Breaking News
Home / Breaking News / কবি- কালো ভ্রমর এর “কাঙ্গালীর ঐশ্বর্য “

কবি- কালো ভ্রমর এর “কাঙ্গালীর ঐশ্বর্য “

[[ কাঙ্গালীর ঐশ্বর্য ]] ✍️কালো ভ্রমর
৪/০৮/২১

আজ কি লিখি বলো
কথারা আজ বড়ো ক্লান্ত
মনের মধ্যে আবর্জনার মতো
জমতে থাকে বৃথা যে যার মতো,
হাসফাঁস করা হৃদপিন্ডে কেবল বস্তা পঁচা গন্ধ,
যেগুলো বলতে চেয়েছি, বলা হয়নি
যেগুলো না বললেও হতো
সেগুলো অহেতুক কথার মূলে
খামোকা ইট পাটকেল ভাঙতে ব্যস্ত,
নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে ধুলো বালি,
হাওয়ায় হাওয়ায় বেড়ে যায়
কাগুজে শরীর দূরত্ব।
কতো বার ভেবেছি কোনো কাগজ কুরুনির কাছে
বিক্রি করে দেবো সব, কিন্তু পারিনি
ভিজেছি চাপা আদ্রতায়,
ঘামে ঘামে দুর্গন্ধ!
একটু খোঁচায় ছিঁড়ে যায় বার বার,
চার দেওয়ালের সিন্দুকে রোদও
মেলে না শুকোবার।

হে ক্লান্তি! দাও এতটুকু শান্তি
নাও ফিরিয়ে অহেতুক যত ভ্রান্তি,
মিছে আশা যারা পার ছুঁতে আসে
তাদের কাছে চেয়ে নাও ক্ষণিকের ছুটি।
তালে গোলে চাবি যায় খোয়া,
কেউ কারো তালা খুলতে আসে না।
অভিমানী গান? ওসব কেউ শোনে না।
সহজ ভাষা? সেতো অল্প দরে বিক্রি হয়।
নিরুত্তাপ সাদা হাতের চেটোয় বরফ গলে না।
ভীষণ ঝড়ে বৈঠা ঢেউ কাটার আগেই ভেঙে যায়,
পারে বসে ক্লান্ত মাঝি তাও সমুদ্র দেখে যায়।
তর্কে তর্কে হাত রক্তাক্ত কবেকার,
নতুন করে যুদ্ধ ঘোষণা করবো না আর,
তবু কালো ধোঁয়ার মতো
চোখ জ্বালিয়ে দেয় বোবা কথারা।
দূর হতে যা সহজ মনে হয়েছিল
যত কাছে যাই দেখি জটিল সব অঙ্ক।
তবে থাক পরীক্ষায় আমি বসবো না,
“বিশ্বাসের ভেলায় যতটুকু ভাসা যায়,
সেটাই তো আশা!”

হে বিধাতা! যে হিসেব কষতে জানে না,
তাকেই দাও সোনার বাক্সের ভার?
এ কেমন পরিহাস তোমার!
তুমি কি কাঙ্গালী চেনো না?
মৃত মাছের গা থেকে
শীতল আশের চাকচিক্য যেদিন ঝরে যাবে,
সেদিন কেউ কি মনে রাখবে আর?
তাই তো, মরচে পড়া কাব্য হৃদয় যত্নে কুড়িয়ে
পুটুলি ভরে রাখে নুড়ি পাথর ঐশ্বর্য।
শব্দ দিয়ে গড়া সাধের মাটি ঘর দেখে
পরিহাস করে দালানের প্রতিটা ইট,
তবু একলা রাতে ছুটে ছুটে যাই ছাদে
কিনে নি বাঁকা চাঁদের হাসি,
যদি কদাচিৎ ধূমকেতু যায় উড়ে
বন্ধুত্ব পাতাই তার সাথে,
দুচোখে সাজাই নীহারিকা, দেখি
“পার্থিব ঐশ্বর্য যত চাপা পড়ে যায় ইটের দেওয়ালে
আকাশের ঐশ্বর্য ছড়িয়ে পড়ে আদিগন্ত পাড়ে।”

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com