Breaking News
Home / Breaking News / কবি সূত্রদীপ এর কবিতা “ভব নদীর ময়ূরাক্ষী”

কবি সূত্রদীপ এর কবিতা “ভব নদীর ময়ূরাক্ষী”

ভব নদীর ময়ূরাক্ষী
কবি-সূত্রদীপ
তারিখ-১৫ই পৌষ ১৪২৮
***************************
আমির অপার কণ্ঠ;বিদীর্ণ আজিকে
তদাপি চেতনার ব্রহ্মসুর হয় নাই নিবৃত্ত,
জীর্ণ তনু বহিয়া চলিছে আজো
নিত্যকালের বাঁধা নিত্য আবহে
পরাভূত করে নাই আমির ভাবনা
তালছন্দের চিরাকাঙ্খিত চিত্ত।

অন্তরের সকল ভাবনার দীর্ঘশ্বাস গতির প্রগতি ধুলায় করিছে স্নান,
দুই নয়নে অযাচিত জাহ্নবী ধারায়
প্রতিপলে হয় কপোল ধারাসিক্ত
দেহভূমার শ্রদ্ধা ভক্তি বিশ্বাস কুণ্ডে প্রাণ কুন্ডলি তদাপি হয় নাই ম্লান।

যাহা চাহি নাই তাহা পাই নাই যাহা পাই নাই তাহা চাহি নাই,
স্বচ্ছ হৃদয়ে খেরোর খাতায় রাখিনাই কভু তারে করি নাই লিপিবদ্ধ
আলোছায়ার সন্ধিতে বাজিছে যে বাঁশি সপ্ত বেদনায়;তাঁহারে আমারে ভুলাইনি।

চিরবিদায়ের দিনসংখ্যা জানিয়াছি আমি বিধিরে জানায়েছি আমিও আমারে,
ধূলামাখা কত স্মৃতি রাখিয়াছি যতনে হৃদি রত্নাকরের অতল তলের আহ্বানে
স্বীয় কর্ম হইয়া জমা রহিয়াছে মম মননে অনন্ত ভান্ডের অযুত ব্রহ্মের খামারে।

অজস্র ক্ষতয়ে সুপ্ত রাখিয়াছি আমিরে
শুষ্ক কান্নার হাসিতে রুদ্ধ বিষম কাড়া,
সহিয়াছি শুনিয়াছি দেখিয়াছি কহি নাই কিছুই
আগে-পরে,ঘরে-বাইরে সমবৃত গম্ভীরে
তাই তো আমৃত্যু হয় নাই আমির কদাপি
নীলঘন বরাত গ্রহের উজ্জ্বল শুকতারা।

বাকি শুধু নির্বাক এই আনন্দঘন দৃষ্টিতে
কারণ দুঃখই যে সুখের ঘরে মহা পাওয়া,
কে-কারা কয় জনা পায় তাঁহার রাতুল কৃপার
শীতল পরশ,হৃদয়ে অখণ্ড সতীর বাহবা?
এবার সময় হইলো সাতাশ ওই নক্ষত্র কুলে
জাগতিক সম্প্রীতির কর্ম বহিয়া লইয়া যাওয়া।

শুক্রের শুক্রাণু সোহাগে দু-বাহু বাড়ায়ে
ডাকিছে সহাস্য স্নেহে;আয় বাছা খোলসে,
ছেঁড়া কথা ঝাড়িয়া ফেলিয়া নির্মাণ ভাঙিয়া আয়
নির্মাতা হ’স আজ মহাবিধির অনন্ত সাকুল্যে
দুঃখই অতিসুখ আপন আচরি বিবেচক ব্রহ্মে
আয় চিন্তন হাসিয়া খেলিয়া মৌলিস্তন ধর হরষে।

শুন্যতা কহিল;চলি হে মায়া ঝরা সময়ের
চন্দ্র-গমকের তৌলিক বোধ সাক্ষী,
শাশ্বত পৌঢ় রক্তিম পশ্চিমী সুধাধারে
অকুলীন চিত্ত মম বিসর্জিত হইবে আজ
বিদায় আসিয়া লহুক বিদায় বিদায় কালে
সপ্ত রসসুধায় একাকি আলোর বাঁশি লইয়া
জাগিবে হৃদ সলিলে ভবনদীর ময়ূরাক্ষী।

বাহির চোখের আলোয় হেরিবোনা জাগতিক
অন্তরে সেই শাশ্বত আলোয় জানায় সুকৃতি,
নিজাত সুন্দর মঞ্জরী মুক্ত সে সদাই
অম্বুসম আপন প্রবাহ পথ আপনি খোঁজে
যন্ত্রণার আবেগে প্রেম তদাপি অজেয়
স্মৃতি চিহ্ন রাখিয়া যায় পূরব নীরব আকৃতি।

প্রারব্ধ মোর পিছন পানে খেলিছে বিষম
ব্রাত্য চিন্তার দূতক্রিড়াতে ভাঙিছে পাশার ঢেলা।
চেতনার সমালোচনা নয় আজিকে হিয়ার
পথ শুধু লইবে মোর সমালচিতের যোগ্যতা
শান্তি রহুক দুঃখের মাঝে অজস্র বাহবায়
হৃদজগৎ জ্ঞান শক্তি রূপে খেলুক শেষের খেলা।

বাঁশির মালিক বাঁশি হইয়া বাজিছে শেষের স্বরে
ত্রিসূত্রে বাঁধা আবেগ সম্মান বিশ্বাস রন্দ্রে,
অচেনার তাগিদে যাওয়াই যদি হয় অধ্যাত্ম
আপন আসিবে পুনঃ শঙ্খচিল শার্লিখের বেশে
সপ্ততল নিহারি সপ্তসুর শিখারি মহা পরাক্রমে
প্রেমের প্রতীক টানিবে কাছে ব্রহ্ম কাড়া বজেন্দ্রে।

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com