Breaking News
Home / Breaking News / দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

দুই বাংলার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক দৈনিক শব্দনগরের সেরা চার সাহিত্য

কই এলেনাতো
মাহফুজা জান্নাত
০৮.০২.২০২২

কেটে যায় অপেক্ষার প্রহর,কই এলেনাতো সুগন্ধি মাখা হাতে গোলাপ নিয়ে ;
দগদগে প্রেমপত্র মান অভিমান সঙ্গে.!
ভালোবাসার কথাটা জানালেনাতো এখনও….

কি ভুল আমার কোনটা ছিলো অপরাধ
কই কিছু বলে গেলে নাতো!
কথা হলো সেদিনও বট বৃক্ষকে সঙ্গে নিয়ে
মুক্ত আকাশকে সাক্ষী রেখে ;
তুমি আমি চিরজনম থাকবো দুজন দুজনার পাশাপাশি!
গড়বো এক ইতিহাস,
ফুটাবো নতুন ফুল,ভেঙে দেবে সব অভিমান!
কই এলেনাতো…..
ফিরলে নাতো আমার ঘরে,
শূন্য ঘর আমার একলা কেঁদে মরে!
এমনটিতো হওয়ার কথা ছিলোনা!

তুমি কি বদলে গিয়েছো.?না বদলে গিয়েছে তোমার সময়..
কই কিছু বল্লে না যে.?আমি তোমার পথ পানে চেয়ে আছি.!


——————————————
শিরোনাম ____অবহেলা নয় ভালবাসা
কলমে___কৃষ্ণ গোপাল ঘোষ
তারিখ _____08/02/2022
অবহেলার কতো শিহরিত কামনার ঝাঁপি,
খুলে দেখার ইচ্ছা তে আছে শুধু জীবনের দাপাদাপি।
কতো মিলনের গান গাওয়ার আকাঙক্ষা যায় হারিয়ে,
একটু বাতাসের অপরূপ স্নিগ্ধ অবহেলার পথে এগিয়ে।
সেই মিষ্টি স্পর্শের অনুভূতি আর ভাবনায় নিমগ্ন সুখে ,
আছে অতিথি সেবার কতো স্মৃতি মেদুর উজ্জল মুখে।
অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে গেছে জীবনের বিষণ্ণতা

সব হারিয়ে গেছে জীবনের শিহরিত কামনার ব্যথা।
তখনো স্বপ্নের আবেশে আচ্ছন্ন স্বর্গীয় সেবার আশা,
অতিথির আহুত জীবনের কথার মধুর মিষ্টি ভাষা।
ছিল কিছু কল্পনা মাখানো মুখ থেকে আলোর পথে,
অতিথি সেবারঅমোঘ সত্যের মুখো মুখি সাক্ষাতে।
জীবন প্রদীপের শিখা কখন যেন জ্বলতে থাকা শব্দে,
ভরেছে কতো মিলনের গান গাওয়ার সুখের আনন্দে।
পরমার্থ জীবনের এক অনির্বচনীয় শক্তির ভাবনা,
আছে সেবার মাঝে বিরহের গান নয় সুখের কামনা।
তাই অবহেলায় পড়ে থাকে সব বিচ্ছুরিত ব্যর্থতা,
ঐশ্বরিক সৌন্দর্যের গাঁথা মালা হয়ে সেবার সার্থকতা।
অতিথি সেবার স্মৃতি মেদুরতা ভালবাসার বিকশিত সুখে,
যেন ভাসিয়ে নেবে ঐ শূন্যে একাত্ম হয়ে উচ্ছসিত মিষ্টি মুখে।
অবহেলাতে হারিয়ে যাওয়া রঙিন ভালবাসা,
সেবার মাঝে প্রস্ফুটিত পুষ্পের মতো স্নিগ্ধ মিষ্টি আশা।

শ্যাম নগর উত্তর 24পরগনা
সময় _____13_15
@কপি রাইট লেখকের

——————————————

পুরনো মন্দির
মাহবুব খান

শতবর্ষের তুমি পুরনো মন্দির
সম্মোহনের জাদুতে ডাকলে আমারে।
রিমঝিম বৃষ্টির গান চারদিকে
গাছের ভেজা পাতায় তার নেশা লেগে আছে
কতকাল দাঁড়িয়ে রয়েছো অতীতের বৈভব নিয়ে।
ঋজু দেহে টান টান ছিলা
ফসলের লাবণ্য শরীরে, বুক তোমার খোলা
মেঘের ওপরে মেঘের সামিয়ানা
অবয়ব জুড়ে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা।

সারি সারি লালে লাল কৃষ্ণচূড়া
হাসি হাসি মুখ সুজলা তার ডানা
ভিজে শাড়ির রঙ নিয়ে সবুজ পাতারা
শতাব্দীর ঠোঁটে তোমার না বলা কত কথা।
প্রাচীন এই নগরে নিরবে নিভৃতে
বড়শি ফেলেছে যেন চণ্ডিদাস
সময়ের প্রতিকূল বুনোস্রোত বেয়ে
ফিরবে রজকিনী আবার তোমার কাছে?

