Home / Breaking News / বিশ্বকাপ জয়: শামীম ও জয়ের কৃতিত্বে আনন্দে ভাসছে চাঁদপুর

বিশ্বকাপ জয়: শামীম ও জয়ের কৃতিত্বে আনন্দে ভাসছে চাঁদপুর

ষ্টাফ রির্পোটারঃ
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে অংশ নেওয়া শামীম পাটোয়ারী ও মাহমুদুল হাসান জয়ের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায়। শামীমের বাড়ি উপজেলার ধানুয়ায় ও মাহমুদুলের বাড়ি রামপুর এলাকায়।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ে চাঁদপুর থেকে অংশ নেওয়া শামীম ও মাহমুদুলের জন্য পুরো চাঁদপুর জুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।
তাদের বাবা-মা, ভাই ছাড়াও আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, ক্লেমন চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমির কোচ ও শিক্ষানবিশ ক্রিকেটারবৃন্দ এবং চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার লোকজন খুশিতে আত্মহারা। এখন অপেক্ষায় আছে কখন এই কৃতি ক্রিকেটারদ্বয় চাঁদপুর আসবেন। তাদের এই জয়ে চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জে পৃথক সংবর্ধনাসহ নানা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
ক্লেমন চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমির কোচ শামীম ফারুকী বলেন, ১৪ জনের দলে আমার দু’ছাত্র শামীম পাটোয়ারী ও মাহমুদুল হাসান জয় অংশ নেওয়ায় আমি অত্যন্ত খুশি। আমি আশাবাদী আগামীতে তারা জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন এবং চাঁদপুর তথা দেশের ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, শামীম পাটোয়ারী অসাধারণ মেধাবী এবং মাহমুদুল হাসান জয় দারুন পরিশ্রমী খেলোয়াড়। তারা আমার কাছে স্কুলে পড়াকালে দুই বছর প্রশিক্ষণ নেন। পরে তারা বিকেএসপিতে সুযোগ পান।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া আঃ রহমান পাটোয়ারী বাড়ির ছেলে শামীম পাটোয়ারী। তার বাবা আব্দুল হামিদ পাটোয়ারী এক সময় ঠিকাদারী করতেন। এখন বয়সের কারণে বাড়িতেই থাকেন বেশির ভাগ সময়।
গত রোববার রাতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলায় ছেলে অংশ নেয়ায় পুরো খেলাটি দেখেন। চোখের কোণে খুশির পানি নিয়ে তিনি বলেন, আমি আজ খুবই খুশি। কারণ ছেলেকে স্কুলে পাঠাতাম। কিন্তু সে স্কুলে না গিয়ে শুধু খেলাধুলার জন্য এদিক-সেদিক চলে যেতো। আজ বুঝতে পারলাম সে গিয়ে ভালোই করেছে। আমাদের সম্মান বাড়িয়ে দিয়েছে।
শামীমের মা রিনা বেগম বলেন, আমি ছেলের খেলা দেখে শুধু দোয়া করেছি। সে এবং তার দল যেন জয়লাভ করতে পারে।
ধানুয়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শামীম গাজী বলেন, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ অংশ নেয়ায় শামীম পাটোয়ারী পড়ালেখার চেয়ে আমাদের স্কুলে সব ধরনের খেলায় অংশ নিয়ে থাকতো। আমরাও তাকে খেলাধুলায় সব সময় আগ্রহ দেখিয়েছি। আর এখন সে দেশের ও আমাদের মর্যাদা রেখেছে। পরিবারের পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে শামীম সবার ছোট।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার রামপুর বাজার সংলগ্ন মাহমুদুল হাসান জয়ের বাড়ি। তার বাবা আব্দুল বারেক চাঁদপুর পূবালী ব্যাংক নতুন বাজার শাখার সিনিয়র অফিসার। তার তিন ছেলের মধ্যে মাহমুদুল দ্বিতীয়।
মাহমুদুলের বাবা বলেন, সে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় খেলাধুলায় খুব বেশি আগ্রহ দেখতাম। প্রতিটি খেলায় প্রথম পুরস্কার নিয়ে আসতো। যখন দেখলাম ক্রিকেটে খুব ভাল করছে তখন তাকে চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করে দেই। তখন তাকে আর তার মাকে শহরে একটি বাসা ভাড়া করে রাখি।
টানা দুই বছর সেখানে কোচ শামীম ফারুকীর কাছে প্রশিক্ষণ শেষে তার এক চাচা সেনা বাহিনীর অফিসার তাকে বিকেএসপিতে নিয়ে ভর্তি করায়। আজকে সে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে অংশ নিয়ে সবার মান রক্ষা করেছে। আমরা এ জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আগামীতে সে যেন আরও ভাল করতে পারে এই দোয়া কামনা করছি।
মাহমুদুলের মা হাসিনা বেগম বলেন, আমি সবার কাছে অনুরোধ করবো আমার ছেলে যেন জাতীয় দলে যেতে পারে। সাকিব আল হাসানের মতো খেলে দেশের সম্মান রক্ষা করতে পারে এ জন্য সবাই দোয়া করবেন।
চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান নাগরিক বার্তাকে জানান, আমরা চাঁদপুরের কৃতি দুই ক্রিকেটারের আসার অপেক্ষায় আছি। তারা আসলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com