Home / Breaking News / কবি ও কলামিস্ট রিটন মোস্তফা এর” অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডের সীমানা?”

কবি ও কলামিস্ট রিটন মোস্তফা এর” অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডের সীমানা?”

“অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডের সীমানা?”
-কলামিস্ট রিটন মোস্তফা

মনে করা হয় ব্রহ্মাণ্ডের জন্ম আজ থেকে ১৪ বিলিয়ন বছর পূর্বে যা বিগব্যাঙ বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছিল। এই বিস্ফোরণের সময় স্পেস, মেটার ও এনার্জি এবং টাইম বা সময়ের জন্ম হয় এবং এক সময় নক্ষত্র, গ্রহ এবং অবশেষে জন্ম হয় আমাদের মানুষের।

আজ আমরা মানুষ একটি একটি করে ব্রহ্মাণ্ডের বিভিন্ন অজানা তথ্য জানার চেষ্টা করছি। আর তাই আমাদের মনে এই প্রশ্ন তো অবশ্যই আসবে যে, আমরা যে আকাশ নক্ষত্র এবং আকাশগঙ্গাকে দেখছি এটা আসলে কতটা বড় কতটা বিশাল এবং এদের কি কোন শেষ আছে?

আমাদের মাথায় যখন এই প্রশ্ন জন্ম নিচ্ছে, ঠিক ততক্ষণেই আমাদের ব্রহ্মাণ্ডের সীমনা আরও বৃদ্ধি বা প্রসারিত হয়েছে। আসলে বিগব্যাঙ বিস্ফোরণের পরপর ঐ যে সমস্ত কিছুর যাত্রা শুরু হয়েছিলো এখনও তা অব্যাহত আছে। যদিও এর মধ্যেই আমাদের ব্রহ্মাণ্ডের মাঝে অনেক কিছুই সংঘর্ষের ফলে- বিনাশ হয়ে নতুন কিছুর জন্ম দিয়েছে আবার অনেক মেটার একত্রিত হয়ে বিশাল বিশাল অস্তিত্ব নিয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে নক্ষত্র, নক্ষত্র গুলোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে প্লানেট সার্কেল, যেগুলো আবার নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরতে ঘুরতে নিজস্ব একটা দল তৈরি করেছে এবং সেই দল গুলো একত্রিত হয়ে গ্লাক্সির জন্ম দিয়েছে, যেগুলো নিজেরাও ঘুরছে এবং ছুটে চলেছে ব্রহ্মাণ্ডের অনন্তে। এতে হয়ত কখনও কখনও কোন গ্লাক্সির সাথে অন্য গ্লাক্সির সংঘর্ষ হচ্ছে, অথবা ব্রহ্মাণ্ডের শুরুর দিকে জন্ম নেওয়া কোন নক্ষত্র তার জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তার অভন্তরীণ জ্বালানির শেষ করে নেবুলার মত বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে, বিভিন্ন প্লানেট গুলো ব্রহ্মাণ্ডের অনন্ত থেকে ছুটে আসা মেটারের আঘাতে কেঁপে উঠছে, ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ লন্ডভন্ড হচ্ছে। কিন্ত এই যে ব্রহ্মাণ্ডের বা স্পেসের ছুটে চলা বা বিস্তার সেটা কিন্ত থেমে নেই। তবে বলে রাখি ব্রহ্মাণ্ডের সূচনা লগ্নে এই স্পেস বা আকাশগঙ্গার তাপমাত্রা যথেষ্ট যথেষ্ট বেশি ছিলো। কিন্ত স্পেস বা ব্রহ্মাণ্ডের আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে এটা শীতল হচ্ছে। অর্থাৎ শুরুর দিকে যে তাপমাত্রা ছিলো, সেটা এখন অনেক অনেক কমে এসেছে বা আরও দিন যাবে স্পেস প্রাসারিত হবার সাথে সাথে এটা ঠান্ডা হতে থাকবে।

