Breaking News
Home / Breaking News / পৌরবাসীর আমানতের খেয়ানত করিনি, পুনরায় সুযোগ পেলে চাঁদপুরকে স্বপ্নের মতো করে গড়বো ..মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ

পৌরবাসীর আমানতের খেয়ানত করিনি, পুনরায় সুযোগ পেলে চাঁদপুরকে স্বপ্নের মতো করে গড়বো ..মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
‘একশো তেইশ বছরের চাঁদপুর পৌরসভার ১৩তম পরিষদের বর্তমান মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও যোগ্যতায় এখনো চাঁদপুর পৌরবাসীর কাছে নন্দিত হয়ে আছেন। ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে আছেন, কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব বা অপব্যবহার কখনো করেন নি। কোনো মানুষ তাঁর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পৌর মেয়রের পাশাপাশি তিনি ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চাঁদপুর জেলা সভাপতি। অথচ তাঁর মধ্যে সেই অহঙ্কার বা গরিমা নেই। এর চেয়ে আর বেশি কী পাওয়ার আছে আমাদের? তাই তো আমরা তাঁকে নিয়ে গর্ববোধ করি’।
চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বেশ ক’জন প্রতিনিধির সাথে পৌর নির্বাচন নিয়ে কথা হলে এভাবেই তারা মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন।
চাঁদপুর পৌরসভার বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে ৩০ এপ্রিল ২০২০ সালে। এর আগে নব্বই দিনের মধ্যে অথবা নব্বই দিন পূর্বে নির্বাচন করতে হবে। সে হিসেবে ফেব্রুয়ারি কি মার্চে নির্বাচন হবে এমনটাই ধারণা করা যাচ্ছে। আর এ সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই মেয়র পদে সরকারি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে বেশ সরব। তবে ব্যতিক্রম বর্তমান মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদের ক্ষেত্রে। তিনি নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো মাতামাতি করছেন না। তিনি স্বাভাবিক গতিতে নিজের পরিষদকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকটা চিন্তামুক্ত ভাবলেশহীন। আর এ কারণেই অনেকে সন্দিহান আসন্ন নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না। তাঁর নিজ দলেরও কেউ কেউ এ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন।
দু-চারটি কথায় তিনি সকল সন্দেহকে দূরীভূত করে দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি আবারো এ পৌরবাসীর সেবা করার জন্যে দলের মনোনয়ন চাইবেন। দলের মনোনয়ন বোর্ড যদি তাঁকে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে পুনরায় মনোনয়ন দেয়, তাহলে তিনি জনগণের কাছে শেখ হাসিনার সালাম নিয়ে যাবেন, নৌকা মার্কায় ভোট চাইবেন। আর জনগণ যদি তাঁকে সে সুযোগ দেয়, তাহলে তিনি টানা চতুর্থ মেয়াদের মতো এ পৌরবাসীর সেবা করতে চান। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, জনগণ আমাকে পর পর দুইবার তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তাদের ভোটে আমি প্রথমে চেয়ারম্যান পরে মেয়র নির্বাচিত হই। প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর পৌরসভার সীমানা বৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা কারণে প্রথম মেয়াদের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পরও নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধানের কারণে তখন নির্বাচন হয়নি। ফলে আমার প্রথম নির্বাচনেই দুই মেয়াদের সমপরিমাণ সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। এরপর ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে দল থেকে পুনরায় আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এবারো চাঁদপুর পৌরবাসী আমাকে বঞ্চিত করে নি। বিপুল ভোটে আমাকে পুনরায় মেয়র পদে নির্বাচিত করেছে। তাই টানা চৌদ্দ বছর আমি চাঁদপুর পৌরবাসীর খেদমতে আছি। এর মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভার আয়তন নয় বর্গকিলোমিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২২ বর্গকিলোমিটার হয়েছে। এ পৌরসভার মর্যাদা এখন আকাশছোঁয়া। এটি এখন বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির মডেল পৌরসভা। এ পৌরসভায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। শতোর্ধ্ব বয়সের এ পৌরসভায় শহরে হাঁটার জন্যে কোনো ফুটপাত ছিলো না। মানুষ রাস্তায় হেঁটে চলতে পারতো না। রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটতে নিলে দুর্ঘটনার শিকার হতো। বেশ কিছু পাড়া-মহল্লায় অ্যাম্বুলেন্স ঢুকারও কোনো পথ ছিলো না। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি এখন এ কাজটি করছি। শহরে সড়কের দু’পাশে হেঁটে চলার জন্যে ফুটপাত তৈরি করছি এবং পাড়া-মহল্লার ভেতরের রাস্তা প্রশস্ত করছি। এতে অনেকের দোকানপাট ও বাসা-বাড়ির অংশ ভাঙ্গা পড়লেও তাতে জনগণ খুশি এবং যারা সাময়িক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অর্থাৎ যাদের দোকান ও বাসা-বাড়ির অংশ ভাঙ্গা পড়েছে তাদেরও তেমন কোনো অভিযোগ নেই। তার কারণ হচ্ছে, এর দ্বারা সকলেই উপকৃত হচ্ছে। আমি পৌর প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় চাঁদপুর পৌরসভা বাংলাদেশে ইতিমধ্যে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ কথা আমি সৎ সাহস নিয়ে দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারি, আমি এ পৌরবাসীর আমানতের খেয়ানত করি নি। সম্মানিত পৌর নাগরিকদের অসম্মান হয় বা মাথা নিচু হয়েছে এমন কোনো কাজ আমি করি নি তা হলফ করে বলতে পারবো। তাই সম্মানিত পৌরবাসীর সেবা করে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চাই। পুনরায় চাঁদপুর পৌরসভায় মেয়র হবার সুযোগ পেলে চাঁদপুরকে স্বপ্নের মতো করে গড়বো। তবে মেয়র হই বা না হই কিংবা মেয়র থাকি বা না থাকি আমৃত্যু এ পৌরবাসীর সেবা করে যাবো।

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com