Breaking News
Home / Breaking News / শব্দনগরের দিনের সেরা চার সাহিত্য

শব্দনগরের দিনের সেরা চার সাহিত্য

#শৈশবের দিনগুলো
————————-

শৈশবের প্রায় পুরোটাই কেটেছে গ্রামে। আমাদের এলাকাটি মুসলিম অধ্যুষিত হলেও দু-চার ঘর হিন্দু পরিবার ছিল।
খুব মনে আছে সকাল- সূর্যের হালকা তাপ গায়ে জড়িয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে সপ্তাহে ছয়দিন স্কুলে যেতাম। উঁচু খোলা সড়ক ধরে হাঁটা শুরু করতাম। সড়কের দু’পাশে ফসলি জমি। কিছুদূর যেতেই হাতের বামে পড়তো বিমলাদের ফুল-ফল আর লতাকুঞ্জে ঘেরা বাড়িটি। যেটা বাগবাড়ি নামে পরিচিত ছিল।
বিমলাদের আবাস ছাড়িয়ে,ডানে মরা গাঙ পেরিয়ে উঠে যেতাম যন্ত্রাইলের ছায়াময় মেঠো পথে। আরও কিছুক্ষণ চলার পর পৌঁছে যেতাম নবাবগঞ্জের ইছামতী নদীর পারঘাটায়। গুদারা নৌকা অথবা ভাড়া নৌকা যখন যেটা পাওয়া যেত তাতে নদী পার হতাম। নামকরা বাড়ি ‘তাড়া মৌলবির বাড়ি’-র পাশ দিয়ে যে সংক্ষিপ্ত রাস্তাটি আছে সেখান দিয়ে হাঁটা দিয়ে পৌঁছে যেতাম ইট বাধানো বড় রাস্তায়। তারপর স্কুলে।
বেলা দশটায় আরম্ভ হত স্কুল। চার পিরিয়ড পর ছুটি হত। আবারও একই পথ দিয়ে ছুটির আনন্দে বাড়ি ফেরা। মাথার’পরে তখন অর্ধবেলার টগবগে সূর্যের প্রখর তাপ। চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে বিমলাদের বাড়ির পাশে যখন আসতাম, তখন ঠিক পিপাসা লেগে যেত। ওদের পরিপাটি নিকানো উঠানের দক্ষিণ কোণে চাপকল। বিমলা কল চেপে দিত, আর ঠাণ্ডা পানি পান করে আমার প্রাণ জুড়াত।
বিমলা আমার তিন চার বছরের বড়। কিছুক্ষণ গল্প করতাম ওর সাথে। ও প্রায়ই স্কুল কামাই করত। বাড়িতে মা,কাকিমা, বাবাকে কাজে সাহায্য করত।
ওদের উঠান জুড়ে থাকত মাটির কলস,হাঁড়ি-পাতিল,খেলনা,পুতুল। কাঁচা মাটির তৈরি। রোদে শুকাতে উঠান জুড়ে সাজিয়ে রাখত। মৃৎশিল্পগুলো দেখতে ভীষণ ভালো লাগত। যাবার বেলা বাড়ির প্রাচীর ঘেঁষা বরই গাছ থেকে বরই পেরে খেতাম, মুঠি ভরে নিয়েও আসতাম। বরই পারতে বাধা দিতে বিমলার মা, ঠাকুমা কখনই লাঠি নিয়ে তেড়ে আসেনি।
মাঝে মাঝে বিমলাও আমাদের বাড়ি আসত। মা ওকে গাছের মিষ্টি বেল দিত, বরইও।
শৈশবের দিনগুলো কী নির্ভাবনায়, অনাবিল আনন্দে কেটে গেল! আবার ফিরে যেতে ইচ্ছা করে সোনালি অতীতে। যেখানে মানুষে মানুষে সম্পর্ক ছিল নির্ভেজাল,নির্মল। অন্তর ভরা ছিল মায়া মমতা।

রাবেয়া ঝুমুর
৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
১৯ জানুয়ারি , ২০২২খ্রিঃ

————————

স্বপ্ন
——-

অনিরুদ্ধ,
তোমাদের ছাদে টানানো কাপড় মেলার যে দড়ি
আমার ইচ্ছে হয় তোমার নীল শার্টটা
তুমি না-
আমিই সেটা সেখানে মেলে দেই।
যদি অধিকার দাও তবে-
শার্টের পাশাপাশি সূতোর কাজ করা আমার নীল রঙের ওড়নাটাও মেলে দিতে চাই।
মৃদ বাতাসে দড়িতে মেলা কাপড়ের মতেো
আমার এই সপ্নটা দুলছে,কেবল দুলছে।
দুলতে দুলতে তবে কি একদিন সে
নিজেই দড়িতে ঝুলে যাবে?
যদি অধিকার দাও তবে….
আত্মাহুতি নয়,
অমরত্ব হবে এই সপ্নের।
দেখো অনিরুদ্ধ,আর তুমিও কিন্তু বেঁচে যাবে
একটা নিরব খুনের অপবাদ থেকে।