এই ব্রম্মাণ্ডের বুকে যে শুধুমাত্র নক্ষত্র, গ্রহ এবং বিভিন্ন মেটার মজবুত আছে এবং এরা কেউ কেউ সংঘবদ্ধ হয়ে লোকাল গ্রুপ তৈরি করে নিজেরাই যে নিজেদের প্রদক্ষীণ করছে সেটা কিন্ত না। এই ব্রম্মাণ্ডের সমস্ত কিছুর সৃষ্টির যেমন গল্প আছে তেমনই আছে, এই ব্রম্মাণ্ডের বিশাল বিশাল এলাকা জুড়ে অবস্থান নেওয়া গ্রুপ গুলোকে মুহুর্তের মধ্যেই নিজেদের অস্তিত্ব টের না দিয়েই গিলে ফেলা বা গায়েব করে দেবার মত মহা দানব। অর্থাৎ এমন কিছু মহা দানব আমাদের ব্রহ্মাণ্ডের গ্লাক্সি গুলোর আশে পাশেই ঘুরে বেড়াচ্ছে যে তার আকর্ষণের টানে যদি কোন গ্রহ নক্ষত্র এমন কি স্পেসের সব থেকে দ্রুত এবং দীর্ঘদিন ধরে ট্রাভেল করা আলোটাও ঢুকে পড়ে- তো সেটাও আর ফিরে আসতে পারে না। এই দানবটি হলো “ব্লাকহোল”। অর্থৎ ব্রহ্মাণ্ডের বৃদ্ধির পাশাপাশি এখানে চলছে ভাঙা গড়ার ও একটি চলমান খেলা। কিন্ত যাই হোক, আমাদের এই ব্রহ্মাণ্ডের আসলে আয়োতন কতো বা এটা কতটা এলাকা জুড়ে রয়েছে?

উত্তর দেবার মত আসলে কোন মাপকাঠি নেই। তবে আমাদের সৌরমণ্ডলের এবং আমাদের গ্লাক্সির যদি একটা মাপ পাই তাহলে এই ব্রহ্মাণ্ডের মজবুত এরকম ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্রহ নক্ষত্র এবং গ্লাক্সির সম্মিলিত একটা মুখ হা হয়ে এবং মাথা ঘুড়িয়ে দেবার মতই আন্দাজ পেতে পারি। যদিও সেটা যথেষ্ট না।

এবার আসুন আমরা ব্রহ্মাণ্ডের সাইজটাকে আন্দাজ করার জন্য একটা পরিমাপের আশ্রয় নেই। যদিও সেটা দিয়ে শুধুমাত্র এই সৌরজগত এবং খুব বেশি হলে আমাদের যে মিল্কিওয়ে গ্লাক্সি এবং আমাদের নিকটতম এন্ড্রোমিডা গ্লাক্সি আছে তার ব্যাসটাকে একটু আন্দাজ করতে পারবো।

আমরা এখানে দূরত্ব মাপতে গেলে মাইল বা কিলোমিটারে পারবো না। বা ওটাতে কুলাবে না। এজন্যই ব্রহ্মাণ্ডের সব থেকে দ্রুত ট্রাভেল বা ভ্রমণ করা আলোর গতির পরিমাপকে ব্যবহার করবো। তার আগে জেনে নেই এই আলোর গতিটা প্রতি সেকেন্ডে কতো? আলো প্রতি সেকেন্ডে অতিক্রম করে ৩,০০,০০০ কিলোমিটার পথ। এই পরিমাপে আলো এক বৎসরে যে পথ অতিক্রম করবে তাকে আমরা বলি ” এক আলোক বর্ষ “। এই এক বছর বা ৩৬৫ দিনে আলো কতটা পথ অতিক্রম করবে এবার ভাবুন। কি মাথা ঘুরছে? আরও মাথা ঘুরিয়ে দেবার জন্য এটা বলতে পারি যে, এই পরিমাপ দিয়েও আপনি সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডের দুরত্ব মাপা তো দূরে থাক, আমাদের এই গ্লাক্সির এবং তার আশেপাশের গ্লাক্সির পরিমাপটাই হয়ত করতে পারবেন, যেগুলো সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডে মজুত অসংখ্য গুলোর মধ্যেই ধুলোর সমান। যাই হোক তবুও আন্দাজ লাগাবো আমরা।

