Home / Breaking News / দুই বাংলার সেরা সাহিত্য পত্রিকা ” শব্দনগর” এর পাক্ষিক সেরা নির্বাচিত কবিতা

দুই বাংলার সেরা সাহিত্য পত্রিকা ” শব্দনগর” এর পাক্ষিক সেরা নির্বাচিত কবিতা

শিরোনাম-সুবিচার
কলমে-রশ্মিতা দাস
তারিখ-২১.১১.২০২১
পূর্ব মেদিনীপুর

ফাঁসির মঞ্চে লেলিহান আজ
জনতার উচ্ছ্বাস,
ধর্ষক আজ নিকেষ হবে
প্রতীক্ষা রুদ্ধশ্বাস।

রশিতে কজ্বা হবে কলুষতা
নারীপ্রাণ পাবে শান্তি,
ধিক্কারে আজ স্তব্ধ বাতাস
সোচ্চার ধ্বনি-গ্রন্হি।

আসামী সবার সামনে হাজির
দুহাতে কর্মফল,
ঘর্মে সিক্ত,ঠান্ডা রক্ত
দুইচোখে ভরা জল।

সারাদেহে তার মানুষের ঘৃণা,
জনরোষ,ক্ষীপ্রতা,
আক্রোশে আজ ধুয়ে মুছে গেছে
জীবনের সুর কথা।

জন্ম হতেই বাপ এনেছিল
সৎমা টিনের ঘরে,
দুই মায়ে ছিল শুধু খেয়োখেয়ি
ন ভাইবোনের ভীড়ে।

বাবুর ছেলেরা ইস্কুলে যায়
দেখে প্রাণ যেত ফেটে,
বুকের রক্ত বুকেতেই চেপে
ভাত পেত মাটি কেটে।

বস্তির ঘরে ছিল না তো হাসি
ছিল না গল্প খেলা,
এ ওকে পিটিয়ে জীবনধারণে
কেটে গেছে ছেলেবেলা।

“পরের আঘাতে টিকবে জীবন”
এটাই বাঁচার মন্ত্র,
শ্বাস ফেলবার তরে চেপে ক্ষত
জীবনকে করে যন্ত্র

ভুলতে হয়েছে রামধনু আর
চাপতে হয়েছে কান্না,
শুধু হিংস্রতা দিয়ে শিরা কেটে
রক্তেই ঘরকন্না।

ডাগর দুচোখে কলমের ক্ষুধা
সেদিন কেউ দেখেনি,
ন ভাইবোনের পালে ঠেসাঠেসি
জীবন কেউ বোঝেনি।

ক্রিমিনাল দেখে আঙুল তুলেছি
ছুঁড়েছি তো থুতু গালি,
দৃষ্টি শুধুই হিসেবে আটকে,
অঙ্কে মেলানো গলি

অপারগ দেখাতে সেই আঁধার
যেখানে নারীর মান
খেলনা হিসেবে তুলে দেয় হাতে,
নিষ্পাপ শিশুপ্রাণ

হিতাহিত ভুলে ক্ষুধার কবলে
সমাজে চালায় ছুরি,
অপরাধী গড়ে তুলছি আমরা
রাশি রাশি ভুরি ভুরি।

জন্মনিয়ন্ত্রণে অবহেলা,
অশিক্ষা,তাচ্ছিল্য,
সৃষ্টি করেছে খুনী অপরাধী
সমাজে বিঁধছে শল্য।

তাদেরকে তুলে ফাঁসির মঞ্চে
ন্যায়ের অঙ্গীকারে,
আদালতে ওঠে ফাঁপা প্রতিধ্বনি
ব্যর্থ প্রতিকারে।

ধর্ষক নয়,আজ সবে মিলে
ধর্ষণ ঠেসে ধরি,
তাকে গোড়া থেকে করে উচ্ছেদ
জঞ্জাল সাফ করি।

সমাজের কালো অন্ধ পট্টি
টান মেরে ছিঁড়ে খুলে,
শিক্ষার তেলে জ্বালাই প্রদীপ
অন্ধকারকে ভুলে…।


কিছু একটা স্পর্শ (স্বত্ব সংরক্ষিত)

~~~মৃদুল সাহা-~~~

তাং২০/১১/২১

একটা অনাঙ্ক্ষিত বদল
সময় বিকলাঙ্গ কুঁজো মানুষের মতো,
লাঠি ভর দিয়ে হেঁটে চলে যায়
গেরুয়া যৌবন পুরুষ
বন্ধ পেন্ডুলামের মৃত কাঁটার মতো
স্থীর কিছু একটা ;

মনটা ভিখুর মতো পথের সন্ধানে
চাওয়া পাওয়া গুলো তবু
ভৃত্যের মতো অনুগামী হয়
দুর্ভাগ্যের অপচ্ছায়া
নিঃশব্দ রাতে আহত পশুর মতো গোঙায় সকরুণ
কিছু একটা স্পর্শের জন্য ব্যাকুল

গরিমা হীন কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী চাঁদ,
ফিকে আলোতে
ধর্ষিতা কিশোরী মতো মলিন !

নির্ঘুম অতৃপ্ত কাকের ছানা গুলো।
ডেকে উঠছিল বারবার

দুমড়ানো মোচড়ানো চিরকুটে
লেখা বসন্তের প্রহর
ছুঁড়ে ফেলা সিগারেটের শেষাংশ
ধোঁয়ার নিবিড় কুণ্ডলীতে
ভেসে উঠে প্রজন্মের কঙ্কাল ছবি !

অন্ত্যোষ্টি ক্রিয়ার পদবলী
ঝিঁঝিঁদের কোরাসে আঁধারের খাদ

ভাবনা গুলো জীর্ণ জৈবিক
নিষ্কর্মা আহ্নিকে –হ-য-ব-র-ল
একাকিত্বের আঁতুড় ঘরে
এক ফ্যাকাসে পৃথিবীর ছবি
ধরা পড়ে,শূন্য ক্যানভাসের ছায়ায়
ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ক্ষরণ নীল ।

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com