন,
নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে এই মানব
ঘরে প্রভুর সর্বদাই বিচরণ।

খুঁজে কেন দিশেহারা মন মক্কা
মদিনা গীর্জা মন্দিরও ভুবণ,
মাটির তৈরি এই মানব ঘরে
খুঁজলে পাবেই প্রভুর দর্শন,

প্রভুর নামে একনিষ্ঠ মনে না
করিলে দেহ মন আত্ম সমর্পন,
কাঁদলে কি আর যাবে পাওয়া
প্রভুর রাঙা দুটি যুগল চরণ?

মালা তিলক ও তছবি হাতে
যতোই দেখাও রূপের ধরণ,
মন শুদ্ধ না থাকিলে পড়বে
ধরা অন্তিম বিচারের ক্ষন।

অনন্ত জনম যাবে চলে তবুও
শেষ হবে না প্রভুর কৃপার বর্ণন,
নিজ গুণে গুণান্বিত প্রভু দান
করেন সাধেরই মানব জীবন।

——————————————-

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com