আমাদের সৌরজগতের ব্যাস ৯,০০০,০০০,০০০ কি: মিঃ । অর্থৎ এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের দূরত্ব এটি। এবং আমাদের এই সৌরজগত যে গ্লাক্সির বাসিন্দা সেই গ্লাক্সির পেটের ভেতর রয়েছে আমাদের সৌরজগতের মতই অসংখ্য সৌরজগত। বিজ্ঞানীদের অনুমান, আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথে মোটামুটি ৩০ হাজার কোটি (৩০০,০০০,০০০,০০০) নক্ষত্র আছে।
আর এগুলোর একটি গ্রুপকে গ্লাক্সি বলে। আমাদের গ্লাক্সির নাম মিল্কিওয়ে, যার ব্যাস এক লক্ষ আলোকবর্ষ। অর্থাৎ আপনি যদি আমাদের নিজস্ব এই গ্লাক্সির শেষপর্যন্ত যেতে চান, আলোর গতিতে হলেও আপনার লাগবে এক লক্ষ বছর। এবার ভাবুন যে ব্রহ্মাণ্ডে এরকম মিল্কি ওয়ে গ্লাক্সির মত লক্ষ লক্ষ গ্লাক্সি রয়েছে তার সীমানাটা কতটা হতে পারে। যেটা কল্পনাও করতে পারবেন না। আপনি এক লক্ষ বছরে যতক্ষণে মিল্কিওয়ে অতিক্রম করবেন, ততক্ষণে আমাদের এই ব্রহ্মাণ্ডের আয়তন আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ এই ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত কিছুই ছুটে চলার সাথে সাথে এর স্পেস তৈরি করছে। যেটা অনন্ত কাল চলবে। এবং এই ছুটে চলার সাথে সাথে তাপমাত্রার যে নিন্মমূখি আচরণ, সেটার কারণে হয়তো একদিন সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডের অবস্থা বরফের থেকেও কমে যাবে। যদিও সেটা কবে হবে সেটা দেখার জন্য আমাদের অস্তিত্ব থাকবে কি না জানা নেই।

ব্রহ্মাণ্ডের এই ছুটে চলার পাশাপশি ব্লাকহোলের আচরণ এই ব্রহ্মাণ্ডের অনেক কিছুকেই গ্রাস করে একটা সিঙ্গুলারেটিতে পরিণত করছে। যেমন, বোতলের মধ্যে তেল ভালোভাবে ঢালার জন্য আমরা আলফু ব্যবহার করি ঠিক তেমনই। অর্থাৎ ব্লাকহোলের প্রাসারিত মুখ দিয়ে গ্রহ নক্ষত্র যদি ঢোকে সেটা তার অসীম প্রেসারে সংকুচিত হতে হতে বিন্দুতে পরিণত হবে, সেটা নক্ষত্র বা গ্রহের মত বিশাল যাই হোক। এজন্যই বিজ্ঞানের ধারণা যে ব্লাকহোল গুলোর ঠিক অপজিটেই হোয়াইটহোলের অস্তিত্ব থাকতে পারে। এবং সেটা যদি থেকে থাকে, তবে এর আচরণ হবে ব্লাকহোলের বিপরীত। অর্থৎ ব্লাকহোল গিলে খেয়ে সেটাটাকে সংকুচিত করে সিঙ্গুলারেটিতে পরিণত করবে। যে সিঙ্গুলারেটির বিস্ফোরণের কারণেই বা বিগব্যাঙ বিস্ফোরণের মাধ্যমেই আমাদের এই ইউনিভর্স সূচনা হয়েছিল। আর এমনটাই হবে ব্লাকহোলে দিয়ে ঢুকে হোয়াইটহোল দিয়ে বিড়িয়ে যাবার সময়। তার মানে একটি ব্লাকহোলের মাধ্যমে সমাপ্তি হলেও, তার অপজিটেই যে হোয়াইটহোল আছে, সেদিক দিয়ে মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমেই সেটা আবার একটি স্পেসের সূচণা করবে। আর এই খেলাটা চলবে অনন্ত কাল। তার মানে ব্রহ্মাণ্ডের শুর নেই শেষটাও নেই।।

(এটা আরও ভালোভাবে সচিত্র দেখতে পাবেন আমার পরবর্তী ভিডিওতে। যেখানে সমস্ত কিছুর ছায়া দৃশ্য ব্যবহার পাবেন)

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com