তৃতীয় নয়নে খুলেছো জানালা
যৌবনের সেই অতীত আহব্বানে
খসে পড়া জীর্ণ পলেস্তারা
সোমালি শিশুর ক্ষুধার্ত শরীরে
ভঙ্গুর দেহখানি হাড্ডিতে ভরা।
অসামান্য লাবণ্য ছিল প্রথম যৌবনে
তোমার দৃপ্ত চূড়াতে মোহন গেরুয়া পতাকা ওড়াতে।
হেমাঙ্গ নারীরা সুবর্ণ চুড়ির মায়াময় হাতে
বেলা অবেলায় নৈবেদ্য গেছে দিয়ে
ভক্তিভরা দু’চোখ, তোমার দুয়ারে।
সিদুর লেপটানো সিথি কাঞ্চনমণি কাঁধ
ঠোঁট লাল করা পানে
আজো সেই পুরবালা হেঁটে যায় চলে।
কাজল চোখে তার আলোর ঝলকানি
কোমর ছাফিয়ে জংঘার সেই লাল শাড়ি!

সেই ঋতুমতি দেহ-খসে পড়া শুরকি
ফাটা দেয়ালের ফাঁক গলে
জ্বলে জ্বলে নিভে যায় রাতের জোনাকি!
শরীরে তোমার মহাকাল খেলেছিল হোলি?
নিত্য ছিল কোলাহল মন্ত্র স্বর্গ বাণী
প্রভাতে উচ্চারিত হতো ভজনা আরতি।
তারা এখন কেউ নেই এখানে
সময় রথের চাকায় সব হারিয়ে যায়
সুহৃদ বাতাস ডেকে বলে গেছে
কার ভালোবাসা, কার কালো চোখ
আজও ভুলায় তোমারে?

কী হবে দাঁড়িয়ে থেকে কালের মজনু
ফিরে যাও অচেনা সোওয়ারি
ঝলমলে তোমার যৌবন জোয়ারে
পূণ্য পরশ লোভে এসেছিল কত সাধক পুজারি!
নত মস্তকে মহান প্রভুরে ডেকে
বিশাল হৃদয় শূন্যহাতে ফিরাও নি তারে
ইচ্ছে পূরণ বর দিয়ে গেছ অকাতরে।
গগনভেদী তোমার সুউচ্চ মিনার
স্বর্গের ঠিক নিচের সিড়ি ছুঁয়ে গেছে।
আজো মস্তক অবনত
কালের করাল থাবায় তুমি হেরে গেছো?

তোমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পথচারি কতজনা
আজ আর আসে না পুজারি কেউ, ফিরেও দেখে না
নেই কোনো উপাচার হরির লুটের মেলা
তাহলে মহান ইশ্বর আজ তুমি নেই এইখানে
ছিলে এখানে কোন দিন কোন কালে?
তোমার মগ্নতার লক্ষ্যভেদ করে
এখন চারদিকে নৈঃশব্দের চোরাচালান
শোরগোল কলকলি কোলাহল
কাকেদের খুনসুটি কোকিলের গান।

কালের স্রোত যদি তোমাকে নিয়ে যেত
তোমার আমার দেখা হয়তো হতো না।
ডানপিঠে নিঠুর সময়ের রোসানল
তোমার মিনারে যদি ফেলতো নগ্ন আগ্রাসন
বুকের পাজড় মেলে দিয়ে শিকড়ের দিয়েছো আসন
অঙ্গে তোমার শেকড়ের বজ্র গাঁথুনি
ভালোবাসা হয়তো এমন কেউ কখনো বলেনি!
প্রকৃতি-মানুষের তুমি অনন্য নির্মাণ
মুগ্ধতায় ভরা আজ তোমার আকাশ
বিধাতা গড়েছেন তোমারে অপূর্ব সুন্দর
কালের স্বাক্ষী তোমাকে নমস্কার।

——————————————-

কবিতা – অভিমুখ
কলমে – পূর্নব্রত ভট্টাচার্য্য
তারিখ – ০৮\০২\২২

চোখে রাখি চিত্র তারি
মনে রাখি আশা
চলছে জীবন বুকে নিয়ে
তারি ব্যর্থ ভালোবাসা ।
ভালোবাসা ব্যর্থ আমার
কিন্তু জীবন ব্যর্থ নয়
এই ব্যর্থতাই আনবে আমার
আসল পরিচয় ।
আঘাত পেলে লোহা যেমন
গড়ে নিজের রূপ
জীবন আমার বদলেছে আজ
তার নিজের অভিমুখ ।


——————————————

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com