Home / Breaking News / কবি মুহাম্মদ নুরুল কবির করিমী’র গদ্য কবিতাঃ চঞ্চলা নদী মাতামুহুরী (০২)

কবি মুহাম্মদ নুরুল কবির করিমী’র গদ্য কবিতাঃ চঞ্চলা নদী মাতামুহুরী (০২)

🟠 গদ্য কবিতাঃ চঞ্চলা নদী মাতামুহুরী (০২)
– মুহাম্মদ নুরুল কবির করিমী ।

আষাঢ় শ্রাবণ দিনে
দিবানিশি ঝর ঝর বরিষণে ,
চপলা চঞ্চলা নদী মাতামুহুরী
উতলা উৎপলা তব জলকেলি ,
ছাপিয়ে চলেছো দু’কূল
মাড়িয়ে পাহাড় টিলা আর সমভূমি ।

রিক্ত বদন শুন্য ভুবন
আক্ষেপ হৃদয়ে করুণ রোদন ,
গ্রীষ্মে শুকনো বক্ষে করো হাহাকার
সরাটা সময় একাকার ক্রন্দন ,
মোটেও জোটেনা আহার
নিত্য অপেক্ষা বরষা নামার ।

অঝোর ধারার বৃষ্টি
নেইতো সুযোগ বাহির হওয়ার
মনে পড়ে সে কথা
শ্রাবণ বর্ষেনা যেথা
শুণ্য মরু শুণ্য নদী বড় একা
জীর্ণ শীর্ণ দেহে মুখ থুবড়ে পড়ো
কতো অলিক-স্বপ্ন বুকে চাপিয়ে রাখো
গবাদী-পশু পক্ষীকূল মানবে
তব পিঠে পারা দিয়ে হাটে সবে ।

শ্রাবণ মেঘের দিনে
ঘন ঘন বিজলী চমকে
মেঘের মিছিল ধেয়ে আসে বনে ,
সারাক্ষণ শুধু বর্ষণ
ক্ষত বিক্ষত করে তোমার দেহ ,
লাঙ্গল কোদাল দিয়ে চাষে কেহ
কেউবা বুনে বাদাম শস্য আখের খেত ,
কেউবা রোপে তরমুজ পুঠি খড় বিছুলির পরত ।

বটমূলে নদীতটে খেয়াঘাটে
নেই কোনো মানব শুক্রবারের হাটে ,
বর্ষায় তোমার রুদ্রমূর্তি
রুধিবে সাধ্য কার !
ভাসিয়ে নাও আবাদী ফসল ক্ষেত খামার ।
ভাসাও গাছ-পালা বাঁশ-বেত্র-জুমের আনাজ পান বরজ ।
গবাদীপশু গৃহস্ত বাড়ি শ্বশান
ভাঙ্গো মন্দির মসজিদ গোরস্থান ।

বিলে-ঝিলে থৈ-থৈ জল
হংস মিথুন করে হলাহল
খালে নদে জলে ছলছল ,
ধ্বংস করো লবনের মাঠ চিংড়ির ঘের গোলাভরা ধান
কতো যাযাবরের বসতি বজরা সোপান ।

পাগলা হাওয়ার তালে
শাপলা শালুক দোলে
বর্ষণ শুধু সকাল কী বিকালে ,
আগ্রাসী প্লাবনে প্রতিশোধ হানো ছারখার পল্লী-গ্রাম ,
দানবিকা তুমি নিষ্ঠুর নির্লজ্ব কতো তোমার বদনাম ।
লোকালয় নগর তৃনভূমি করো ধ্বংস ,
তুমি রাক্ষসী ভুবুক্ষা পেত্নি নদী মাতামুহুরী নদী সহিংস ।

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com