~(শ্রাবণী)

————————

অমুদ্রিত স্বরলেখা
যুবক অনার্য

এতোটা পথ হেঁটে এলে তবু কি
টের পেলে- হেঁটে যাবার সমস্ত সড়ক
বন্ধ হয়ে গেছে
তবু কি টের পেলে সাপ কেনো
আড় ভেঙে হাঁটে
কেনো দ্রোহ নিষিদ্ধ হ’লে
জ্ব’লে ওঠে বিকল্প বিপ্লব
সূর্য তার আত্মায় কতোটা অগ্নি নিয়ে
তবে জেগে ওঠে!

কতো না বছরভর স্বপ্ন দেখে এলে
শস্যিতা মাঠ গাভিন নদীর
তবু যে হারিয়ে গেছে আবাদি লাঙল,
তার দীর্ঘ ছোবল।
কতো না রাজপথ অট্টালিকা
ভূবনজোড়া কুমারী রাত
তবু কি জানা হলো নারী কেনো
এতোটা রমণীয়- সোনালি পালক-
তবু কেনো এতোটা চাবুক
ধরে রাখে জিভে
রূপসী কেনো এতোটা রূপ নিয়ে
নিঝুম দুপুরে নিশ্চুপ কাঁদে!

জানা কি হলো আজও-
এতোদিন কতোদিন তুমি
আসবে বলেও
চলে গেছো -‘ভালোবাসি
খুব বেশি ভালোবাসি’-বোলে!
প্রেমিকা কেনো এতোটা খ’সে পড়ে
তারার মতোন
কী নিবিড় স্খলনে পুষ্ট হয়ে
তবু চলে যায়!
কেনো এই অগ্নি দহন
অবেলায় এমন এই আত্মহনন
এই বদ্ধভূমির খোলা হাওয়া –
তবু কি জানা হলো!
আজও কেনো নির্দোষ কয়েদি আর প্রেমিকের খিদে পেলে
রোদ্দুর হারিয়ে ফেলে উষ্ণ ভূমিকা
আর মানুষেরা কেনো তবু
মেঘের অপেক্ষায় থেকে বজ্রাহত
হতে ভালোবাসে
একজন কবি কেনো এতোটা অসহায়
কেনো তুমি বেসেছিলে ভালো
কবিতা আমার আর আমাকে
বাসোনি ভালো- জানা কি হলো তবু
আজও জানা হলো!

—————————

সম্পর্ক
পপি দাশ হাসদাক

পাহাড় ডিঙিয়ে,
খরা স্রোতা নদী পেরিয়ে
নারীর উর্বরা শক্তির সাথে সখ্যতা
নিছক বিনোদনের উপকরণ নয়।
যে নারী জন্ম দেয়
যে নারী সম্পর্ক তৈরী করে,
সে তো বিবেচনায় কম নয়
কম নয় তার মনের জোরও।
সে নারীর সঙ্গে যুক্ততাও
নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়
প্রশংসনীয় তার কাজের ও।
হোক না সেই কাজ
ভীষণ রকম তুচ্ছ কিংবা অপরিমেয়।
নারী বোঝে প্রতিটি সম্পর্ক এর মূল্য
হোক তা স্বীকৃত –
নচেৎ অস্বীকৃত প্রাণের স্পন্দন।
স্পন্দিত হৃদয়ে কম্পিত হয়ে ওঠা
আমি তোমাকে ভালোবাসি
ঐ লাইনে লিপিবদ্ধ
ভালোবাসার অপর এক নাম।
নব সম্পর্ক এর সূচনা –
চিবুকের একটু খানি মৃদু হাসি
বক্ষে জাগায় হাসির রেখা রাশি রাশি।
তুমি হয়তো ছিলে ভীষণ রকমের কাছে
হয়তো খুব পাশাপাশি,
তবুও তুমি পাওনি সাড়া
দেয়নি তোমায় ধরা।
নব উল্লাসে অজস্র ভালোবাসায়
ডুবন্ত এক জলপ্রপাতের সৃষ্টি
সেই সৃষ্টিতেই প্রসহান
প্রসহান জগতের মায়া ছাড়ি।
নারী আজও আঁকড়ে ধরে বাঁচি
পুরনো সম্পর্ক এর বেড়াজাল ধরি।
যাবৎ জীবন রয় তারি
তাবৎ এ সম্পর্ক নাহি ভূলি।
অল্প পরিচয় -অল্প কথা
হৃদয় মাঝি বাঁধে
অপরিসীম ভালোবাসার রেখা।
সেই রেখায় ভর করি
নতুন সম্পর্ক এর নামে।
নারী, সত্যি এক অবলা
ও এক অদ্ভুত প্রাণী!
তারে বুঝার সাধ্য কি কারো আছে?
যদি সে বুঝবার নাহি দেয়……

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com