Breaking News
Home / Breaking News / চাঁদপুরে লকডাউন সময়ে ফেরিতে শতাধিক যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস পারাপার

চাঁদপুরে লকডাউন সময়ে ফেরিতে শতাধিক যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস পারাপার

শাহরিয়ার খানঃ
চাঁদপুর হরিনা ফেরি ঘাটে ইজারাদার প্রতিনিধি মহাসিন ও বাসার মেম্বারের ব্যাপক চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে চালকরা। সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে লকডাউনের দোহাই দিয়ে মাইক্রো ও হাইস গাড়ি থেকে গাড়ি প্রতি ৩/৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কোভিট ১৯ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দ্বিতীয় ধাপে দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার সারা বাংলাদেশে লকডাউন ঘোষণা করেন। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সকল ধরনের যাত্রীবাহী বাস মাইক্রোবাস ব্যক্তিগত গাড়ি মুভমেন্ট পাস ছাড়া এক জেলা থেকে অন্য জেলায় চলাচল করতে পারবে না।

চাঁদপুরে করণা আক্রান্ত হয়ে এ যাবতকালে অনেক মানুষের জীবন গেছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার সারা বাংলাদেশে লকডাউন ঘোষণা করেন। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সকল ধরনের যাত্রীবাহী বাস মাইক্রোবাস ব্যক্তিগত গাড়ি মুভমেন্ট পাস ছাড়া এক জেলা থেকে অন্য জেলায় চলাচল করতে পারবে না। বাংলাদেশের প্রতিটি ফেরিঘাটে নির্দেশনা দেওয়া থাকলেও চাঁদপুর হরিনা ফেরিঘাটের টিকেট মাস্টার ও ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি মহসিন ও বাসার মেম্বারের যোগসাজশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রতি রাতে প্রায় শতাধিক যাত্রীবাহী মাইক্রো, হাইস গাড়ি ও ব্যক্তিগত গাড়ি মুভমেন্ট পাস ছাড়া পারাপার হচ্ছে।
হরিনা ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি মেম্বার বাসার ও মহসিন প্রতিরাতে ব্যাপক চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রীবাহী মাইক্রো ও হাইস গাড়ি পারাপারের জন্য গাড়ি ও প্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতিদিন রাতে এই বিতর্কিত ইজারাদারের এই দুই প্রতিনিধি মহসিন ও বাসার মেম্বার কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী চালকরা।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে প্রায় শতাধিক মাইক্রো ও হাইস গাড়ি যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম বরিশালের উদ্দেশ্যে চাঁদপুর হরিনা ফেরিঘাট হয়ে যায়। হরিনা আসার পরে ওই ২ চাঁদাবাজ গাড়ি থেকে চাঁদা তুলতে ব্যস্ত হয়ে উঠে।
এক জেলা থেকে অন্য জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী হরিনা ফেরিঘাট দিয়ে যাতায়াত করার কারণে চাঁদপুরে করোনা ভাইরাসে অনেক লোক আক্রান্ত হচ্ছে।

মাইক্রোবাস চালক মহিউদ্দিন ও শাহজাহান সহ বেশ কয়েকজন জানান, লকডাউন চলাকালীন সময়ে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকার কারণে বিকল্প হিসেবে মাইক্রো ও হাইস গাড়ি দিয়ে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। হরিনা ফেরি ঘাটে আসলেই ইজারাদার প্রতিনিধি মহসিন ও বাশার আমাদের কাছ থেকে তিন থেকে চার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি গাড়ি থেকে ১২০ টাকা নেওয়ার কথা রয়েছে সেখানে তারা এভাবেই হাজার হাজার টাকা চাঁদাবাজি করছে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, লকডাউন ঘোষণা করার পর থেকে যাত্রীবাহী বাস বন্ধ থাকার কারণে হাইস গাড়িতে জনপ্রতি তিন হাজার টাকা করে ১৮ জন যাত্রীর কাছ থেকে ৫৪ হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে বরিশাল ও খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মুভমেন্ট পাস না থাকলেও হরিনা ফেরিঘাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি ও টিকেট মাস্টারকে গাড়ি প্রতি তিন হাজার টাকা করে দিলে তারা ফেরি দিয়ে পারাপার করে দেয়।

হরিনা ফেরি ঘাটে জেলা পুলিশের চেক পোস্ট বসিয়ে বহিরাগত যাত্রীবাহী গাড়িগুলো ফেরি ঘাট দিয়ে পারাপার করতে না দেওয়া হলে চাঁদপুর থেকে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইজারাদার প্রতিনিধি মহাসিন জানান, আমাদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় লিখলেও কিছু হবে না। প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে প্রচার করেন তার পরেও কোন কিছুই করতে পারবেন না। কোটি টাকা দিয়ে ইজারা এনেছি আমাদের কথামত সবই হবে কোন গাড়ি যাবে আর যাবেনা সেটা আমাদের ইচ্ছা।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার ফয়সাল জানান, মুভমেন্ট পাস ছাড়া কোন যাত্রীবাহী গাড়ি ফেরি পারাপার করার সুযোগ নেই। যে সকল গাড়ির মুভমেন্ট পাস নেই সেগুলো পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরি পারাপার করা হয়। রাতে মুভমেন্ট পাস ছাড়া গাড়ি পারাপার হওয়ার বিষয়টি জানা নেই তবে রাতে নজরদারি বাড়িয়ে দেওয়া হবে যাতে করে যাত্রীবাহী কোনো গাড়ি পারাপার হতে না পারে।

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com